গণমানুষের মুক্তি ও বিপ্লবী সংস্কৃতির অবিচল প্রাণপুরুষ কামরুদ্দিন আবসার

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ছাত্র রাজনীতির উত্তাল সময় থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে গণমানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত ছিলেন বরেণ্য শিল্পী ও সংগঠক কামরুদ্দিন আবসার। সোমবার (১ জুন) সকালে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন। জোনায়েদ সাকি বলেন, কামরুদ্দিন আবসার কেবল একজন শিল্পীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, গণসংগীত শিল্পী এবং একনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক কর্মী। কামরুদ্দিন আবসারের পরিচিতি মূলত ছাত্র ফেডারেশনের রাজনৈতিক আবহে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে। ছাত্রাবস্থাতেই তিনি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গভীর ও দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বড় ভাইয়ের মতো স্নেহে তাদের আগলে রাখতেন। মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত অসাধারণ ও হৃদয়বান। তার সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তারা তাকে ভালোবাসতে বাধ্য হয়েছেন। তার শিল্পচর্চার শুরু হয়েছিল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। চলচ্চিত্র নির্মাণে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ এবং একজন বিশেষ সহকারী পরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সব দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে পরবর্তীকালে তিনি ‘গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোট’ ও ‘বাংলাদেশ লেখক শিব

গণমানুষের মুক্তি ও বিপ্লবী সংস্কৃতির অবিচল প্রাণপুরুষ কামরুদ্দিন আবসার

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ছাত্র রাজনীতির উত্তাল সময় থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে গণমানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত ছিলেন বরেণ্য শিল্পী ও সংগঠক কামরুদ্দিন আবসার।

সোমবার (১ জুন) সকালে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, কামরুদ্দিন আবসার কেবল একজন শিল্পীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, গণসংগীত শিল্পী এবং একনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক কর্মী।

কামরুদ্দিন আবসারের পরিচিতি মূলত ছাত্র ফেডারেশনের রাজনৈতিক আবহে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে। ছাত্রাবস্থাতেই তিনি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গভীর ও দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বড় ভাইয়ের মতো স্নেহে তাদের আগলে রাখতেন। মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত অসাধারণ ও হৃদয়বান। তার সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তারা তাকে ভালোবাসতে বাধ্য হয়েছেন।

তার শিল্পচর্চার শুরু হয়েছিল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। চলচ্চিত্র নির্মাণে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ এবং একজন বিশেষ সহকারী পরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সব দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে পরবর্তীকালে তিনি ‘গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোট’ ও ‘বাংলাদেশ লেখক শিবির’-এর রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত হলে তার মধ্যে গণসংগীতের প্রতি প্রবল আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি হয়।

গণমানুষের মুক্তি ও বিপ্লবী সংস্কৃতির অবিচল প্রাণপুরুষ কামরুদ্দিন আবসার

কামরুদ্দিন আবসার বিশ্বাস করতেন, গণসংগীত হওয়া উচিত সত্যিকার অর্থেই গণমানুষের সংগীত। তার মতে, যে গান মানুষের সংগ্রাম, দুঃখ-বেদনা, এমনকি আনন্দকেও প্রকাশ করবে এবং গণমানুষের স্বার্থ ও জীবনের প্রতিনিধিত্ব করবে, তাই প্রকৃত গণসংগীত। এই সাংস্কৃতিক বিনির্মাণ নিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত ভাবনা-চিন্তা ও তর্ক-বিতর্ক করতেন।

সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও চিন্তার বিকাশ ঘটানো ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে তিনি নিজে গুরুত্বপূর্ণ বই সংগ্রহ করতেন এবং সাধারণ পাঠকরা যাতে তা স্বল্প মূল্যে পেতে পারে, তার ব্যবস্থাও করতেন।

শারীরিক অসুস্থতাও কামরুদ্দিন আবসারকে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত, যতক্ষণ তার মস্তিষ্ক সচল ছিল, তিনি রাজনীতির খোঁজখবর রেখেছেন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। সমষ্টিগত মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে নিজের ভূমিকা রাখার এই নিরলস চেষ্টা তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, এক অসাধারণ কর্মীবান্ধব ও নিবেদিতপ্রাণ এই মানুষটির প্রতি আজ সকল স্তরের মানুষ গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। কামরুদ্দিন আবসার তার কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে এদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

আব্দুল্লাহ আল কাউছার/এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow