গরমে শিশুর ত্বকের যত্নে কার্যকর ঘরোয়া উপায়

গরমে শিশুর শরীরে ঘামাচি হওয়া খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ত্বক অনেক বেশি কোমল ও সংবেদনশীল হওয়ায় সামান্য ঘাম বা তাপমাত্রার পরিবর্তনেই তাদের ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি বা হিট র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। তাই এই সময়ে বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। অনেক অভিভাবকই মনে করেন বাজারে পাওয়া ক্রিম বা পাউডার ব্যবহার করলেই ঘামাচি কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে এসব পণ্য অনেক সময় শিশুর ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দিয়ে সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট শিশুর নরম ত্বকের জন্য সবসময় নিরাপদ নয়। তাই ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপাদানের দিকে ঝুঁকলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তাই গরমে শিশুর ত্বক সুস্থ রাখতে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় নিচে দেওয়া হলো- মুলতানি মাটি দিয়ে ঠান্ডা প্রলেপ মুলতানি মাটি ত্বকের অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে এবং ঘামাচির জ্বালা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। এটি ব্যবহার করতে মুলতানি মাটির সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। ঘামাচি হওয়া স্থানে হালকা করে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখুন। এরপর নরম ভেজা কাপড় দিয়ে আলতোভাবে মুছে ফেলুন। এটি ত্বককে ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখতে সাহায্য করে। চন্দন

গরমে শিশুর ত্বকের যত্নে কার্যকর ঘরোয়া উপায়

গরমে শিশুর শরীরে ঘামাচি হওয়া খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ত্বক অনেক বেশি কোমল ও সংবেদনশীল হওয়ায় সামান্য ঘাম বা তাপমাত্রার পরিবর্তনেই তাদের ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি বা হিট র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। তাই এই সময়ে বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।

অনেক অভিভাবকই মনে করেন বাজারে পাওয়া ক্রিম বা পাউডার ব্যবহার করলেই ঘামাচি কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে এসব পণ্য অনেক সময় শিশুর ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দিয়ে সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট শিশুর নরম ত্বকের জন্য সবসময় নিরাপদ নয়। তাই ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপাদানের দিকে ঝুঁকলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তাই গরমে শিশুর ত্বক সুস্থ রাখতে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় নিচে দেওয়া হলো-

মুলতানি মাটি দিয়ে ঠান্ডা প্রলেপ

মুলতানি মাটি ত্বকের অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে এবং ঘামাচির জ্বালা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। এটি ব্যবহার করতে মুলতানি মাটির সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। ঘামাচি হওয়া স্থানে হালকা করে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখুন। এরপর নরম ভেজা কাপড় দিয়ে আলতোভাবে মুছে ফেলুন। এটি ত্বককে ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখতে সাহায্য করে।

চন্দন ও মধুর মিশ্রণ

চন্দন ত্বকের জ্বালা কমাতে এবং ঠান্ডা অনুভূতি দিতে খুবই কার্যকর। এর সঙ্গে মধু মিশালে এটি আরও উপকারী হয়ে ওঠে। চন্দন গুঁড়ো বা বাটা চন্দনের সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে পাতলা পেস্ট তৈরি করুন, এরপর এক চামচ মধু যোগ করুন। এই মিশ্রণ ঘামাচি হওয়া জায়গায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবেও কাজ করে।

আরও পড়ুন: 

নিম ও তুলসির প্রাকৃতিক ব্যবহার

নিম ও তুলসি দুটোই জীবাণুনাশক হিসেবে পরিচিত। কিছু নিম পাতা ও তুলসি পাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে সেই পানি শিশুর স্নানের পানির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। চাইলে পাতাগুলো বেটে রস বের করে সরাসরি ঘামাচির জায়গায় ১০–১৫ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলাও যেতে পারে। এতে চুলকানি ও প্রদাহ কমে।

বেসন, হলুদ ও টমেটোর মিশ্রণ

বেসন ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, হলুদ প্রদাহ কমায় এবং টমেটো ত্বক ঠান্ডা রাখে। এক চা চামচ বেসনের সঙ্গে সামান্য হলুদ গুঁড়ো ও টমেটোর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এটি শিশুর আক্রান্ত স্থানে হালকা হাতে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। তবে বেশি সময় রাখা ঠিক নয়, কারণ বেসন শুকিয়ে গেলে ত্বক টানটান লাগতে পারে।

তরমুজ ও চালের গুঁড়োর ঠান্ডা প্যাক

গরমে ত্বক ঠান্ডা রাখতে তরমুজ খুবই কার্যকর। এতে প্রচুর পানি থাকে যা ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে। অন্যদিকে চালের গুঁড়ো অতিরিক্ত ঘাম শোষণ করে। তরমুজের লাল অংশ নিয়ে বীজ ফেলে দিয়ে এর সঙ্গে এক চামচ চালের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ ঘামাচি হওয়া জায়গায় লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকে আরাম দেয় এবং ঘামাচির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

শিশুর ত্বক অত্যন্ত নরম হওয়ায় গরমে অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া জরুরি। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, হালকা ও বাতাস চলাচল করে এমন পোশাক পরানো এবং রাসায়নিকযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঘরোয়া এই সহজ উপায়গুলো ব্যবহার করলে ঘামাচির সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক, মেডলাইনপ্লাস

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow