গরমে হাঁসফাঁস রাজধানী, স্বস্তি খুঁজছে কোরবানির গরুও

কোরবানির ঈদ সামনে এলেই রাজধানী ঢাকার চেহারা বদলে যায়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ট্রাকভর্তি গরু ঢোকে শহরে। হাটে হাটে বাড়ে মানুষের ভিড়, দরদাম, হাঁকডাক আর ব্যস্ততা। কিন্তু এ ব্যস্ততার মাঝেই নীরবে কষ্ট বাড়ছে আরেক পক্ষের, কোরবানির জন্য আনা গরুগুলোর। তীব্র গরমে যখন মানুষই হাঁসফাঁস করছে, তখন দিনের পর দিন ট্রাকে করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া গরুগুলোর অবস্থা আরও করুণ। ক্লান্ত শরীর, প্রচণ্ড গরম আর অস্বস্তিতে অনেক গরুই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট এলাকায় দেখা গেছে এক ভিন্ন দৃশ্য-বুড়িগঙ্গা নদীর পানিতে গরু নামিয়ে গোসল করাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা। গরমে কাহিল হয়ে পড়া পশুগুলোর জন্য এ যেন সাময়িক স্বস্তির নিঃশ্বাস। কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী কিংবা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু নিয়ে ঢাকায় আসছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক সময় ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ট্রাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় পশুগুলোকে। রাস্তায় যানজট থাকলে সেই সময় আরও বেড়ে যায়। ঢাকায় পৌঁছানোর পরও বিশ্রামের সুযোগ কম। হাটে জায়গা নেওয়া, গরু নামানো, খাবার পানির ব্যবস্থা-সবকিছু মিলিয়ে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ। এর মধ্যেই তীব্র রোদ আর গরমে

গরমে হাঁসফাঁস রাজধানী, স্বস্তি খুঁজছে কোরবানির গরুও

কোরবানির ঈদ সামনে এলেই রাজধানী ঢাকার চেহারা বদলে যায়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ট্রাকভর্তি গরু ঢোকে শহরে। হাটে হাটে বাড়ে মানুষের ভিড়, দরদাম, হাঁকডাক আর ব্যস্ততা। কিন্তু এ ব্যস্ততার মাঝেই নীরবে কষ্ট বাড়ছে আরেক পক্ষের, কোরবানির জন্য আনা গরুগুলোর।

গরমে হাঁসফাঁস রাজধানী, স্বস্তি খুঁজছে কোরবানির গরুওতীব্র গরমে যখন মানুষই হাঁসফাঁস করছে, তখন দিনের পর দিন ট্রাকে করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া গরুগুলোর অবস্থা আরও করুণ। ক্লান্ত শরীর, প্রচণ্ড গরম আর অস্বস্তিতে অনেক গরুই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

গরমে হাঁসফাঁস রাজধানী, স্বস্তি খুঁজছে কোরবানির গরুওএমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট এলাকায় দেখা গেছে এক ভিন্ন দৃশ্য-বুড়িগঙ্গা নদীর পানিতে গরু নামিয়ে গোসল করাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা। গরমে কাহিল হয়ে পড়া পশুগুলোর জন্য এ যেন সাময়িক স্বস্তির নিঃশ্বাস।

গরমে হাঁসফাঁস রাজধানী, স্বস্তি খুঁজছে কোরবানির গরুওকুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী কিংবা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু নিয়ে ঢাকায় আসছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক সময় ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ট্রাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় পশুগুলোকে। রাস্তায় যানজট থাকলে সেই সময় আরও বেড়ে যায়। ঢাকায় পৌঁছানোর পরও বিশ্রামের সুযোগ কম। হাটে জায়গা নেওয়া, গরু নামানো, খাবার পানির ব্যবস্থা-সবকিছু মিলিয়ে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ। এর মধ্যেই তীব্র রোদ আর গরমে গরুগুলোর শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।

পোস্তগোলা এলাকায় গরু গোসল করাতে আসা এক ব্যবসায়ী বলছিলেন, গরুগুলো অনেক দূর থেকে আসে। ট্রাকে গরমে কষ্ট হয়। ঢাকায় এসে আবার গরম। তাই নদীতে নামালে একটু আরাম পায়।

গরমে হাঁসফাঁস রাজধানী, স্বস্তি খুঁজছে কোরবানির গরুওবুড়িগঙ্গা নদী এখন আর আগের মতো পরিষ্কার নেই। তবু এই গরমে নদীর পানিই যেন গরুগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তির জায়গা হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা দড়ি ধরে একে একে গরুগুলোকে পানিতে নামাচ্ছেন। কেউ শরীরে পানি ঢালছেন, কেউ হাত দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করছেন।

গরমে হাঁসফাঁস রাজধানী, স্বস্তি খুঁজছে কোরবানির গরুওগরুগুলোর আচরণেও যেন স্বস্তির ছাপ। কেউ পানিতে দাঁড়িয়ে শান্ত হয়ে যাচ্ছে, কেউ ধীরে ধীরে সাঁতরে একটু এগিয়ে যাচ্ছে। নদীর ঘোলা পানিও এ মুহূর্তে তাদের কাছে যেন শীতল আশ্রয়।

গরমে হাঁসফাঁস রাজধানী, স্বস্তি খুঁজছে কোরবানির গরুওবাংলাদেশে গত কয়েক বছরে তাপমাত্রা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর এলাকায় কংক্রিটের তাপ, যানবাহনের ধোঁয়া ও কমে যাওয়া সবুজের কারণে গরমের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হয়। এই পরিস্থিতিতে পশুরাও হিট স্ট্রেসে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে গরুর মতো বড় প্রাণী দীর্ঘ সময় গরমে থাকলে তাদের শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা, খাওয়ায় অনীহা এমনকি অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।

প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির পশুকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি, ছায়াযুক্ত জায়গা এবং নিয়মিত শরীর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা জরুরি। শুধু খাবার দিলেই হবে না, পশুর আরাম ও স্বাস্থ্যের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

গরমে হাঁসফাঁস রাজধানী, স্বস্তি খুঁজছে কোরবানির গরুওআগের তুলনায় এখন অনেক খামারি পশুর যত্নে বেশি সচেতন। কেউ ট্রাকে করে পানি বহন করছেন, কেউ ভেজা বস্তা দিয়ে গরুর শরীর ঢেকে রাখছেন। আবার কেউ সুযোগ পেলেই গোসল করাচ্ছেন। পশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা ধর্মীয় ও মানবিক-দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোরবানির মূল শিক্ষা শুধু ত্যাগ নয়, সহমর্মিতাও।

গরমে হাঁসফাঁস রাজধানী, স্বস্তি খুঁজছে কোরবানির গরুওঈদের আগে রাজধানীর হাটগুলোতে মানুষ গরুর দাম, ওজন আর জাত নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু খুব কম মানুষই ভাবেন, এই পশুগুলো কতটা কষ্ট সহ্য করে শহরে পৌঁছায়। পোস্তগোলার ঘাটে বুড়িগঙ্গার পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা ক্লান্ত গরুগুলো যেন সেই নীরব গল্পই বলে-গরমে মানুষের মতো তারাও হাঁপিয়ে ওঠে, তারাও একটু স্বস্তি চায়। আর সেই স্বস্তির খোঁজেই হয়তো কোরবানির ঈদের ব্যস্ত নগরীতে এক টুকরো নদী হয়ে ওঠে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়।

জেএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow