গাজীপুরে একসঙ্গে চাকরি হারালেন ১৮০০ শ্রমিক
আর্থিক সংকট ও দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক জটিলতার কারণে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কারখানা দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক একযোগে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হারিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ, হতাশা ও অনিশ্চয়তা। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে কারখানার শ্রমিক বিল্লাল সোহাগ জানান, শেরপুর থেকে পরিবার নিয়ে গাজীপুরে বসবাস করে তিনি এই কারখানার আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। হঠাৎ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়েছি। তার পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া এখন কঠিন হয়ে যাবে। স্ত্রী অসুস্থ। সামনে কী করব বুঝতে পারছি না। শুনেছি আগামী ২৭ জুলাই সব পাওনা পরিশোধ করা হবে, কিন্তু আদৌ পাব কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।’ গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান জানান, আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান দুটি স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৬ জুন থেকেই উৎপাদন কার্যক্রম বন্
আর্থিক সংকট ও দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক জটিলতার কারণে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কারখানা দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক একযোগে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হারিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ, হতাশা ও অনিশ্চয়তা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে কারখানার শ্রমিক বিল্লাল সোহাগ জানান, শেরপুর থেকে পরিবার নিয়ে গাজীপুরে বসবাস করে তিনি এই কারখানার আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। হঠাৎ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ছেলেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়েছি। তার পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া এখন কঠিন হয়ে যাবে। স্ত্রী অসুস্থ। সামনে কী করব বুঝতে পারছি না। শুনেছি আগামী ২৭ জুলাই সব পাওনা পরিশোধ করা হবে, কিন্তু আদৌ পাব কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।’
গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান জানান, আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান দুটি স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৬ জুন থেকেই উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট ও অন্যান্য আইনানুগ পাওনা পরিশোধের লক্ষ্যে গত ২১ জুন গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।
বৈঠকে শিল্প পুলিশ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ), শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ আহমেদ, বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের অবশিষ্ট ১৫ দিনের এবং মে মাসের ১৮ দিনের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতনও পরিশোধের আওতায় থাকবে।
এছাড়া চাকরি অবসানের কারণে শ্রমিকদের ৩০ দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ নোটিশ পে হিসেবে প্রদান করা হবে। চাকরির প্রতি বছরের জন্য ২০ দিনের মূল বেতন হারে সার্ভিস বেনিফিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রমাণ সাপেক্ষে মাতৃত্বকালীন সুবিধা, অর্জিত ছুটির অর্থ, পদত্যাগকারী শ্রমিকদের রিজাইন বেনিফিট এবং বিভিন্ন তহবিলে জমাকৃত অর্থও পরিশোধ করা হবে।
চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২৭ জুলাই শ্রমিকদের সব পাওনা একযোগে পরিশোধ করার কথা রয়েছে। তবে এই সমঝোতা চুক্তিকে শ্রমিকবান্ধব নয় বলে দাবি করেছেন শ্রমিক নেতারা।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম বলেন, ‘ঈদের আগে বেতন-ভাতা ও বোনাস নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়। কিন্তু পরে মালিকপক্ষ কারখানা চালু না করে স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে শত শত শ্রমিক হঠাৎ বেকার হয়ে পড়েছেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, ২১ জুনের চুক্তিতে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত হয়নি। ফলে অনেক শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
কারখানা বন্ধের ঘটনায় কর্মহীন শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুত পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
What's Your Reaction?