গাড়িতে চড়লেই বমিভাব? রইলো সহজ সমাধান

গাড়ি বা বাসে উঠলেই অনেকের মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ঘাম কিংবা অস্বস্তি শুরু হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় মোশন সিকনেস। সাধারণত চোখ, কান ও মস্তিষ্কের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হলে এমনটি ঘটে। চলন্ত গাড়িতে শরীর এক ধরনের সংকেত পেলেও চোখ অন্য অভিজ্ঞতা পায়। এই অসামঞ্জস্যের কারণেই বমি ভাব বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে এই অস্বস্তি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। ভ্রমণের আগে খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। একেবারে খালি পেটে যাত্রা করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অতিরিক্ত খাবার খেয়েও রওনা দেওয়া উচিত নয়। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার যেমন- কলা, বিস্কুট বা অল্প ভাত খাওয়া ভালো। বেশি তেল, ঝাল কিংবা ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো বমি ভাব বাড়িয়ে দিতে পারে। বাসে বা গাড়িতে কোথায় বসছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত সামনের দিকের সিটে ঝাঁকুনি তুলনামূলক কম অনুভূত হয়। তাই সম্ভব হলে সামনে বসার চেষ্টা করুন। জানালার পাশে বসলে বাইরের দৃশ্য দেখা যায়, যা মস্তিষ্ককে চলাচলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। বিপরীতে, পেছনের সিটে বেশি দুলুনি অনুভূত হওয়ায় অস্বস্তি

গাড়িতে চড়লেই বমিভাব? রইলো সহজ সমাধান

গাড়ি বা বাসে উঠলেই অনেকের মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ঘাম কিংবা অস্বস্তি শুরু হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় মোশন সিকনেস। সাধারণত চোখ, কান ও মস্তিষ্কের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হলে এমনটি ঘটে।

চলন্ত গাড়িতে শরীর এক ধরনের সংকেত পেলেও চোখ অন্য অভিজ্ঞতা পায়। এই অসামঞ্জস্যের কারণেই বমি ভাব বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে এই অস্বস্তি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

ভ্রমণের আগে খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। একেবারে খালি পেটে যাত্রা করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অতিরিক্ত খাবার খেয়েও রওনা দেওয়া উচিত নয়। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার যেমন- কলা, বিস্কুট বা অল্প ভাত খাওয়া ভালো। বেশি তেল, ঝাল কিংবা ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো বমি ভাব বাড়িয়ে দিতে পারে।

বাসে বা গাড়িতে কোথায় বসছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত সামনের দিকের সিটে ঝাঁকুনি তুলনামূলক কম অনুভূত হয়। তাই সম্ভব হলে সামনে বসার চেষ্টা করুন। জানালার পাশে বসলে বাইরের দৃশ্য দেখা যায়, যা মস্তিষ্ককে চলাচলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। বিপরীতে, পেছনের সিটে বেশি দুলুনি অনুভূত হওয়ায় অস্বস্তি বাড়তে পারে।

যাত্রার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার বা বই পড়ার অভ্যাস থেকেও বিরত থাকা ভালো। কারণ চোখ তখন স্থির কোনো কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকে, অথচ শরীর চলমান অবস্থায় থাকে। এতে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং বমি ভাব বাড়ে। এর বদলে দূরের কোনো স্থির বস্তু বা দিগন্তের দিকে তাকিয়ে থাকলে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।

মোশন সিকনেস কমাতে সতেজ বাতাসও বেশ কার্যকর। গরম বা বন্ধ পরিবেশে অস্বস্তি দ্রুত বাড়ে। তাই জানালার পাশে বসুন এবং সুযোগ থাকলে জানালা খানিকটা খুলে রাখুন। ঠান্ডা বাতাস শরীরকে স্বস্তি দেয়। প্রয়োজনে ভেজা রুমাল দিয়ে মুখ মুছে নিলেও কিছুটা আরাম পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: 

কিছু প্রাকৃতিক উপায়ও বমি ভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। আদা দীর্ঘদিন ধরেই বমি প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভ্রমণের আগে অল্প আদা খাওয়া বা আদা চা পান করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। একইভাবে লেবুর গন্ধ বা লেবুর রসও অনেকের ক্ষেত্রে স্বস্তি দেয়। কারও কারও জন্য পুদিনাপাতার গন্ধও কার্যকর হতে পারে।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম না হলে মোশন সিকনেসের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই যাত্রার আগের রাতে ভালো ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ থেকেও এই সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই ভ্রমণের সময় নিজেকে যতটা সম্ভব শান্ত ও স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন।

যাদের নিয়মিত এ ধরনের সমস্যা হয়, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। বর্তমানে কিছু ওষুধ রয়েছে, যা ভ্রমণের আগে সেবন করলে বমি ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ করা ঠিক নয়।

অল্প কিছু সচেতনতা ও দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই গাড়ি বা বাসে বমি হওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই পরবর্তী যাত্রায় এই বিষয়গুলো মেনে চলুন এবং স্বস্তিতে উপভোগ করুন আপনার ভ্রমণ।

লেখক: মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. সাঈদ হোসেন

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow