গুজব না পরিকল্পিত ফাঁদ? ভাইরাল ভিডিওর পর আস্তানায় ঢুকে নৃশংস খুন
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর (কথিত পীর)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো একটি ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে।
এ সময় হামলাকারীরা আস্তানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে, যার ফলে পুরো এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শনিবার দুপুরে লাঠিসোটা ও রড নিয়ে একদল লোক মিছিল সহকারে শামীম রেজার দরবারে প্রবেশ করে। তারা দরবারের নিচতলা ও দোতলায় ভাঙচুর শুরু করে এবং শামীম রেজার ঘরের দরজা ভেঙে তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনে। এক পর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
হামলাকারীদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ শামীমের শেষ দিন।’ পরে তাকে দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর ভেড়ামারা-দৌলতপুর অঞ্চলের সার্কেল এসপি দেলোয়ার হোসেন পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা তাকে উ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর (কথিত পীর)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো একটি ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে।
এ সময় হামলাকারীরা আস্তানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে, যার ফলে পুরো এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শনিবার দুপুরে লাঠিসোটা ও রড নিয়ে একদল লোক মিছিল সহকারে শামীম রেজার দরবারে প্রবেশ করে। তারা দরবারের নিচতলা ও দোতলায় ভাঙচুর শুরু করে এবং শামীম রেজার ঘরের দরজা ভেঙে তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনে। এক পর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
হামলাকারীদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ শামীমের শেষ দিন।’ পরে তাকে দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর ভেড়ামারা-দৌলতপুর অঞ্চলের সার্কেল এসপি দেলোয়ার হোসেন পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা তাকে উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।’
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, পুরোনো একটি ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হওয়ার ফলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা না হলেও জড়িতদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশি প্রহরায় জানাজা শেষে স্থানীয় দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে শামীম রেজার দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি থাকলেও ভক্তদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। এর আগে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) শেখ জয়নুদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানান, এলাকায় বর্তমানে থমথমে অবস্থা থাকলেও পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ভক্তের মরদেহ দাফন করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শামীম রেজা ব্যাপক আলোচনায় আসেন। সে সময় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। চার মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।