আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী আওয়ামী দুঃশাসনের আমলে গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সংস্কারের দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি জানান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম।
বিবৃতিতে তারা বিগত আওয়ামী শাসনামলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের আগে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে বিরোধী মত দমনের জন্য গুমকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই সময়ে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও গুমের শিকার হয়েছেন। এমনকি জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে নেতা নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও রিফাত রশিদের মতো নেতারাও গুমের শিকার হয়েছিলেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ বছরে অন্তত ৬২৯ জন গুম হয়েছেন, যাদের মধ্যে এখনও ১৫৩ জনের কোনো খোঁজ মেলেনি। এসব ঘটনায় র্যাব, ডিবি, ডিজিএফআই এবং এনএসআই-এর মতো রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, ‘আয়নাঘর’ ও অন্যান্য টর্চার সেলের অস্তিত্বও উদঘাটিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল গুমের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত সংস্থাগুলোর সংস্কার। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার ‘গুম-সংক্রান্ত কমিশন’ গঠন করেছে, তবে এর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক তথ্য ও আলামত সরিয়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া বিগত দেড় দশকে গুম-খুনে জড়িতদের তালিকা প্রকাশেও অনীহা লক্ষ করা যাচ্ছে। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ এবং হাজারো শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
বিবৃতিতে দিবসটি উপলক্ষ্যে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৩ দফা দাবি উত্থান করা হয়। দাবিগুলো হলো-
১.সকল নিখোঁজ ব্যক্তিকে অবিলম্বে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
২.বিগত দেড় দশকে গুমের সঙ্গে জড়িত ডিজিএফআই, এনএসআই, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং এসব সংস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে।
৩.অবশিষ্ট আয়নাঘর, টর্চার সেল ও গোপন বন্দিশালাগুলো চিহ্নিত করে সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করতে হবে।
এনএস/কেএইচকে/জেআইএম