গোয়াইনঘাটে কৃষকের নির্মাণাধীন ঘর ভাঙার অভিযোগ
সিলেটের গোয়াইনঘাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক কৃষকের নির্মাণাধীন বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলকর্মীসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক সামছুল হক থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের পরবল্লী গ্রামে সামছুল হকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সামছুল হক অভিযোগ করে বলেন, বাড়িতে রাস্তার পাশের নিজ মালিকানাধীন ও দখলীয় জমিতে তিনি সম্প্রতি বসতঘর নির্মাণ শুরু করেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে পার্শ্ববর্তী উপর ধুমকা ও জুজমহল গ্রামের কয়েকজন তার নির্মাণকাজে বাধা দেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলীম উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলেন এবং ঈদের পর সালিশের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন। এতে সম্মত হয়ে তিনি কাজ বন্ধ রাখেন।
তার অভিযোগ, বিচারাধীন অবস্থায় সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে জুজমহল ও উপরধুমকা গ্রামের বিএনপিকর্মী আমিন উদ্দিন, যুবদলকর্মী আলীমুদ্দিন, রাহেল উদ্দিন, লুৎফুর রহমান, রমিজ উদ্দিন, মাখই মিয়া, আলী, রফিক, ফারুক, হাশিম, আব্দুল করিম রহমানসহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জ
সিলেটের গোয়াইনঘাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক কৃষকের নির্মাণাধীন বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলকর্মীসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক সামছুল হক থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের পরবল্লী গ্রামে সামছুল হকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সামছুল হক অভিযোগ করে বলেন, বাড়িতে রাস্তার পাশের নিজ মালিকানাধীন ও দখলীয় জমিতে তিনি সম্প্রতি বসতঘর নির্মাণ শুরু করেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে পার্শ্ববর্তী উপর ধুমকা ও জুজমহল গ্রামের কয়েকজন তার নির্মাণকাজে বাধা দেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলীম উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলেন এবং ঈদের পর সালিশের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন। এতে সম্মত হয়ে তিনি কাজ বন্ধ রাখেন।
তার অভিযোগ, বিচারাধীন অবস্থায় সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে জুজমহল ও উপরধুমকা গ্রামের বিএনপিকর্মী আমিন উদ্দিন, যুবদলকর্মী আলীমুদ্দিন, রাহেল উদ্দিন, লুৎফুর রহমান, রমিজ উদ্দিন, মাখই মিয়া, আলী, রফিক, ফারুক, হাশিম, আব্দুল করিম রহমানসহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে নির্মাণাধীন ঘরের পিলার ভাঙচুর করে। এ সময় পুরাতন ঘরে থাকা নারী ও শিশুদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সামছুল হক আরও বলেন, বাধা দিতে গেলে তাকে মারধরের চেষ্টা করা হয়। এসময় তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও ইউপি সদস্য ওয়াহিদুল্লাহ ঘটনাস্থলে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপিকর্মী আমিন উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, সামছুল হক রাস্তার জায়গা দখল করে এবং রাস্তার গাছের শিকড় কেটে ঘর নির্মাণ করছিলেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ইউএনও-এর নির্দেশ ছিল রাস্তা থেকে ১২ ফুট দূরে ঘর নির্মাণ করতে হবে, অন্যথায় তা অপসারণ করা হবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী এক পাশের পিলার ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ওয়াহিদুল্লাহ কালবেলাকে জানান, বিষয়টি আগে থেকেই বিরোধপূর্ণ ছিল। চেয়ারম্যান সরেজমিনে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে ঈদের পর সমাধানের কথা বলেছিলেন। সোমবার সকালেও বিষয়টি সমাধানের জন্য চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়। কিন্তু রাতেই কয়েকজন এসে ঘর ভাঙচুর করে। তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এভাবে ঘর ভাঙচুর করা ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে ১০ নম্বর পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলীম উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, রাস্তার পাশে ঘর নির্মাণের অভিযোগে ইউএনও-এর নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেন। তবে সমাধান হয়েছে কি না জানা নেই। রাতে ঘর ভাঙচুরের ঘটনা শুনেছেন এবং এটি অন্যায় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী কালবেলাকে বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কাউকে ঘর ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা ফৌজদারি অপরাধ এবং ভুক্তভোগীকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।