গোলাম নবী পান্নার গুচ্ছ গুচ্ছ কিশোর কবিতা

গোলাম নবী পান্না আলোকিত পথে  সত্যের পথ জানি শান্তির হয় শান্তির সেই পথ শুধু আলোময়৷ আলো ঠিক চলে আসে সরে গেলে কালো রাত শেষে শুভদিন নিয়ে আসে আলো৷ জীবনের ভালোটাকে পেতে হলে তাই আলোকিত সত্যের পথ চেনা চাই। এভাবেই শান্তির সমাধান খোঁজা সহজ,সরল আর নিয়মটা সোজা৷ বাঁকাপথ মিথ্যের আঁধারেই ঢাকা ঘোলাটে, গোলকধাঁধা আর আঁকাবাঁকা৷ তার সাথে মিশে থাকে মিছে হাতছানি পৌঁছে না সেইখানে সত্যের বাণী৷ কালো আর আলো জানি পাশাপাশি থাকে তবু সবে আলো নিয়ে স্বপ্নটা আঁকে|| কারণটা আলোতেই পথ দেখা যায় আলোকিত পথে সব জ্ঞান শেখা যায়৷ সে জ্ঞান ন্যায়ের এ কাজে যদি আসে  আল্লাহ এমনটা কাজ ভালোবাসে। স্বপ্নসবুজ স্বদেশ আমার আঁধার ঠেলে সুর্য যখন আলোর ডানা মেলে পাতায় পাতায় আলোর কুঁচি ঝলমলিয়ে খেলে। দেয় মুছে দেয় বনের আঁধার মনের যত কালো নিসর্গকে লাগে তখন অন্যরকম ভালো। আবছা ধূসর দূরের পাহাড় সবুজ আভায় হাসে আঁকাবাঁকা ছোট্ট নদী যায় বয়ে‍ তার পাশে। নদীর জলে‌ দুলতে থাকে নীলচে মেঘের ছায়া হাওয়ায় দোলায় মাঠের ফসল দেয় ছড়িয়ে মায়া। আমার দেশের রূপটি এমন নিত্য টেনে রাখে বুকের মাঝে ভালোবাসার সবুজ ছবি আঁকে।

গোলাম নবী পান্নার গুচ্ছ গুচ্ছ কিশোর কবিতা
গোলাম নবী পান্না আলোকিত পথে  সত্যের পথ জানি শান্তির হয় শান্তির সেই পথ শুধু আলোময়৷ আলো ঠিক চলে আসে সরে গেলে কালো রাত শেষে শুভদিন নিয়ে আসে আলো৷ জীবনের ভালোটাকে পেতে হলে তাই আলোকিত সত্যের পথ চেনা চাই। এভাবেই শান্তির সমাধান খোঁজা সহজ,সরল আর নিয়মটা সোজা৷ বাঁকাপথ মিথ্যের আঁধারেই ঢাকা ঘোলাটে, গোলকধাঁধা আর আঁকাবাঁকা৷ তার সাথে মিশে থাকে মিছে হাতছানি পৌঁছে না সেইখানে সত্যের বাণী৷ কালো আর আলো জানি পাশাপাশি থাকে তবু সবে আলো নিয়ে স্বপ্নটা আঁকে|| কারণটা আলোতেই পথ দেখা যায় আলোকিত পথে সব জ্ঞান শেখা যায়৷ সে জ্ঞান ন্যায়ের এ কাজে যদি আসে  আল্লাহ এমনটা কাজ ভালোবাসে। স্বপ্নসবুজ স্বদেশ আমার আঁধার ঠেলে সুর্য যখন আলোর ডানা মেলে পাতায় পাতায় আলোর কুঁচি ঝলমলিয়ে খেলে। দেয় মুছে দেয় বনের আঁধার মনের যত কালো নিসর্গকে লাগে তখন অন্যরকম ভালো। আবছা ধূসর দূরের পাহাড় সবুজ আভায় হাসে আঁকাবাঁকা ছোট্ট নদী যায় বয়ে‍ তার পাশে। নদীর জলে‌ দুলতে থাকে নীলচে মেঘের ছায়া হাওয়ায় দোলায় মাঠের ফসল দেয় ছড়িয়ে মায়া। আমার দেশের রূপটি এমন নিত্য টেনে রাখে বুকের মাঝে ভালোবাসার সবুজ ছবি আঁকে। লাল-সবুজের জয় পতাকা হাওয়ায় যখন দোলে স্বপ্ন দেখা সুখের আবেশ উদাস করে তোলে। মায়ার টানে ছায়ার টানে যেখানে যাই ফিরে আসি মায়ার টানে মায়ার সাথে স্নিগ্ধ-শীতল ছায়ার টানে। বিলায় কে সে এমন করে মাথার ওপর? গাছের ছায়াই বড়ো দেখি ছাতার ওপর। ছায়া দিতেই গাছগুলো এই দাঁড়িয়ে থাকে হাওয়ার পরশ নিয়ে পাতা নাড়িয়ে থাকে। অমনি পাতার কাঁপুনিটা গায়ে গায়ে ছায়া হয়ে পড়তে থাকে পায়ে পায়ে। এমন ছবি খুঁজতে পথে গাঁয়ে হাঁটি নরম মাটি ছুঁতেই খালি পায়ে হাঁটি। গাঁয়ের ছবি আঁকছে কবি রাখাল বাজায় পাতার বাঁশি ক্ষেতের ফসল তুলছে চাষি। পালের হাওয়ায় দুলছে মাঝি দিচ্ছে ছায়া বৃক্ষরাজি। লাউয়ের মাচায় ঝুলছে কদু কলসি কাঁখে লাজুক বধূ। দুষ্ট ছেলে দৌড়াদৌড়ি কাটছে সাঁতার পানকৌড়ি। এক পায়ে বক শিকার-ধ্যানে উড়ছে ঘুড়ি সুতা টেনে। ছায়ায় ঘেরা গাঁয়ের ছবি লেখার ভাষায় আঁকছে কবি। উদার আকাশ খোলা পেয়ে তোমরা আমায় পড়তে বলো  গড়তে জীবনটাকে লেখাপড়ার মাঝেই নাকি স্বপ্ন আঁকা থাকে। উদার আকাশ খোলা পেয়ে পাখির উড়াউড়ি তাতেই আমার মন ছুটে যায় উড়াতে ঐ ঘুড়ি। ঘুড়ি উড়াই আর দেখি এই বিশাল আকাশজুড়ে মেঘের তুলো ভুলোমনে কেমন করে উড়ে। উড়ে উড়ে কোন অজানায় হারিয়ে যায় ওরা কিসের খোঁজে এমন করে আকাশে হয় ঘোরা। হাজার প্রশ্ন ঘোর জাগিয়ে এ মনে দেয় দোলা শখের বশে পড়েই তখন পড়ার টেবিল ভোলা। মনকে বোঝাই এমনিভাবে জীবন কি আর চলে? ফিরে আসি আবার ঠিকই জ্ঞানের ছায়াতলে। পাঠে আমার মন বসাতে ধরি নতুন হাল পড়ার তরী বেয়ে নিতেই উড়াই রঙিন পাল। রঙিন পালে জ্ঞানের হাওয়া লাগবে যখন ঠিক সবার আশার তরী তখন খুঁজেই পাবেন দিক। কিশোরবেলার স্বপ্ন আজীবনের চাওয়া আমার মধুর স্বপ্ন কেনা স্বপ্ন খুঁজে ঘুমের কাছে বাড়ে অনেক দেনা। দিনের বেলা কাজের চাপে হয় না স্বপ্ন দেখা রাতের বেলা ঘুমিয়ে খুঁজি স্বপ্ন-ভুবন রেখা। নানা রঙের আবির মেখে স্বপ্নরা যায় এঁকে স্বপ্ন দেখা সেই যে শুরু ছোট্টবেলা থেকে। জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখি লেখাপড়া শিখে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে বিশ্বে চতুর্দিকে। খেলার মাঠে ছুটে যাওয়া জেতার স্বপ্ন দেখে সে কি লড়াই!বড়াই সহ আবেগ ও যাই মেখে। স্বপ্নজয়ের খোঁজে আজো নিয়ম মেনে চলা সুর-ছন্দে গান-কবিতায় দেশের কথা বলা। কিশোরবেলার স্বপ্ন এমন স্মৃতির পাতায় দোলে চলার পথে এগিয়ে যেতে স্বপ্ন-দুয়ার খোলে। রাতের আকাশ রাতের আকাশ তারার মেলা চাঁদ জুড়ে দেয় আলোর খেলা। জোনাক জ্বলে ঝিকিমিকি ঝিঁঝিঁ পোকাও ডাকে ঠিকই। জলে-স্থলে লাফিয়ে ঠ্যাঙ ব্যাঙ ডেকে যায় ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ। শুনে এসব খোকন সোনা রাতের প্রহর চলছে গোনা। আঁচল ছায়া মায়ের আদর পেয়ে এমন সুখের চাদর সেই চাদরে মুড়িয়ে শেষে ঠাঁই করে নেয় ঘুমের দেশে। ঘুম ঘুম ঘুম ঘুমের ঘোরে আলসেমি ঘুম কাটে ভোরে। কবি পরিচিতি। বাবা : এ কে মোস্তাক আহমদ, মা : দুলারী বেগম। দাদা : মাওলানা আব্দুল জলিল। নানা : আব্দুস ছামাদ হাওলাদার। পান্নার জন্ম ৮ আগস্ট ১৯৬৬ চাঁদপুর জেলাস্থ গন্ডামারা গ্রামে। তিনি একাধারে লেখক, চিত্রশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা। তারই ছোটভাই গোলাম রাব্বানী মুন্নার ভাষায় তাকে বলা যায় একের ভেতর ছয়। পান্না সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তার চাচা মো. অজি আহমদ মনিরের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পান। ছড়া দিয়ে লেখালেখির যাত্রা শুরু করলেও গোলাম নবী পান্না সাহিত্যের সব ক’টি শাখায় করছেন অবাধ বিচরণ। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী পান্নার লেখা ছাপা হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক,মাসিক পত্রিকাসমূহে।শুধু তাই নয় দেশের গন্ডি পেরিয়ে তার আঁকা ছবি ছাপা হয়েছে ভারত,যুক্তরাজ্য, জাপানসহ শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলোতে। পান্না বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার।  বাংলাদেশ বেতারের কলকাকলি অনুষ্ঠানের ‘রানারের ঝুলি’ পর্বের গ্রন্থনার দায়িত্বে রয়েছেন। গোলাম নবী পান্না বাংলা একাডেমির জীবনসদস্য। কবি সংসদ বাংলাদেশ-এর জীবনসদস্য। পান্নার লেখা ‘শ্রমজীবীদের গান’ গীতিচিত্র আকারে ইটিভি,চ্যানেল ওয়ান, ফাল্গুন মিউজিকসহ অন্যান্য আরও চ্যানেলে প্রচারিত হয়। এতে তিনি গীতিকার, সুরকার, কন্ঠশিল্পী ও মডেলের ভূমিকায় ছিলেন। গীতিচিত্রটি পরিচালনা করেন অভিনেতা হুমায়ূন কাবেরী। গোলাম নবী পান্নার বহুমুখী প্রতিভার একগুচ্ছ পরিবেশনা সংযোজিত হয়েছে ইউটিউব চ্যানেল ‘মনন টিভি’তে। এতে রয়েছে পান্নার গান, একক অভিনয়, ছড়াপাঠ ইত্যকার বিষয়। চ্যানেলটির পরিচালক শিল্পী এস এ শামীম।  পান্না বিভিন্ন সংগঠন এবং কলেজ পর্যায়ে কোরআন তেলওয়াত, হামদ, নাত, লোকগীতি, নজরুল সংগীত, আধুনিক গান, অভিনয়, পুঁথিপাঠ ও গল্প প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে লাভ করেন বিশেষ সনদপত্র। তিনি শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি,ছড়া, গান, সুর, অভিনয়, চিত্রশিল্পসহ প্রায় সকল শাখাতে পেয়েছেন পুরস্কার ও সংবর্ধনা। পান্না জাতীয় লেখক কল্যাণ পরিষদ সম্মাননা, জ্ঞানার্ণব সাহিত্য পরিষদ সম্মাননা, হবিগঞ্জ বাংলা সাহিত্য সম্মেলন সম্মাননা, নজরুল সম্মাননা, ফররুখ আহমদ সম্মাননা, নলতা মিতালী কচি-কাঁচার মেলা সম্মাননা, আবাবীল সম্মাননা, টুপটাপ সম্মাননা, উষসী পরিষদ লেখক সম্মাননা, গীতিকার ক্লাব সম্মাননা, স্বপ্নালোক স্বর্ণকলম সম্মাননা, চট্টগ্রাম বিনোদন সাংবাদিক সংস্থা সম্মাননা, স্বাধীনতা সংসদ পুরস্কার,কবি জসীম উদদীন সাহিত্য পুরস্কার, নাজিয়া নূর স্মৃতি পুরস্কার, অনামিকা প্রকাশনী পুরস্কার, কুসুম কলির আসর পুরস্কার, লাল-সবুজের মেলা পুরস্কার, কথন শিশুসাহিত্য পুরস্কার, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক, এস এস মাল্টিমিডিয়া স্বাধীনতা উৎসব সম্মাননা পদক, বাংলাদেশ সংস্কৃতি পরিষদ সম্মাননা পদক, ছড়ার ডাক পদক, মৃত্তিকা পদক, চত্বর সাহিত্য পদক, বাঁধনহারা লিটিলম্যাগ পদক, পুন্ড্রবর্ধন সাহিত্যিকী পদক, সাউন্ড বাংলা স্বর্ণপদক এবং এম আর মনজু কালচারাল সোসাইটি কর্তৃক পেয়েছেন সংবর্ধনা। ‘চত্বর প্রকাশনী’ থেকে পান্নার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মরণে ছড়াস্মারক ‘প্রতিবিম্ব’। ‘ছড়ায় শত ব্যক্তিত্ব’ ছড়াগ্রন্থের অন্যতম সম্পাদক ও অংকনশিল্পী পান্না প্রায় একশত ব্যক্তিত্ব ও একশত ছড়াকারদের ছবি অংকন করেছেন উক্ত গ্রন্থে। পান্নার নিজের আঁকা ও লেখায় সমৃদ্ধ ছড়াগ্রন্থ ‘ছড়ায় নজরুল পড়া’ ও ছড়াগ্রন্থ ‘ঘাড়তেড়া’ প্রকাশিত হয়েছে অনামিকা প্রকাশনী থেকে। পঙ্খিরাজ থেকে প্রকাশিত হয়েছে ছড়াগল্পগ্রন্থ ‘মাছরাঙা ও মিনি’। এটির প্রকাশক দেওয়ান আজিজ। প্রতিবিম্ব প্রকাশ থেকে ‘ছোটদের মিনি ছড়া’ প্রকাশিত হয়। প্রকাশক আবুল খায়ের। টুপটাপ থেকে প্রকাশিত হয় ‘মায়ের মায়া গাঁয়ের ছায়া’। প্রকাশক ওমর ফারুক নাজমুল। সম্পাদক নজরুল ইসলাম নঈমের সম্পাদনায় গোলাম নবী পান্নার জীবন ও সাহিত্য নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে প্রামাণ্যগ্রন্থ ‘দেখা থেকে লেখা’ এবং পান্নার ‘হাতে আঁকা গুণীর মুখ’ শিরোনামে ৩১২ জনের ছবি সংবলিত অ্যালবাম প্রকাশ পায় ‘আমাদের মাতৃভূমি’ পত্রিকায়। পান্না দৈনিক জনতার সংবাদ-এর বিভাগীয় সম্পাদক। শিশু সংগঠন ‘আনন ফাউন্ডেশন’-এর প্রচার সম্পাদক। ব্যক্তিগত জীবনে একজন সফল সংগঠক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে। ‘চিরকালের শিশু’ সংগঠনের পরিচালক পান্না ‘লেখারেখা’ নামে একটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। পান্নার শ্বশুর কবি জাহাঙ্গীর হাফিজ। পান্নার স্ত্রী কবি নার্গিস চমন ও একমাত্র কন্যা ছড়াকার ওয়ালিদা মোনালিসা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow