গৌরীপুরে নির্মাণাধীন সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, উদ্বোধনের আগেই ত্রুটি

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর–বলুহা সড়কে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। এরই মধ্যে উদ্বোধনের আগেই সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে ধস ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কটি সেতু থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০২২–২৩ অর্থবছরে বলুহা সড়কের খালের ওপর ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পায় মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়ার পর ২০ জুন কাজ শুরু হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ড্রাম শেডের গাইডওয়াল সরে যাওয়ায় রাস্তার দুই পাশের মাটি ধসে পড়েছে। ভেঙে গেছে ইটের সলিংও। গাইডওয়াল ধসে পড়ায় নিরাপত্তা বেষ্টনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যেকো

গৌরীপুরে নির্মাণাধীন সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, উদ্বোধনের আগেই ত্রুটি

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর–বলুহা সড়কে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। এরই মধ্যে উদ্বোধনের আগেই সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে ধস ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কটি সেতু থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০২২–২৩ অর্থবছরে বলুহা সড়কের খালের ওপর ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পায় মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়ার পর ২০ জুন কাজ শুরু হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ড্রাম শেডের গাইডওয়াল সরে যাওয়ায় রাস্তার দুই পাশের মাটি ধসে পড়েছে। ভেঙে গেছে ইটের সলিংও। গাইডওয়াল ধসে পড়ায় নিরাপত্তা বেষ্টনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া কার্যাদেশের বিভিন্ন শর্তও মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় কাজের বিবরণ সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেখানে কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। ফলে প্রকল্পের ব্যয়, সময়সীমা ও কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ অন্ধকারে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর আগে সাইট অফিস, লেবার শেড, ইটের খোয়া ভেজানোর পানির চৌবাচ্চা ও শ্রমিকদের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও বাস্তবে কিছুই করা হয়নি। অপরিকল্পিতভাবে কাজ পরিচালনা করায় নির্মাণের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বলুহা গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল হক বলেন, “কাজের শুরু থেকেই আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিলাম। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।” শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জনা রানী বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষায় সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।”

গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল আহমেদ আকন্দ বলেন, “এখানে কাজের কোনো সাইনবোর্ড নেই। ড্রাম সিড দিয়ে করা পেলাসাইটিং এর কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের। এ সড়ক দিয়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে।” তিনি কাজটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “বর্ষার কারণে কাজের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সেতুর পাশের কিছু মাটি সরে গেছে। বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় মাটি না পাওয়ায় কাজ সম্পন্নে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন বলেন, “সেতুটি আমি পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদার এখনো চূড়ান্ত বিল পাননি। কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলে তাকে বিল দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কার্যাদেশ বাতিল করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow