গ্যালারিতে শূন্যতা, কমছে দর্শকের আগ্রহ

চট্টগ্রামের সাগরিকা পাড়ে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম (সাবেক জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম)- যে মাঠ একসময় দর্শকের উচ্ছ্বাসে মুখর থাকত, এখন সেখানে দৃশ্যপট অনেকটাই ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ম্যাচ হলেও গ্যালারির বড় অংশ ফাঁকা পড়ে থাকছে।  বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচকে ঘিরে মাঠে উপস্থিত দর্শকের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো কম। প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে উপস্থিতি ছিল মাত্র দুই থেকে তিন হাজারের মধ্যে। মাঠে প্রবেশের সময় থেকেই পরিবর্তনটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একসময় যেখানে টিকিট সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হতো, সেখানে এখন তেমন ভিড় চোখে পড়ে না। স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায়, দর্শক উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। গ্যালারির বড় অংশই ফাঁকা, কোথাও কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে আছেন অল্প কিছু দর্শক। খেলা চললেও সেই পুরোনো উচ্ছ্বাস, ঢোলের শব্দ কিংবা একযোগে চিৎকারে মুখরিত হওয়ার দৃশ্য এখন আর তেমন দেখা যায় না। স্টেডিয়ামের বাইরে থেকেও একই চিত্র দেখা যায়। পতাকা, জার্সি কিংবা বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিক্র

গ্যালারিতে শূন্যতা, কমছে দর্শকের আগ্রহ

চট্টগ্রামের সাগরিকা পাড়ে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম (সাবেক জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম)- যে মাঠ একসময় দর্শকের উচ্ছ্বাসে মুখর থাকত, এখন সেখানে দৃশ্যপট অনেকটাই ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ম্যাচ হলেও গ্যালারির বড় অংশ ফাঁকা পড়ে থাকছে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচকে ঘিরে মাঠে উপস্থিত দর্শকের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো কম। প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে উপস্থিতি ছিল মাত্র দুই থেকে তিন হাজারের মধ্যে।

মাঠে প্রবেশের সময় থেকেই পরিবর্তনটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একসময় যেখানে টিকিট সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হতো, সেখানে এখন তেমন ভিড় চোখে পড়ে না। স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায়, দর্শক উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। গ্যালারির বড় অংশই ফাঁকা, কোথাও কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে আছেন অল্প কিছু দর্শক। খেলা চললেও সেই পুরোনো উচ্ছ্বাস, ঢোলের শব্দ কিংবা একযোগে চিৎকারে মুখরিত হওয়ার দৃশ্য এখন আর তেমন দেখা যায় না।

স্টেডিয়ামের বাইরে থেকেও একই চিত্র দেখা যায়। পতাকা, জার্সি কিংবা বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রেতাদের উপস্থিতি সীমিত। ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানগুলোর আশপাশেও আগের মতো ভিড় নেই। স্থানীয়দের ভাষায়, ‘মাঠে খেলা হচ্ছে-এমন পরিবেশটাই এখন আর তৈরি হয় না।’

দর্শক কমে যাওয়ার পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রযুক্তিনির্ভরতা। এখন অনেকেই সরাসরি মাঠে গিয়ে খেলা দেখার পরিবর্তে মোবাইল ফোনেই খেলা দেখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ইউটিউব, ফেসবুক লাইভ বা টেলিভিশন সম্প্রচারের সহজলভ্যতা মানুষকে ঘরেই আটকে রাখছে। ফলে মাঠে গিয়ে খেলা দেখার যে সামাজিক সংস্কৃতি ছিল, তা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

খেলা দেখতে আসা বিপ্লব নামের এক দর্শক জানান, ‘আগে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে গিয়ে খেলা দেখা ছিল এক ধরনের উৎসব। এখন সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে মোবাইল ফোন। আগে বন্ধুদের নিয়ে দল বেঁধে খেলা দেখতে আসতাম। এখন সবাই মোবাইলে ব্যস্ত। একসঙ্গে মাঠে যাওয়ার আগ্রহটাই আর নেই।’

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান শাহরিয়ার নামের আরেক দর্শক। তিনি অফিস শেষে মাঠে এসে খেলা দেখছেন। আগে পটিয়া থেকে দলবেঁধে খেলা দেখতে আসতাম। ছোট-বড় সবাই আসত। এখন সেই দিন নেই। সবাই কর্মজীবন নিয়ে ব্যস্ত, সময়ই পায় না।

বর্তমান সময়ে কর্মব্যস্ততাও দর্শক কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনে ম্যাচ হলে অনেকের পক্ষেই সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। অফিস শেষে দীর্ঘ সময় স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখা অনেকের জন্য সম্ভব হয় না। ফলে দর্শক উপস্থিতি কমে যাচ্ছে।

এছাড়া জাতীয় দলের পারফরম্যান্সও দর্শকদের আগ্রহে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে। বিভিন্ন সময়ে দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের অভাব অনেক দর্শককে নিরুৎসাহিত করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ কিংবা জয়ের প্রত্যাশা কমে গেলে মাঠে যাওয়ার আগ্রহও কমে যায়।

একসময় খেলা দেখা ছিল একটি সামাজিক মিলনমেলা। পরিবার, বন্ধু বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে একসঙ্গে মাঠে যাওয়া ছিল আনন্দের অংশ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সংস্কৃতিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন মানুষ নানা ধরনের বিনোদনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনলাইন কনটেন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম মানুষের সময় ও মনোযোগ দখল করে নিচ্ছে।

চট্টগ্রামে গরম আবহাওয়াও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। দিনের বেলায় তীব্র তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে দীর্ঘ সময় গ্যালারিতে বসে থাকা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত ছায়াযুক্ত আসন বা আধুনিক সুবিধার অভাবও দর্শকদের নিরুৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর পাশাপাশি টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনলাইনে একাধিক টিকিট সংগ্রহ করে কিছু চক্র সেগুলো স্টেডিয়ামের বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছে। স্টেডিয়ামের আশপাশে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল এ ধরনের কাজে জড়িত বলে জানা গেছে। তারা গেটের বাইরে কিংবা পাশের গলিতে দরকষাকষির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে উপস্থিত রয়েছে, তারপরও এসব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম ( জহুর আহমেদ চৌধুরী) স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার রুবেল বলেন, ‘গরমের কারণে উপস্থিতি কম হয়েছে, নির্দিষ্ট করে কত দর্শক এসেছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বাইরে টিকিট বিক্রির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow