গ্রিন টি নাকি ব্ল্যাক চা কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

চা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকাল শুরু হোক বা বিকেলের ক্লান্তি দূর করা হোক এক কাপ চা যেন মুহূর্তেই শরীর ও মনকে চাঙ্গা করে তোলে। তবে বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে অনেকেই দুধ-চিনি দেওয়া চায়ের পরিবর্তে গ্রিন টি বা লিকার চায়ের দিকে ঝুঁকছেন। কেউ ওজন কমানোর জন্য গ্রিন টি পান করছেন, আবার কেউ হজমের সমস্যা এড়াতে লিকার চা বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী? আসলে উত্তরটি নির্ভর করে আপনার শরীর ও প্রয়োজনের ওপর। ওজন কমাতে গ্রিন টি কতটা কার্যকর যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের কাছে গ্রিন টি বেশ জনপ্রিয় একটি পানীয়। এতে রয়েছে এপিগ্যালোক্যাটেচিন-৩-গ্যালেট (ইজিসিজি) নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা শরীরের মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। এছাড়া গ্রিন টি হজমশক্তি বাড়াতে সহায়ক এবং শরীরের প্রদাহ কমাতেও ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে গ্রিন টি পান করলে শরীর হালকা ও সতেজ থাকে। তাই যারা ফিটনেস সচেতন, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। হার্ট ভালো রাখতে লিকার চা লিকার চা, অর্থাৎ দ

গ্রিন টি নাকি ব্ল্যাক চা কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

চা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকাল শুরু হোক বা বিকেলের ক্লান্তি দূর করা হোক এক কাপ চা যেন মুহূর্তেই শরীর ও মনকে চাঙ্গা করে তোলে। তবে বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে অনেকেই দুধ-চিনি দেওয়া চায়ের পরিবর্তে গ্রিন টি বা লিকার চায়ের দিকে ঝুঁকছেন। কেউ ওজন কমানোর জন্য গ্রিন টি পান করছেন, আবার কেউ হজমের সমস্যা এড়াতে লিকার চা বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী? আসলে উত্তরটি নির্ভর করে আপনার শরীর ও প্রয়োজনের ওপর।

ওজন কমাতে গ্রিন টি কতটা কার্যকর

যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের কাছে গ্রিন টি বেশ জনপ্রিয় একটি পানীয়। এতে রয়েছে এপিগ্যালোক্যাটেচিন-৩-গ্যালেট (ইজিসিজি) নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা শরীরের মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

এছাড়া গ্রিন টি হজমশক্তি বাড়াতে সহায়ক এবং শরীরের প্রদাহ কমাতেও ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে গ্রিন টি পান করলে শরীর হালকা ও সতেজ থাকে। তাই যারা ফিটনেস সচেতন, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

JAGO

হার্ট ভালো রাখতে লিকার চা

লিকার চা, অর্থাৎ দুধ-চিনি ছাড়া সাধারণ চা, স্বাস্থ্যের জন্যও কম উপকারী নয়। এতে রয়েছে পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েড জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো।

এই উপাদানগুলো রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং ধমনির ব্লকেজের ঝুঁকি কমায়। যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য পরিমিত লিকার চা উপকারী হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই চিনি ছাড়া পান করা উচিত।

পেটের সমস্যায় কোনটি বেশি ভালো

গ্যাস, বদহজম বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় অনেক সময় লিকার চা বেশি কার্যকর হতে পারে। এতে থাকা ট্যানিন অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক।

অন্যদিকে, গ্রিন টি হালকা হলেও কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পান করলে পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই হজমের সমস্যায় ভুগলে লিকার চা বেছে নেওয়াই ভালো, তবে সেটি যেন বেশি কড়া না হয়।

মানসিক চাপ কমাতে গ্রিন টি

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ক্ষেত্রে গ্রিন টি একটি ভালো সমাধান হতে পারে। এতে থাকা এল-থিয়েনিন নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড মস্তিষ্ককে শান্ত রাখতে সাহায্য করে এবং স্ট্রেস কমায়।

গ্রিন টি পান করলে মন কিছুটা প্রশান্ত হয় এবং মনোযোগ বাড়ে। তাই যারা মানসিক চাপ বা উদ্বেগে ভোগেন, তাদের জন্য গ্রিন টি একটি উপকারী পানীয় হতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গ্রিন টি

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রিন টি সাহায্য করে। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য গ্রিন টি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে অবশ্যই এটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পান করা উচিত।

কারা কোন চা এড়িয়ে চলবেন

সব ভালো জিনিসেরই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। লিকার চায়ে থাকা ট্যানিন ও ক্যাফিন শরীরে আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে। তাই যাদের রক্তাল্পতা রয়েছে, তাদের জন্য লিকার চা এড়িয়ে চলা ভালো, বিশেষ করে খাবারের পরপরই।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত গ্রিন টি পান করলেও সমস্যা হতে পারে। এতে থাকা পলিফেনল লিভারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যাদের কিডনির সমস্যা বা পাথরের প্রবণতা রয়েছে, তাদের খালি পেটে গ্রিন টি পান না করাই ভালো।

এছাড়া আলসারের সমস্যায় থাকলে খালি পেটে কোনো ধরনের চা পান না করাই উত্তম, কারণ এটি পাকস্থলীতে অম্লতা বাড়াতে পারে।

গ্রিন টি ও লিকার চা, দুটিই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তাই নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে এবং পরিমিত পরিমাণে এই পানীয়গুলো পান করা উচিত।

সূত্র: হেলথলাইন, ভেরিওয়েল ফিট, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow