গ্রুপিং-কোন্দলের মধ্যেই নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার

দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রকাশ্য সংঘাত ও নানান সময়ে গ্রুপভিত্তিক দ্বন্দ্বের পর এবার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। গত রোববার (২ আগস্ট) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সায়েম এবং প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ঠিক কি ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে। এদিকে কোনো ধরনের প্রকার পূর্ব নোটিশ বা কারণ দর্শানো (শোকজ) ছাড়াই এ বহিষ্কারাদেশের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে শাখা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও সাংগঠনিক সংকট। বহিষ্কৃত প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওন বলেন, ছাত্রদলের সভাপতি বর্তমানে ক্যাম্পাসের জুনিয়র ব্যাচের এক যুগেরও বেশি সিনিয়র এবং সাধারণ সম্পাদক শিবিরের বাছাইকৃত কর্মী। তারপরও কেন্দ্রের সিদ্ধা

গ্রুপিং-কোন্দলের মধ্যেই নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার

দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রকাশ্য সংঘাত ও নানান সময়ে গ্রুপভিত্তিক দ্বন্দ্বের পর এবার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

গত রোববার (২ আগস্ট) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সায়েম এবং প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ঠিক কি ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে।

এদিকে কোনো ধরনের প্রকার পূর্ব নোটিশ বা কারণ দর্শানো (শোকজ) ছাড়াই এ বহিষ্কারাদেশের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে শাখা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও সাংগঠনিক সংকট।

বহিষ্কৃত প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওন বলেন, ছাত্রদলের সভাপতি বর্তমানে ক্যাম্পাসের জুনিয়র ব্যাচের এক যুগেরও বেশি সিনিয়র এবং সাধারণ সম্পাদক শিবিরের বাছাইকৃত কর্মী। তারপরও কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা তাদের নির্দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু কমিটি দেওয়ার পর থেকেই ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সবকিছু স্বৈরাচারীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছিলেন।

শাওন বলেন, আমরা সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন, সহ-সভাপতি শাখাওয়াত সায়েম, প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওন ও আমাদের অনুসারীদের নিয়ে আমাদের প্ল্যাটফর্ম দাঁড় করাচ্ছিলাম।

নিজের বহিষ্কারের কারণ হিসেবে শাওন বলেন, ‌‘নোবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতিকে ‘বুইড়া খাটাশ’ বলায় আমাকে বহিষ্কার করা হয়।’

বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সায়েমও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তা তাকে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, আমার থেকে কোনো কিছু জানতেও চাওয়া হয়নি। আমাদের সংগঠনের একটি নিয়ম আছে, কাউকে বহিষ্কার করার আগে তাকে শোকজ দিয়ে জানতে চায়। কিন্তু আমাদের শোকজও করা হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, সেটাও আমরা জানি না। আমাদের থেকে কোনো কিছু জানতেও চাওয়া হয়নি। মানে হুট করেই বহিষ্কার করে।

সায়েমের দাবি, নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটিকে ‘ভুজুংভাজুং কমিটি’ বলায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিম তাদের দফায় দফায় সতর্ক করে। কমিটি দেওয়ার আট মাস হয়ে গেলেও একদিনের জন্যও তারা কোনো দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেনি। সাংগঠনিক দায়িত্ব পেলে তা অবশ্যই পালন করতে হবে। তাদের রুমে বসে থাকার জন্য পদ দেওয়া হয়নি।

জাহিদ হাসান দাবি করেন, তাদের মধ্যে একজন ফেসবুকে এই কমিটিকে ‘ভুজুংভাজুং’ কমিটি বলে মন্তব্য করে। দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এ মন্তব্য অনুচিত।

শোকজ না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে নোটিশের মাধ্যমে তাদের সতর্ক করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিম অনলাইনে এবং বিভিন্ন মিটিংয়েও তাদেরকে সতর্ক করেছে।

এর আগে, কমিটি ঘোষণার প্রায় এক মাসের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ও সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান বাধনকে শোকজ করা হয়েছিল। পরে তাদের তিন মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে শুধু ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের’ কথা বলা হয়েছে। অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ না থাকায় এবং বহিষ্কৃত নেতাদের শোকজ করা হয়েছিল কি না, তা কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

আগেও প্রকাশ্যে এসেছে বিরোধ

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের ঘটনা এর আগেও প্রকাশ্যে এসেছে। গত ২১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের তৎকালীন প্রভোস্টের সঙ্গে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানের তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ ওঠে, ছাত্রদলেরই এক সিনিয়র সহ-সভাপতির আবাসিক সিটকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনার সূত্রপাত। পরে নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন হলটির প্রভোস্ট।

এর আগে, গত ২৭ এপ্রিল আবদুল মালেক উকিল হল ও শান্তিনিকেতন এলাকায় ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে একাধিকবার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের প্রথম সহ-সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও তার অনুসারীদের সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেনের হাতাহাতি হয়। পরে আবদুল মালেক উকিল হলের সামনে আবারও তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

ওই সময় আমিনুল ইসলাম হাতের ইশারায় সাব্বির হোসেন শান্তকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে সাব্বির হোসেনকে সংগঠনের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

তবে সাব্বির হোসেন শান্ত অভিযোগ করেন, উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের ডাক দেওয়ার পর থেকেই সংগঠনের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং তাকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ সময় প্রথম সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কেএইচকে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow