ঘরে আগুন লাগার ঝুঁকি কমাতে জেনে নিন

দৈনন্দিন জীবনে রান্নাঘর আমাদের ঘরের সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এখানে প্রতিদিনই আগুন, গ্যাস ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার হয়। সামান্য অসতর্কতা বা অবহেলা থেকে মুহূর্তের মধ্যেই ঘটতে পারে অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বিশ্বব্যাপী ঘরে আগুন লাগার বড় একটি অংশই ঘটে রান্নার সময়। তাই রান্নাঘরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রয়োজনই নয়, জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ন্যাশনাল ফায়ার প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ঘরে অগ্নিকাণ্ড ও ঘরে আহত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো রান্নার সময় আগুন লাগা। প্রতি বছর স্টেট ফায়ার মার্শাল অফিস রান্নাজনিত কারণে ঘটে যাওয়া একাধিক অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত করে থাকে। তাই রান্নার সময় একটু সচেতন থাকলে বড় দুর্ঘটনা সহজেই এড়ানো সম্ভব। রান্নার সময় নিরাপদ থাকতে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন - চুলায় রান্না করার সময় অবশ্যই রান্নাঘরে থাকুন। অল্প সময়ের জন্য হলেও বাইরে গেলে চুলা বন্ধ করে যান। - ওভেনে খাবার বেক বা রোস্ট করলে মাঝেমধ্যে দেখে নিন এবং টাইমার ব্যবহার করুন। - চুলা বা ওভেন চালু রেখে কখনোই বাসা ছেড়ে বাইরে যাবেন না। - খোলা আগুনের পাশে ঢি

ঘরে আগুন লাগার ঝুঁকি কমাতে জেনে নিন
দৈনন্দিন জীবনে রান্নাঘর আমাদের ঘরের সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এখানে প্রতিদিনই আগুন, গ্যাস ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার হয়। সামান্য অসতর্কতা বা অবহেলা থেকে মুহূর্তের মধ্যেই ঘটতে পারে অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বিশ্বব্যাপী ঘরে আগুন লাগার বড় একটি অংশই ঘটে রান্নার সময়। তাই রান্নাঘরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রয়োজনই নয়, জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ন্যাশনাল ফায়ার প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ঘরে অগ্নিকাণ্ড ও ঘরে আহত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো রান্নার সময় আগুন লাগা। প্রতি বছর স্টেট ফায়ার মার্শাল অফিস রান্নাজনিত কারণে ঘটে যাওয়া একাধিক অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত করে থাকে। তাই রান্নার সময় একটু সচেতন থাকলে বড় দুর্ঘটনা সহজেই এড়ানো সম্ভব। রান্নার সময় নিরাপদ থাকতে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন - চুলায় রান্না করার সময় অবশ্যই রান্নাঘরে থাকুন। অল্প সময়ের জন্য হলেও বাইরে গেলে চুলা বন্ধ করে যান। - ওভেনে খাবার বেক বা রোস্ট করলে মাঝেমধ্যে দেখে নিন এবং টাইমার ব্যবহার করুন। - চুলা বা ওভেন চালু রেখে কখনোই বাসা ছেড়ে বাইরে যাবেন না। - খোলা আগুনের পাশে ঢিলা হাতার কাপড় পরলে সতর্ক থাকুন। - চুলার আশপাশে সহজে আগুন ধরে যেতে পারে এমন জিনিস রাখবেন না। যেমন ওভেন মিট, কাঠের খুন্তি, খাবারের প্যাকেট বা মুছার কাপড়। - আগুন নেভানোর জন্য কাছেই একটি ঢাকনা রাখুন। রান্নার সময় আগুন লাগলে যা করবেন - যদি কড়াই বা প্যানে আগুন ধরে যায়, তাহলে দ্রুত একটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন যাতে আগুন নিভে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে চুলা বন্ধ করুন। প্যান পুরোপুরি ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত ঢাকনা খুলবেন না। - কখনোই প্যানের আগুন নেভাতে ময়দা বা পানি ব্যবহার করবেন না। এতে আগুন আরও বেড়ে যেতে পারে। - যদি ওভেনের ভেতরে আগুন লাগে, তাহলে ওভেন বন্ধ করে দরজা বন্ধ রাখুন। আগুন নিজে থেকেই নিভে যাবে। - আগুন নেভাতে পারছেন কিনা তা নিয়ে যদি সামান্যও সন্দেহ থাকে, তাহলে চেষ্টা করবেন না। দ্রুত সবাইকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান। বের হওয়ার সময় দরজা বন্ধ করে দিন যাতে আগুন ছড়াতে না পারে। এরপর বাইরে থেকে জরুরি সেবায় ফোন করুন। মনে রাখবেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ বাড়িতে গ্যাসের চুলা ব্যবহৃত হয়। রান্নার আগে গ্যাস লিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করা জরুরি। রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। শিশুদের রান্নাঘর থেকে দূরে রাখুন এবং চুলার কাছে দাহ্য পদার্থ জমতে দেবেন না। নিয়মিত চুলা ও গ্যাস লাইনের অবস্থা পরীক্ষা করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে। রান্না আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু সামান্য অসতর্কতা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সচেতনতা, সতর্কতা এবং সঠিক নিয়ম মেনে চললে রান্নাজনিত অগ্নিকাণ্ড ও আহত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য রান্নার সময় এসব নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow