ঘরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে ৯ মাসের শিশুর মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতা কেড়ে নিল ৯ মাস বয়সী এক শিশুর প্রাণ। মায়ের পাশে খাটে ঘুমিয়ে থাকা শিশুটি অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে ঘরের মেঝেতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে মারা যায়। ময়মনসিংহ নগরীতে জলাবদ্ধতার কারণে ঘরের ভেতরে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার সকালে নগরীর ব্রহ্মপল্লী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম আজলান আমিন তালুকদার (ডাকনাম আয়াস)। সে সেহরা ডিবি রোড এলাকার বাসিন্দা রেজুয়ানুল আমিন তালুকদার ও বন্যা আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান। রেজুয়ানুল একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ঘটনার সময় বন্যা আক্তার বাবার বাড়ি ব্রহ্মপল্লী এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে ব্রহ্মপল্লী এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে হাঁটুপানি জমে যায়। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আয়াস মায়ের পাশে খাটে ঘুমিয়ে ছিল। একপর্যায়ে সে খাট থেকে গড়িয়ে ঘরের মেঝেতে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক

ঘরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে ৯ মাসের শিশুর মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতা কেড়ে নিল ৯ মাস বয়সী এক শিশুর প্রাণ। মায়ের পাশে খাটে ঘুমিয়ে থাকা শিশুটি অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে ঘরের মেঝেতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে মারা যায়। ময়মনসিংহ নগরীতে জলাবদ্ধতার কারণে ঘরের ভেতরে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বুধবার সকালে নগরীর ব্রহ্মপল্লী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুর নাম আজলান আমিন তালুকদার (ডাকনাম আয়াস)। সে সেহরা ডিবি রোড এলাকার বাসিন্দা রেজুয়ানুল আমিন তালুকদার ও বন্যা আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান। রেজুয়ানুল একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ঘটনার সময় বন্যা আক্তার বাবার বাড়ি ব্রহ্মপল্লী এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে ব্রহ্মপল্লী এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে হাঁটুপানি জমে যায়। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আয়াস মায়ের পাশে খাটে ঘুমিয়ে ছিল। একপর্যায়ে সে খাট থেকে গড়িয়ে ঘরের মেঝেতে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর মামী রুমানা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সারারাতের বৃষ্টিতে ঘরের মেঝেতে পানি জমে ছিল। আয়াস তার মায়ের পাশেই ঘুমাচ্ছিল। হঠাৎ খাট থেকে নিচে পড়ে যায়। আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে আর বাঁচাতে পারিনি।’

শিশুটির বাবা রেজুয়ানুল আমিন তালুকদার বলেন, ‘ঘরের ভেতরে জমে থাকা পানিতে পড়ে আমার ৯ মাসের সন্তান মারা গেছে। নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে হয়তো বাসার ভেতরে পানি ঢুকত না। আমার সন্তানকেও এভাবে প্রাণ হারাতে হতো না। আমরা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা হাজরা খাতুন (৭৫) বলেন, ‘এত ভারী বৃষ্টি আগে কখনো দেখিনি। রাতের মধ্যেই ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। এবারই প্রথম দেখলাম, জলাবদ্ধতার কারণে ঘরের ভেতরে একটি শিশুর মৃত্যু হলো। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুজাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow