ঘিয়ের বিস্ময়কর এই ৯ উপকারিতা জানেন না অনেকেই

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের অন্যতম মূল্যবান খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয় ঘি-কে, যার রয়েছে অসাধারণ নিরাময় ক্ষমতা। আমাদের প্রতিদিনের ডাল, খিচুড়ি থেকে শুরু করে হালুয়া কিংবা চ্যাপাটিতে ঘি একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভারতের প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শিল্পা অরোরার মতে, আধুনিক রান্নায় ঘিয়ের বদলে চর্বিযুক্ত রিফাইনড অয়েলের ব্যবহার সম্ভবত আমাদের সমসাময়িক জীবনধারার বড় ভুলগুলোর একটি। সম্প্রতি এনডিটিভি ফুডের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ঘিয়ের বহুমুখী গুণাগুণ। ঘি মূলত চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন সমৃদ্ধ, যা শরীরের ওজন কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ঘি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রান্নার ক্ষেত্রে ঘিয়ের একটি বড় সুবিধা হলো এর উচ্চ তাপ সহনক্ষমতা, যার ফলে এটি ফ্রি র‍্যাডিক্যাল তৈরি করে না যা আমাদের কোষের ক্ষতি করতে পারে। গরু বা মহিষের দুধ থেকে তৈরি এই বিশেষ উপাদানটিতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। শুধু রান্নাঘরেই নয়, যুগ যুগ ধরে রূপচর্চাতেও ঘি একটি নির্ভরযোগ্য নাম। ঘিয়ের এমনই কিছ

ঘিয়ের বিস্ময়কর এই ৯ উপকারিতা জানেন না অনেকেই
আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের অন্যতম মূল্যবান খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয় ঘি-কে, যার রয়েছে অসাধারণ নিরাময় ক্ষমতা। আমাদের প্রতিদিনের ডাল, খিচুড়ি থেকে শুরু করে হালুয়া কিংবা চ্যাপাটিতে ঘি একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভারতের প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শিল্পা অরোরার মতে, আধুনিক রান্নায় ঘিয়ের বদলে চর্বিযুক্ত রিফাইনড অয়েলের ব্যবহার সম্ভবত আমাদের সমসাময়িক জীবনধারার বড় ভুলগুলোর একটি। সম্প্রতি এনডিটিভি ফুডের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ঘিয়ের বহুমুখী গুণাগুণ। ঘি মূলত চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন সমৃদ্ধ, যা শরীরের ওজন কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ঘি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রান্নার ক্ষেত্রে ঘিয়ের একটি বড় সুবিধা হলো এর উচ্চ তাপ সহনক্ষমতা, যার ফলে এটি ফ্রি র‍্যাডিক্যাল তৈরি করে না যা আমাদের কোষের ক্ষতি করতে পারে। গরু বা মহিষের দুধ থেকে তৈরি এই বিশেষ উপাদানটিতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। শুধু রান্নাঘরেই নয়, যুগ যুগ ধরে রূপচর্চাতেও ঘি একটি নির্ভরযোগ্য নাম। ঘিয়ের এমনই কিছু বিস্ময়কর উপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলো যা হয়তো আমাদের অনেকেরই অজানা: ১. শরীরের ভেতর থেকে উষ্ণতা জোগায় শীতকালে ঘিয়ের ব্যবহার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে । আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, ঘি খেলে তা শরীরের ভেতর থেকে উষ্ণতা তৈরি করে, তাই শীতকালীন বিভিন্ন খাবার যেমন গাজরের হালুয়া বা মুগ ডালের হালুয়ায় ঘিয়ের ব্যবহার অনেক বেশি দেখা যায়। ২. বন্ধ নাক পরিষ্কার করতে সর্দি বা ঠান্ডায় নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বেশ যন্ত্রণাদায়ক। আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞরা একে 'ন্যাসা' চিকিৎসা বলেন, যেখানে কয়েক ফোঁটা কুসুম গরম খাঁটি ঘি নাকে দিলে বন্ধ নাক দ্রুত পরিষ্কার হয় এবং গলার ইনফেকশন উপশমে সাহায্য করে। ৩. তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস ঘিতে রয়েছে মিডিয়াম এবং শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড, যার মধ্যে লরিক অ্যাসিড অন্যতম শক্তিশালী অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান। এ কারণে এটি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে দারুণ কার্যকর। লডডু বা পিন্নির মতো পুষ্টিকর খাবার তৈরিতে ঘি ব্যবহারের এটি একটি প্রধান কারণ। ৪. উপকারী ফ্যাট বা চর্বি ওজন কমানোর জন্য অনেকে ডায়েট থেকে সব ধরনের ফ্যাট বাদ দেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ঘি হলো একটি উপকারী ফ্যাটের উৎস। শিল্পা অরোরার মতে, ঘি শরীরের কোষ থেকে টক্সিন বের করে দিতে এবং শরীরের ফ্যাট মেটাবলিজম বা চর্বি পোড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে সাহায্য করে। ৫. অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় ঘি হলো বিউটিরিক অ্যাসিডের একটি উচ্চমানের উৎস। এই অ্যাসিডটি অন্ত্রের দেয়াল সুস্থ রাখতে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সরাসরি কাজ করে। কোলনের কোষগুলো শক্তির উৎস হিসেবে এই বিউটিরিক অ্যাসিড ব্যবহার করে থাকে। ৬. খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কমাতে রুটি বা চ্যাপাটিতে ঘি মাখিয়ে খাওয়ার রীতি এ দেশে বহু পুরনো। গবেষণায় দেখা গেছে, রুটিতে ঘি ব্যবহার করলে তা খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কমিয়ে দেয়, ফলে খাবারটি আরও সহজে হজম হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ৭. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ঘি এক মোক্ষম ওষুধ। রাতে ঘুমানোর আগে এক কাপ গরম দুধের সাথে ১ বা ২ চা-চামচ ঘি মিশিয়ে খেলে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে। ৮. হৃৎপিণ্ডের সুস্বাস্থ্যের জন্য সাধারণত ঘি কোলেস্টেরল বাড়ায় বলে যে ধারণা প্রচলিত আছে, তার বিপরীতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—রিফাইনড অয়েলের চেয়ে ঘি হৃৎপিণ্ডের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ। ঘিতে থাকা ফ্যাট সরাসরি শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং শরীরে ফ্যাট হিসেবে জমা হয় না। নিয়মিত পরিমিত ঘি খেলে তা খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। ৯. ত্বকের যত্নে জাদুকরী প্রভাব ঘিয়ের ফ্যাটি অ্যাসিডগুলো ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে ত্বককে সজীব করে তোলে। সব ধরনের ত্বকের জন্যই ঘি উপযোগী এবং এটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ঘি, বেসন ও হলুদের মিশ্রণ দিয়ে তৈরি ফেস মাস্ক অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। সংরক্ষণ টিপস: বাড়িতে তৈরি ঘি সরাসরি সূর্যালোক থেকে দূরে এবং বায়ুরোধী পাত্রে রাখলে অন্তত তিন মাস ভালো থাকে। তাই আজই আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত ঘি যোগ করে এর অবিশ্বাস্য সুফলগুলো লুফে নিন। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow