ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত, সাভারের সাব-রেজিস্ট্রারকে সরিয়ে দিল মন্ত্রণালয়

ঢাকার সাভার সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।  অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর রোববার (০৩ মে) মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) কার্যালয় সূত্র। জানা গেছে, সম্প্রতি সাবরেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দৈনিক কালবেলাসহ একাধিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাকির হোসেনের চাকরির বয়স মাত্র ৯ বছর। তিনি চাকরিতে যোগ দেন ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট। অথচ নামে-বেনামে তার সম্পদের তালিকা পিলে চমকানোর মতো। নামে-বেনামে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। প্রাইজপোস্টিং খ্যাত বর্তমান কর্মস্থল রাজধানীর নিকটবর্তী সাভার ছাড়াও তিনি এর আগে জামালপুরের বকসিগঞ্জ, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং হবিগঞ্জের বানিয়াচং সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত ছিলেন। তবে প্রতিটি কর্মস্থলে হাত খুলে ঘুস কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে

ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত, সাভারের সাব-রেজিস্ট্রারকে সরিয়ে দিল মন্ত্রণালয়

ঢাকার সাভার সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। 

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর রোববার (০৩ মে) মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) কার্যালয় সূত্র।

জানা গেছে, সম্প্রতি সাবরেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দৈনিক কালবেলাসহ একাধিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাকির হোসেনের চাকরির বয়স মাত্র ৯ বছর। তিনি চাকরিতে যোগ দেন ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট। অথচ নামে-বেনামে তার সম্পদের তালিকা পিলে চমকানোর মতো। নামে-বেনামে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। প্রাইজপোস্টিং খ্যাত বর্তমান কর্মস্থল রাজধানীর নিকটবর্তী সাভার ছাড়াও তিনি এর আগে জামালপুরের বকসিগঞ্জ, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং হবিগঞ্জের বানিয়াচং সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত ছিলেন। তবে প্রতিটি কর্মস্থলে হাত খুলে ঘুস কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন বলে তথ্যভিত্তিক অনেক অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া তিনি ‘ম্যানেজ মাস্টার’ নামেও পরিচিত। যাকে যেভাবে বশে আনা দরকার, সে বিষয়ে তিনি বেশ পারদর্শী। আবার যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন সে সরকারের দলীয় লোক বনে যান। যে কারণে আওয়ামী লীগ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তার কোনো বেগ পেতে হয়নি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর সমন্বয়ক কোটায় দাপটের সঙ্গে চাকরি করেন। কাউকে পাত্তা দিতেন না। এখন আবার পুরোদস্তুর বিএনপি সাজার অপচেষ্টা করে যাচ্ছেন। এছাড়া যেখানে চাকরি করেন সেখানে তিনি শুরুতে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বশে এনে ‘প্রটেকশন সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলেন। এই ক্ষমতাবলে সেবাপ্রার্থীসহ অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গেও চরম দুর্ব্যবহার করেন।

অভিযোগ রয়েছে, দলিল প্রতি অফিস খরচের নামে নির্ধারিত কমিশন আদায় ছাড়াও রেজিস্ট্রি অফিসের একশ্রেণির চিহ্নিত দালালদের সহায়তায় তিনি জমির শ্রেণি জালিয়াতি করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। এছাড়া বেশি মূল্যে রেজিস্ট্রি করা বায়না দলিল গোপন করে পরবর্তীতে কমমূল্যে সাব-কবলা দলিল করে চুক্তিবদ্ধ মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তার শক্ত খুঁটি ছিল আইন মন্ত্রণালয়ে। এছাড়া কয়েকজন প্রভাবশালী সাবরেজিস্ট্রার তার নেপথ্যের গডফাদার হিসাবে পরিচিত। যে কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হলে সেটি রহস্যজনক কারণে ধামাচাপা পড়ে। তদবির জোরাল হওয়ায় উলটো জাকির হোসেনকে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তার সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়। 

জানা যায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ এপ্রিল আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মঈনুদ্দিন কাদিরকে এসব অভিযোগের অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৫ দিনের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ অবস্থায় গত ২৬ এপ্রিল তিনি সরেজমিনে সাভারে তদন্তে যান। সরেজমিনে তদন্তকালে মো. মঈনুদ্দিন কাদির ভুক্তভোগী, দলিল লেখক, সাংবাদিক, অভিযুক্ত সাবরেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং সাক্ষ্য নেন। পরে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রোবাবার তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। এখন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে।

উল্লেখ্য, একই ধরনের অভিযোগে ২০২৫ সালের জুন মাসে সাবরেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। ওই সময় আইন ও বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. মাহবুবুর রহমান তদন্ত করলেও পরে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের কোন প্রমাণ খুঁজে পায়নি বলে প্রতিবেদন দেয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow