ঘৃণার পরিবর্তে ভালোবাসা, সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপের আহ্বান নিশীতার

ঘৃণা-বিদ্বেষ ও বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সাম্য ও মানবিকতার বাংলাদেশ এবং সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা। তিনি বলেছেন, ঘৃণার পরিবর্তে মানুষকে ভালোবাসতে হবে এবং সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ করতে হবে। ঘৃণা দিয়ে পৃথিবীতে কোনো কিছু করা যায় না। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘হিরোশিমা ও নাগাসাকি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। আরও পড়ুন নজরুল ইসলাম / জামায়াতের কর্মীদের ইতিহাস ও আদর্শ সম্পর্কে নৈতিক মান উন্নত করতে হবে সেভ দ্য ইয়ুথ ফোরাম ও সাকুরাজাকা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব এস এম জহরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নিতাই রায় চৌধুরী, সেভ দ্য ইয়ুথ ফোরামের চেয়ারম্যান হাজী লায়ন এ সরকার বাবু এবং সাকুরাজাকা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার সেন্টারের চেয়ারম্যান হাজী মোজাম্মেল হক মাসুম। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা

ঘৃণার পরিবর্তে ভালোবাসা, সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপের আহ্বান নিশীতার

ঘৃণা-বিদ্বেষ ও বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সাম্য ও মানবিকতার বাংলাদেশ এবং সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা।

তিনি বলেছেন, ঘৃণার পরিবর্তে মানুষকে ভালোবাসতে হবে এবং সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ করতে হবে। ঘৃণা দিয়ে পৃথিবীতে কোনো কিছু করা যায় না।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘হিরোশিমা ও নাগাসাকি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

সেভ দ্য ইয়ুথ ফোরাম ও সাকুরাজাকা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব এস এম জহরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নিতাই রায় চৌধুরী, সেভ দ্য ইয়ুথ ফোরামের চেয়ারম্যান হাজী লায়ন এ সরকার বাবু এবং সাকুরাজাকা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার সেন্টারের চেয়ারম্যান হাজী মোজাম্মেল হক মাসুম।

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাকে সারা পৃথিবীর জন্য একটি জঘন্যতম ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন নিশীতা।

তিনি বলেন, সেদিন পৃথিবীতে একটি জঘন্যতম ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় নিহত সবাইকে স্মরণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত যারা বহন করেছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জানান।

নিশীতা বলেন, একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হলে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। সাম্য ও মানবিকতার একটি বাংলাদেশ এবং পৃথিবী গড়ে তুলতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ঘৃণার পরিবর্তে আমরা মানুষকে ভালোবাসব, সংঘাতের পরিবর্তে আমরা সংলাপ করব।’ তার ভাষায়, ঘৃণা দিয়ে পৃথিবীতে কোনো কিছু করা যায় না।

নিশীতা অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর শেখ হাসিনা সরকার সারা বাংলাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তার ভাষায়, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র ক্ষতবিক্ষত ছিল। মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেনি এবং আইনের শাসন ছিল না। তিনি গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও ‘দুষ্কৃতির উৎসবের’ অভিযোগও করেন।

নিশীতা বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষকে ডিজিটাল গল্প শুনিয়েছিলেন। তার ভাষায়, সেই ‘ডিজিটাল স্টোরি’ ভয়ংকর দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছিল।

তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ বছর বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারা চূড়ান্ত ফলাফলে গেছেন।

জুলাই আন্দোলনকে কোনো একক ব্যক্তি বা দলের অর্জন হিসেবে দাবি না করার কথাও বলেন নিশীতা। তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি করি না যে এটি বিএনপির বা একক কোনো ব্যক্তির।’ তার মতে, বিএনপির নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, এটি সারা বাংলাদেশের মানুষের অর্জন। বাংলাদেশের মানুষের অর্জন হলো এফএসসি সরকারকে এখান থেকে বিতাড়িত করা।

ভবিষ্যৎ পৃথিবী সম্পর্কে নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে নিশীতা বলেন, আগামী বিশ্বে তারা শান্তি চান, ঘৃণা চান না, সৌহার্দ্য চান। তারা আর কোনো যুদ্ধ চান না। তারা সুন্দর একটি পৃথিবী চান।

তিনি বলেন, ‘আগামী বাংলাদেশ, আগামী পৃথিবী—আসলে বাংলাদেশ বলতে বলতে আমার বাংলাদেশটাই বেশি চলে আসে, বিশ্বটা কমে আসে।’

নিশীতা বলেন, আগামী বিশ্ব একটি সুন্দর বিশ্ব হবে। সেই সুন্দর পৃথিবীর জন্য প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করবেন।

কেএইচ/এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow