চকরিয়া-মাতামুহুরীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল থেকে পানি কমতে শুরু করলেও পানিবন্দি লাখো মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিচ্ছে পানি বাহিত নানা রোগব্যাধি। এখনো অনেক বাড়িতে রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় শুকনো খাবারের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে বানভাসিদের। ভেঙে পড়া যোগাযোগব্যবস্থার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় এখনো অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। মাতামুহুরী নদীর উপচে পড়া ঢলে চকরিয়ার কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, বরইতলী, হারবাং এবং মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, বদরখালী ও কোণাখালীসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি এখনো জলমগ্ন। বেশ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। চকরিয়া পৌরসভা ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন জানান, বন্যায় হাজার হাজা

চকরিয়া-মাতামুহুরীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল থেকে পানি কমতে শুরু করলেও পানিবন্দি লাখো মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিচ্ছে পানি বাহিত নানা রোগব্যাধি। এখনো অনেক বাড়িতে রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় শুকনো খাবারের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে বানভাসিদের। ভেঙে পড়া যোগাযোগব্যবস্থার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় এখনো অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। মাতামুহুরী নদীর উপচে পড়া ঢলে চকরিয়ার কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, বরইতলী, হারবাং এবং মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, বদরখালী ও কোণাখালীসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি এখনো জলমগ্ন। বেশ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

চকরিয়া পৌরসভা ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন জানান, বন্যায় হাজার হাজার একর আমনের বীজতলা, সবজিক্ষেত, মাছের ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচা ও আধাপাকা অসংখ্য বসতঘর ক্ষতির মুখে পড়েছে। গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো ব্যাহত রয়েছে।

শনিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান দুই উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পায়ে হেঁটে ও নৌকায় পরিদর্শন করেন এবং বানভাসিদের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ বিতরণ করেন। 

এদিকে, বন্যা পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি সামাল দিতে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় মোট ৫৪টি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। 

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জয়নাল আবেদীন জানান, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে চকরিয়ায় ৩৩টি এবং মাতামুহুরীতে ২১টি টিম মাঠে কাজ করছে। এ ছাড়া, সাপের কামড় ও গুরুতর জখমিদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ‘র‍্যাপিড রেসপন্স টিম’ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী পরিবারগুলোর পাশাপাশি নিজ বাড়িতে আটকে থাকা মানুষও সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পানি কমতে শুরু করায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্রও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক, মাছচাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, সরকারিভাবে চকরিয়া উপজেলার জন্য ১১৫ টন চাল ও সাড়ে ৬ লাখ টাকা এবং মাতামুহুরী উপজেলার জন্য ৪০ টন চাল ও ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দুই উপজেলায় ২০ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়েছে। এসব সহায়তা এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিও ও সামাজিক সংগঠন ত্রাণ বিতরণ করছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ এবং ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow