চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির (কেন্দ্রীয় মন্দির) উদ্বোধন করা হয়েছে। মন্দিরটি উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত এই মন্দিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় মন্দিরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় হোস্টেল ও লাইব্রেরি নির্মাণের দাবি জানানো হয়। সকাল ৯টায় দেবী পূজা ও বন্দনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল ১০টায় দ্বার-উদ্ঘাটনের মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতা পাঠ করা হয়, অতিথিদের কৃতজ্ঞতা স্মারক তুলে দেওয়া হয় এবং ‘স্মরণিকা-২০২৬ : জ্ঞানমঞ্জরী’ উন্মোচন করা হয়। এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) উৎসবমুখর পরিবেশে মন্দিরটির দ্বারোদ্ঘাটন করা হয়েছিল। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদের যে দর্শন দিয়েছেন ভিন্ন বর্ণ ও গোষ্ঠী বাংলাদেশি পরিচয়ে এগিয়ে যাবে তার অনন্য উদাহরণ এই হাটহাজারি এলাকা। এখানে সবাই সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বসবাস করে এবং সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসে। মন্দির-মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির (কেন্দ্রীয় মন্দির) উদ্বোধন করা হয়েছে। মন্দিরটি উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত এই মন্দিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় মন্দিরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় হোস্টেল ও লাইব্রেরি নির্মাণের দাবি জানানো হয়। সকাল ৯টায় দেবী পূজা ও বন্দনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল ১০টায় দ্বার-উদ্ঘাটনের মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতা পাঠ করা হয়, অতিথিদের কৃতজ্ঞতা স্মারক তুলে দেওয়া হয় এবং ‘স্মরণিকা-২০২৬ : জ্ঞানমঞ্জরী’ উন্মোচন করা হয়। এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) উৎসবমুখর পরিবেশে মন্দিরটির দ্বারোদ্ঘাটন করা হয়েছিল। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদের যে দর্শন দিয়েছেন ভিন্ন বর্ণ ও গোষ্ঠী বাংলাদেশি পরিচয়ে এগিয়ে যাবে তার অনন্য উদাহরণ এই হাটহাজারি এলাকা। এখানে সবাই সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বসবাস করে এবং সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসে। মন্দির-মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এলাকাবাসীরই বেশি ভূমিকা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ১৭ বছর যে কষ্ট করেছি, তা ঐক্যের কারণেই সহ্য করতে পেরেছি। এখন হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ালে কেউ তা গ্রহণ করবে না। আমরা যে স্বপ্নের বাংলাদেশের কথা বলেছি, তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা যে স্বপ্নের বাংলাদেশ বলেছি আশ্বাস দিয়েছি তা ৫ বছরের বাস্তবায়ন করব। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন সহ  নানা কাজ করেছে। আমরা শুধু কথা বলি না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগুলো অর্জন করেছি। আমরা যেভাবে পথ চলেছি সব ধর্ম বন মলে কাজ করব।’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানটি ভিন্নধর্মী। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চার স্থান, এখানে ভিন্নতা থাকাটাই স্বাভাবিক আর সেই ভিন্নতাই অগ্রগতির পথ তৈরি করে। আমরা একটি সহনশীল, সংবেদনশীল, স্থিতিশীল ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে চাই। আমাদের সংবিধানে সবার অধিকার সমানতাই, সংখ্যালঘু সহ সকল শব্দ আমি ব্যবহার করতে চাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘রংধনু জাতিবগঠন আমাদের দর্শন। সকলে আমরা বাংলাদেশি, ভিন্নতা ছাড়া কোনো দেশ হতে পারে। ঐক্য থাকতে হবে, তবে ভিন্নতা থাকবে। মহিলা এমপির ক্ষেত্রে দেখেছেন পাহাড়ি ছিল, সনাতনি ছিল। রংধনু জাতির কথা বললে সবার কথা বলতে হবে। হোস্টেলে বিষয়ে আপনারা প্রোপোজাল দেন আশা করি হবে। মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ.বি.এম. আব্দুস সাত্তার। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য উপাসনালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে উত্তর ক্যাম্পাসে জমি বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সহযোগিতা এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ ও অনুদানে স্থানটি মন্দির নির্মাণের উপযোগী করা হয়। অদুল-অনিতা ট্রাস্টের সম্পূর্ণ অর্থায়নে নির্মিত এই নান্দনিক মন্দিরটির নামকরণ করা হয় ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow