চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত
ঋণখেলাপি সংক্রান্ত জটিলতা ও দাখিলকৃত কাগজপত্রে অস্পষ্টতার কারণে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ জসিমের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (০৪ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্ত নেন। রিটার্নিং অফিস সূত্র জানায়, যাচাইয়ের সময় প্রার্থীর ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে গুরুতর অস্পষ্টতা ও আইনগত জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে রোববার বিকেল চারটায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। মনোনয়ন স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, জসিম উদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক অতীত, আর্থিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন মামলার তথ্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত। জানা যায়, গত ২৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে জসিম উদ্দিন আহমেদ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগের দিন, ২৮ ডিসেম্বর তিনি নিজেই
ঋণখেলাপি সংক্রান্ত জটিলতা ও দাখিলকৃত কাগজপত্রে অস্পষ্টতার কারণে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ জসিমের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (০৪ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্ত নেন।
রিটার্নিং অফিস সূত্র জানায়, যাচাইয়ের সময় প্রার্থীর ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে গুরুতর অস্পষ্টতা ও আইনগত জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে রোববার বিকেল চারটায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মনোনয়ন স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, জসিম উদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক অতীত, আর্থিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন মামলার তথ্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত।
জানা যায়, গত ২৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে জসিম উদ্দিন আহমেদ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগের দিন, ২৮ ডিসেম্বর তিনি নিজেই গণমাধ্যমে তার মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। যদিও বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তখনও আসেনি, তবে দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে তাকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত বলে ধরা হচ্ছিল।
মনোনয়নের খবর প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জসিম উদ্দিনের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, বিভিন্ন সভায় আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রকাশ্যে অবস্থানের ছবি ও ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন ব্যক্তির বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী হওয়া শুধু দলীয় রাজনীতির প্রশ্ন নয়; বরং এটি রাজনৈতিক নৈতিকতা ও আদর্শের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার সময় এক জনসভায় জসিম উদ্দিন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘এই গাছবাড়িয়া ও চন্দনাইশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগসহ দলমত নির্বিশেষে আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপনাদের সঙ্গে থাকব।’
সেই সভায় ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানও দেওয়া হয়, যার ভিডিও সম্প্রতি আবার ভাইরাল হয়েছে। এসব বিষয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
আর্থিক দিক থেকেও জসিম উদ্দিন আহমেদের উত্থান নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই তার সম্পদের পরিমাণ কয়েকশ’ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। জেসিকা গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে তার মালিকানায় কক্সবাজার ও দুবাইয়ের পাঁচ তারকা রামাদা হোটেল, চট্টগ্রামের লালদীঘির মহল মার্কেট, খুলশীর জসিম হিল পার্কসহ একাধিক বড় সম্পত্তি রয়েছে।
ব্যাংকিং সূত্রের তথ্যমতে, পদ্মা ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রায় ৬০ কোটি টাকার ঋণ সুদসহ বেড়ে প্রায় ৮৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা এখনো খেলাপি অবস্থায় রয়েছে। এই ঋণখেলাপি বিষয়টিই মনোনয়ন স্থগিতের প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্যও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডায় হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরে পদ্মা ব্যাংকের ঋণখেলাপি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
এর বাইরে চট্টগ্রামের আলোচিত হৃদয় তরুয়া হত্যা মামলা, জুলাইযোদ্ধা এমদাদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ এবং ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় মধ্যবাড্ডায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর মামলায়ও তার নাম আসামির তালিকায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে জসিম উদ্দিনের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রের মতে, সাবেক দুই আইজিপি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে দীর্ঘদিন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।
মনোনয়ন ঘোষণার পর বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি কীভাবে বিএনপির প্রতীক পেতে পারেন।
এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ জসিমকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এই মনোনয়ন ও তার স্থগিতাদেশ শুধু একটি ব্যক্তির বিষয় নয়, এটি দলীয় নীতি, নির্বাচনী স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং ভোটারদের আস্থার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এখন রিটার্নিং কর্মকর্তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী অবস্থানের দিকেই তাকিয়ে আছে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক মহল।
What's Your Reaction?