চট্টগ্রামে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা, শিক্ষার্থী-পুলিশের ধস্তাধস্তি

চট্টগ্রাম নগরীতে মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা ঘিরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকজনকে আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। সোমবার (১৭ মে) দুপুরে নগরীর টাইগারপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে টাইগারপাস পুলিশ বক্স এলাকায় কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়ো হতে থাকেন। তারা জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি আঁকার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ মাইকিং করে তাদের সরে যেতে বলে। তবে শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা বড় জমায়েত করবে না; তিনজন করে গিয়ে দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকবে। দুপুর ২টার দিকে রং-তুলি নিয়ে কয়েকজন গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় রঙের বালতি থেকে ছিটকে পড়া রং কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীর গায়ে লাগে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ তিনজনকে আটক করে ভ্যানে তোলে। এতে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বেলা আড়াইটার দিকে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিলে

চট্টগ্রামে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা, শিক্ষার্থী-পুলিশের ধস্তাধস্তি
চট্টগ্রাম নগরীতে মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা ঘিরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকজনকে আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। সোমবার (১৭ মে) দুপুরে নগরীর টাইগারপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে টাইগারপাস পুলিশ বক্স এলাকায় কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়ো হতে থাকেন। তারা জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি আঁকার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ মাইকিং করে তাদের সরে যেতে বলে। তবে শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা বড় জমায়েত করবে না; তিনজন করে গিয়ে দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকবে। দুপুর ২টার দিকে রং-তুলি নিয়ে কয়েকজন গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় রঙের বালতি থেকে ছিটকে পড়া রং কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীর গায়ে লাগে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ তিনজনকে আটক করে ভ্যানে তোলে। এতে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বেলা আড়াইটার দিকে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিলে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, টাইগারপাস এলাকায় মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের ৩০ ধারা জারি রয়েছে। তা অমান্য করে ৫০ থেকে ৬০ জন সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে সেখানে জড়ো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, তাদের সরে যেতে বলা হলেও তারা যায়নি। সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের গায়ে রং ছোড়ে। কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এর আগে রোববার রাতে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার পর সোমবার সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত মূল সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শান্তি-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ৩০ ধারার ক্ষমতাবলে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এরমধ্যে সোমবার সকাল ১০টায় টাইগারপাস এলাকায় গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি দিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। তবে সকালে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে দুপুরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সেখানে জড়ো হয়ে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করে। সম্প্রতি টাইগারপাস এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি পিলারে থাকা জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি সাদা ও হলুদ রঙে ঢেকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে রোববার সন্ধ্যায় এনসিপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। পরে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে নিয়ে বক্তব্যের জেরে একই এলাকায় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরাও মিছিল করেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow