চট্টগ্রামে ফিরছে বর্ষবরণের রঙিন দিন
৬ বছর পর স্বরূপে ফিরছে চট্টগ্রামে বর্ষবরণের আনন্দ। আগের মতোই এবার আনন্দ শোভাযাত্রাসহ চিরায়ত সব আয়োজন নিয়ে ফিরছে বিভিন্ন সংগঠন। এসব সংগঠনের আয়োজনে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। ২০১৯ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে নিয়মিতভাবে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ আয়োজন হতো দুদিনব্যাপী। কিন্তু মাঝখানে করোনার হানা, এরপর রমজান মাস থাকায় গত বছর পর্যন্ত সে আয়োজনে ভাটা পড়ে। সীমিত পরিসরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ না থাকায় তা ছিল অনেকটাই রুটিন কর্মসূচি। সংস্কৃতিমনা মানুষজন তবুও প্রাণের তাগিদে অংশ নিতেন সেসব অনুষ্ঠানে। তবে, এবার সে খরা খেটেছে। ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’ —কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী এই পঙ্ক্তিটি নববর্ষে জরাজীর্ণতা ও সব গ্লানি দূর করে নতুন সম্ভাবনার আহ্বান জানায়, চট্টগ্রামে সে জরা’য় যেন কাটতে যাচ্ছে এবার। একসময় চট্টগ্রামের ডিসি হিল ছিল বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রাণকেন্দ্র। তবে, বেশ কয়েক বছর আগে ডিসি হিলে সব ধরনের কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক। পাহাড়ের কোলে জেলা প্রশাসক আর বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবন -এ অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া ডিসি হিল আর খুলেন
৬ বছর পর স্বরূপে ফিরছে চট্টগ্রামে বর্ষবরণের আনন্দ। আগের মতোই এবার আনন্দ শোভাযাত্রাসহ চিরায়ত সব আয়োজন নিয়ে ফিরছে বিভিন্ন সংগঠন। এসব সংগঠনের আয়োজনে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান।
২০১৯ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে নিয়মিতভাবে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ আয়োজন হতো দুদিনব্যাপী। কিন্তু মাঝখানে করোনার হানা, এরপর রমজান মাস থাকায় গত বছর পর্যন্ত সে আয়োজনে ভাটা পড়ে। সীমিত পরিসরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ না থাকায় তা ছিল অনেকটাই রুটিন কর্মসূচি। সংস্কৃতিমনা মানুষজন তবুও প্রাণের তাগিদে অংশ নিতেন সেসব অনুষ্ঠানে। তবে, এবার সে খরা খেটেছে।
‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’ —কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী এই পঙ্ক্তিটি নববর্ষে জরাজীর্ণতা ও সব গ্লানি দূর করে নতুন সম্ভাবনার আহ্বান জানায়, চট্টগ্রামে সে জরা’য় যেন কাটতে যাচ্ছে এবার।
একসময় চট্টগ্রামের ডিসি হিল ছিল বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রাণকেন্দ্র। তবে, বেশ কয়েক বছর আগে ডিসি হিলে সব ধরনের কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক। পাহাড়ের কোলে জেলা প্রশাসক আর বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবন -এ অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া ডিসি হিল আর খুলেনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা বইমেলার জন্য। তবে, এবার স্বয়ং জেলা প্রশাসনের নিজ উদ্যোগে ডিসি হিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সেখানে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবে বিভিন্ন সংগঠন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহর ক্যাম্পাসে (চারুকলা ইনস্টিটিউট) গত কয়েকদিন ধরেই চলছে বর্ষবরণ আয়োজনের কর্মযজ্ঞ। মাঝখানে বরাদ্দ নিয়ে সংকট থাকলেও সেসব কাটিয়ে শনিবার থেকেই পুরোদমে কাজ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার বাজেট নির্ধারণ করার পর আয়োজন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দেয় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চারুকলা ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি।
কেউ শোভাযাত্রার জন্য মোটিফ তৈরি করছেন, কেউ রঙের কাজে ব্যস্ত, আবার কেউ সামগ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন। এ সময় তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীরাও। চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানান, এবারের শোভাযাত্রার জন্য পাঁচটি বড় মোটিফ তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে হাতি, টেপা পুতুলের ঘোড়া, পায়রা, মোরগ ও দোতারা। এসব মোটিফের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখের সকালে প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে বৈশাখী শোভাযাত্রা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেবেন। শোভাযাত্রার পর জারুলতলায় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এদিন চবি প্রশাসনের উদ্যোগে আরও থাকবে কাবাডি ও বলি খেলা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে বৈশাখী মেলা।
শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে বর্ষবরণের বর্ণাঢ্য আয়োজন করবে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ-চট্টগ্রাম। পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী টিটো জানিয়েছেন, ৪৮ বছর ধরে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণ অনুস্ঠানের আয়োজন করে আসছে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ। আগে ডিসি হিলে এ আয়োজন হলেও এবার কেসিদে রোডস্থ শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে হবে কর্মসূচি।
নগরের অন্যতম আয়োজনের আরেকটি হয় সিআরবির শিরীষতলায়। সম্মিলিত বাংলা নববর্ষ উদযাপন মঞ্চ-চট্টগ্রামের উদ্যোগে এ আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাহাবুদ্দিনের বলী খেলাও অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বর্ষবিদায় ও বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদ, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল জোন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুলকীসহ বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
উদীচী চট্টগ্রামের উদ্যোগে ১৪ এপ্রিল নন্দনকানন কাটাপাহাড় লেইনে, বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রামের আয়োজনে বর্ষবরণ উৎসব ১৪ এপ্রিল জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। বোধন আবৃত্তি পরিষদের সহ-সভাপতি আবৃত্তিশিল্পী প্রণব চৌধুরী জানান, বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলবে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আবৃত্তি-সঙ্গীত-যন্ত্রসঙ্গীত-নৃত্য সহ নানান আয়োজনে সাজানো হয়েছে বোধনের বর্ষবরণ উৎসব।
পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে কেন্দ্র করে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে নগরবাসী যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে আনন্দ উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সিএমপি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ, সমন্বিত টহল বৃদ্ধি, ভিড় ব্যবস্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি জোরদার করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সিএমপি কমিশনার নাগরিকদের সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে,পতেঙ্গা সৈকত এলাকায় চট্টগ্রাম সার্বজনীন ‘বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু, বিষু, বিহু, সাংক্রান-২০২৬ উদযাপন কমিটি’র আয়োজনে ১৪ এপ্রিল সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পতেঙ্গা নাগরিক অধিকার ফোরামের আয়োজনে ও টিম পতেঙ্গা এবং পতেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় পতেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বর্ষবরণ ও বৈশাখী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে ১৩-১৪ এপ্রিল।
কাজির দেউড়ি আউটার স্টেডিয়াম মুক্ত মঞ্চে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ, চট্টগ্রাম এর আয়োজনে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে নববর্ষের অনুষ্ঠান।
‘আলপনার রঙে নববর্ষ আবাহন’ শীর্ষক জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, চট্টগ্রাম আয়োজিত শতশিল্পীর অংশগ্রহণে রাজপথে আলপনা অংকন ১৩ এপ্রিল রাত ৮টায় এনায়েতবাজার বৌদ্ধ মন্দির সড়কে। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজনে নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে এনায়েতবাজার মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে ১৪ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
ফুলকি আয়োজিত ছোটদের বৈশাখী মেলা শুরু ১২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টায়। ১৩ এপ্রিল বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থাকবে যুদ্ধবিরোধী মানববন্ধন, তানসেন ও নৃত্যাঞ্জলির পরিবেশনা, জাদু প্রদর্শনী ও মেলা। ১৪ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে রক্তকরবীর পরিবেশনা, ব্রতচারী, ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়ের পরিবেশনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, গল্পের আসর ও মেলা। ছোটদের বৈশাখী মেলায় কুটুমকাটাম, খেলামেলা, আঁকিবুকি, চিত্রপ্রদর্শনী, পুরোনো ব্যবহার্য দ্রব্যের প্রদর্শনী, বইমেলাসহ প্রাঙ্গণজুড়ে থাকছে নানা আয়োজন।
What's Your Reaction?