চট্টগ্রামে বন্যায় লক্ষাধিক পশুপাখির মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৭টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির মৃত্যু হয়েছে। শুধু প্রাণীর মৃত্যুর কারণেই আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। খামার ও পশুখাদ্যের ক্ষতিসহ প্রাণিসম্পদ খাতে মোট প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারা যাওয়া প্রাণীর মধ্যে রয়েছে ৪৬টি গরু, ১২৩টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া, ১ লাখ ১১ হাজার ৯৮টি মুরগি এবং ১ হাজার ৫২১টি হাঁস। বিভাগের ৩৬টি উপজেলার ১৫৬টি ইউনিয়নে গবাদিপশুর খাদ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে ১৮ হাজার ৪৬৮ টন খড়, ঘাস ও দানাদার খাদ্য নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৯২০ টন খড়ের ক্ষতি ১৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, ৬ হাজার ৪৩০ টন কাঁচা ঘাসের ক্ষতি ৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং ১১৮ টন দানাদার খাদ্যের ক্ষতি প্রায় ৭০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। শুধু পশুখাদ্য খাতেই মোট ক্ষতির পরিমাণ ২৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এছাড়া বন্যায় বিভাগের ৩৩টি প্রাণিসম্পদ অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ২ হাজ

চট্টগ্রামে বন্যায় লক্ষাধিক পশুপাখির মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৭টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির মৃত্যু হয়েছে। শুধু প্রাণীর মৃত্যুর কারণেই আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। খামার ও পশুখাদ্যের ক্ষতিসহ প্রাণিসম্পদ খাতে মোট প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারা যাওয়া প্রাণীর মধ্যে রয়েছে ৪৬টি গরু, ১২৩টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া, ১ লাখ ১১ হাজার ৯৮টি মুরগি এবং ১ হাজার ৫২১টি হাঁস। বিভাগের ৩৬টি উপজেলার ১৫৬টি ইউনিয়নে গবাদিপশুর খাদ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে ১৮ হাজার ৪৬৮ টন খড়, ঘাস ও দানাদার খাদ্য নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৯২০ টন খড়ের ক্ষতি ১৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, ৬ হাজার ৪৩০ টন কাঁচা ঘাসের ক্ষতি ৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং ১১৮ টন দানাদার খাদ্যের ক্ষতি প্রায় ৭০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। শুধু পশুখাদ্য খাতেই মোট ক্ষতির পরিমাণ ২৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

এছাড়া বন্যায় বিভাগের ৩৩টি প্রাণিসম্পদ অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ২ হাজার ১২৬ একর চারণভূমি প্লাবিত হয়েছে এবং ৬৫টি খামারের ৮৩০টি পশুপাখি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খামার সংক্রান্ত এসব ক্ষতিতে প্রায় ৭২ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। এখানে ৩৫টি গরু, ৮৭টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া, ১ লাখ ৩৯৫টি মুরগি এবং ১ হাজারটি হাঁস মারা গেছে। প্রাণীর মৃত্যুর কারণে ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং খাদ্য ও খামারসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ ২৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা। কক্সবাজারে ৮টি গরু, ১২টি ছাগল, ৭ হাজার ৫০৩টি মুরগি ও ৫২১টি হাঁস মারা গেছে। সেখানে প্রাণীর মৃত্যুর কারণে ক্ষতি হয়েছে ৭৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং মোট ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

বান্দরবানে ১টি গরু, ১০টি ছাগল ও ১ হাজারটি মুরগির মৃত্যু হয়েছে। সেখানে প্রাণীর মৃত্যুর কারণে ক্ষতি হয়েছে ৫ লাখ টাকা এবং মোট ক্ষতির পরিমাণ ১২ লাখ টাকা। রাঙ্গামাটিতে ১টি গরু, ১১টি ছাগল ও ১ হাজার ৫০০টি মুরগি মারা গেছে। প্রাণীর মৃত্যুর কারণে ক্ষতি হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং মোট ক্ষতির পরিমাণ ১৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। খাগড়াছড়িতে ৩টি ছাগল ও ৭০০টি মুরগির মৃত্যু হয়েছে। সেখানে প্রাণীর মৃত্যুর কারণে ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং মোট ক্ষতির পরিমাণ ১৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বন্যায় ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০টি মুরগি, ১৫ হাজার ৬০০টি হাঁস, ৮০ হাজার ৩২০টি গরু, ৩২৫টি মহিষ, ৬০ হাজার ৫০০টি ছাগল এবং ১০ হাজার ৩১০টি ভেড়া আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬০টি গবাদিপশু ও ২৫টি হাঁস-মুরগির খামার। গবাদিপশুর খামারের মধ্যে বাঁশখালীতে ২২টি, পটিয়ায় ২০টি, সাতকানিয়ায় ১৫টি, হাটহাজারীতে ৩টি এবং সন্দ্বীপ, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, চন্দনাইশ ও লোহাগড়ায় ২টি করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাঁস-মুরগির খামারের মধ্যে বাঁশখালীতে ৭টি, সাতকানিয়ায় ৬টি, ফটিকছড়িতে ৪টি, হাটহাজারী ও চন্দনাইশে ৩টি করে এবং কর্ণফুলীতে ২টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে বাঁশখালীতে ১২ হাজার ৫১০টি গরু, ৮ হাজার ২৩০টি ছাগল ও ১ লাখ ৫৫টি মুরগি আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ১২টি গরু, ৩৯টি ছাগল ও ২০ হাজার ২০০টি মুরগি। সাতকানিয়ায় ১১ হাজার ৯৮০টি গরু ও ৯ হাজার ৬৫০টি ছাগল আক্রান্ত হয়েছে; মারা গেছে ৮টি গরু ও ৩৯টি ছাগল। এছাড়া সন্দ্বীপে ৩টি, আনোয়ারায় ৪টি, হাটহাজারীতে ৩টি, কর্ণফুলীতে ২টি, পটিয়ায় ২টি এবং মীরসরাইয়ে ১টি গরুর মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর জানান,‘বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় যে হিসাব এসেছে, তা আরও বাড়তে পারে। অনেক মুরগির খামার নষ্ট হয়েছে। গোয়ালঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গরু-ছাগলের খাদ্য নষ্ট হয়েছে। অনেক খামারি দুধ বিক্রি করতে পারছেন না, আবার দুধ উৎপাদনও কমে গেছে।’

তিনি বলেন,‘বন্যাকবলিত মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও গবাদিপশুর খাদ্যের বিষয়টি এখনও যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। অনেক আশ্রয়কেন্দ্রে গরু থাকলেও তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা নেই। বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow