চট্টগ্রামে বেড়েছে স্কুল, কমেছে এসএসসি পরীক্ষার্থী

গতবছরের তুলনায় এবার চট্টগ্রামে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। অথচ, অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে ৫৪টি। পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার সংখ্যাও কম নয়, ১০ হাজার ৫জন। তার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় পরীক্ষার্থী কমেছে ৬ হাজার ৭৯৯ জন। গত বছর এ শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৭৩ শিক্ষার্থী। আর এ বছর অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন। কমে যাওয়া পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৩২৭, ছাত্রী ৪ হাজার ৬৭৮ জন। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম জেলায় পরীক্ষার্থী ৯২ হাজার ২৯৬ জন, কক্সবাজারে ১৮ হাজার ৯১৪, রাঙামাটিতে ৭ হাজার ৪১৬, খাগড়াছড়িতে ৮ হাজার ৬৯ এবং বান্দরবানে ৩ হাজার ৯৭৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৭৬টি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও দুর্গম এলাকাগুলোতে নজরদারি অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যেই ঘন ঘন লোডশেডিং নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে পরীক্ষার্থী ও

চট্টগ্রামে বেড়েছে স্কুল, কমেছে এসএসসি পরীক্ষার্থী

গতবছরের তুলনায় এবার চট্টগ্রামে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। অথচ, অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে ৫৪টি। পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার সংখ্যাও কম নয়, ১০ হাজার ৫জন। তার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় পরীক্ষার্থী কমেছে ৬ হাজার ৭৯৯ জন। গত বছর এ শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৭৩ শিক্ষার্থী। আর এ বছর অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন। কমে যাওয়া পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৩২৭, ছাত্রী ৪ হাজার ৬৭৮ জন।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম জেলায় পরীক্ষার্থী ৯২ হাজার ২৯৬ জন, কক্সবাজারে ১৮ হাজার ৯১৪, রাঙামাটিতে ৭ হাজার ৪১৬, খাগড়াছড়িতে ৮ হাজার ৬৯ এবং বান্দরবানে ৩ হাজার ৯৭৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৭৬টি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও দুর্গম এলাকাগুলোতে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

এর মধ্যেই ঘন ঘন লোডশেডিং নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। আগামীকাল ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে এমন পরিস্থিতিকে ‘দ্বিমুখী চাপ’ হিসেবে দেখছেন অভিভাবকেরা।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিনে গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। অনেক সময় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কারণে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও স্কুল শিক্ষার্থীদের বেগ পেতে হচ্ছে বেশি।

চকবাজার, বহদ্দারহাট, বাকলিয়া, পাঁচলাইশ, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকায় ভ্যাপসা গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পিডিবি চট্টগ্রাম সূত্র জানায়, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন কমে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না।

হঠাৎ বেড়ে যাওয়া লোডশেডিংয়ে বড় ভবন ও কোচিং সেন্টারগুলো জেনারেটর চালাচ্ছে। অনেক পরিবার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আইপিএস ব্যবহার করছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে। চান্দগাঁওয়ের সিডিএ পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থী রাহাত মনোয়ারের মা হোসনে আরা বলেন, জেনারেটর বা আইপিএস কেনার সামর্থ্য নেই। বাচ্চা অন্ধকারে বসে থাকে। পড়ার জন্যও চাপ দিতে পারি না, গরমে অবস্থা বেগতিক।

পিডিবি চট্টগ্রামের সুপারভাইজার কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা অ্যাকুইজিশন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান কালবেলাকে বলেন, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণে বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে লোডশেডিং ওঠানামা করছে বলেও তিনি জানান।

চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, চাহিদা ছিল প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬০০ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং অনিবার্য হয়ে উঠেছে। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাত্র একটি ইউনিট চালু রয়েছে, যেখান থেকে ৪০-৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে পাঁচটি ইউনিট চালু করে ২২০-২৪০ মেগাওয়াট উৎপাদনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রধান নির্বাহী বরাবরে চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের সচিব প্রফেসর জহিরুল হক স্বপন স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে ২০ মে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow