চট্টগ্রামে মিছিল করলো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, আসামি হলেন দুই কাতার প্রবাসী
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে অবস্থান করেও চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দুই প্রবাসীকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে মোহাম্মদ অভি প্রায় তিন বছর এবং আব্দুল্লাহ ইব্রাহীম আবির প্রায় ৬ মাস কাতারের দোহায় রয়েছেন। গত ৪ জুন চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় মো. আরিফ নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি (মামলা নং-৯) দায়ের করেন। ওই মামলায় ৬৯ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তানভীর তালুকদার পারভেজ আনছারীর নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন। তারা গত ৩ জুন ভোরে হাটহাজারীর শিকারপুর ইউনিয়নের অনন্যা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনের রাস্তায় লাঠিসোঁটা নিয়ে ঝটিকা মিছিল করেন। এজাহার অনুযায়ী, মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন সরকারবিরোধী ও উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাস, পুলিশি হয়রানি এবং রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দ
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে অবস্থান করেও চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দুই প্রবাসীকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে মোহাম্মদ অভি প্রায় তিন বছর এবং আব্দুল্লাহ ইব্রাহীম আবির প্রায় ৬ মাস কাতারের দোহায় রয়েছেন।
গত ৪ জুন চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় মো. আরিফ নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি (মামলা নং-৯) দায়ের করেন। ওই মামলায় ৬৯ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তানভীর তালুকদার পারভেজ আনছারীর নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন। তারা গত ৩ জুন ভোরে হাটহাজারীর শিকারপুর ইউনিয়নের অনন্যা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনের রাস্তায় লাঠিসোঁটা নিয়ে ঝটিকা মিছিল করেন।
এজাহার অনুযায়ী, মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন সরকারবিরোধী ও উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাস, পুলিশি হয়রানি এবং রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিয়ে জনমনে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী আরও দাবি করেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ও তার সংগঠনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মিছিলকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে আসামিরা পালিয়ে যান। আসামিদের পরিচয় শনাক্ত ও তথ্য সংগ্রহ করতে সময় লাগায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলাটিতে ৫৪নং আসামি হাটহাজারী থানার দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আকবরিয়া পুরাতন বহদ্দার বাড়ির মৃত মুহাম্মদ বাবুলের ছেলে মোহাম্মদ অভি। এছাড়া ৬৮নং আসামি হাটহাজারীর শিকারপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মোহছেন আলী সওদাগর বাড়ির আবু আলমের ছেলে আবদুল্লাহ আল আবির। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহাম্মদ অভি তিন বছর ধরে এবং আবদুল্লাহ আল আবির প্রায় ৬ মাস ধরে কাতারের দোহায় রয়েছেন।
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে নিষিদ্ধ যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে হাজারো নেতাকর্মী, সরে গেল পুলিশ
এ ব্যাপারে আবদুল্লাহ আল আবিরের বাবা আবু আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। আমি আওয়ামী লীগ করি। শিকারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে একসময় ২৫ বছর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। এখন কোনো পদ-পদবিতে নেই। আমার ছেলে আবির ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওয়ার্ক ভিসায় কাতার গেছে। সে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ-তে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া। তারও (আওয়ামী লীগে) কোনো পদ-পদবি ছিল না। কিন্তু আমার ছেলেও আমার মতো একই পথের পথিক। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার ছেলে এখন কাতারে। চাইলেও তো এখানে আদালতে হাজির হতে পারবে না। পুলিশ চাইলে ডকুমেন্ট হাজির করবো আর কী।’
এদিকে, জাগো নিউজের হাতে আসা কাতার প্রবাসী মোহাম্মদ অভির এক ভিত্তিও বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি অভি। আমার বাড়ি হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা। আমি কাতারে আসছি আজ তিন বছর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কয়েকবার দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু পারিনি। বৃহস্পতিবার শিকারপুরে যে মিছিল হয়েছে, তাতে না থাকা সত্ত্বেও আমাকে ৫৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে।’
ওই ভিত্তিও বক্তব্যে অভিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘ভুয়া মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে ছাত্রলীগকে দমিয়ে রাখা যাবে না। ছাত্রলীগ আমরা করেছি এবং করছি। তবে আমরা কখনো কারও সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াইনি, সামনেও ইনশাআল্লাহ দাঁড়াবো না। ইনশাআল্লাহ শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে।’
এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে শুক্রবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলার বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। এসময় দুই কাতার প্রবাসীকে মামলার আসামি করার বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে ‘পরে কথা বলবো’ বলে লাইন কেটে দেন।
কথা হয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাটহাজারী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘শিকারপুর ইউনিয়নে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল করা নিয়ে একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি আমি তদন্ত করছি। আসামিদের তথ্য সংগ্রহ করছি।’
দুই যুবক কাতারে অবস্থানের পরেও মামলার আসামি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কেউ যদি কাতারে থাকেন, তাদের সংশ্লিষ্টতা তো আর আসবে না।’
এমডিআইএইচ/কেএসআর
What's Your Reaction?