চরজুড়ে হলদে রঙের হাসি, সূর্যমুখী চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষক
পদ্মার বুকে জেগে ওঠা চরের বালুকাময় জমিতে এখন আর শুধুই ধূসরতা নয়— চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে হলদে রঙের উচ্ছ্বাস। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলে সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেত যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা এক উজ্জ্বল স্বপ্ন। সারিসারি দাঁড়িয়ে থাকা সূর্যমুখী ফুলের গাছগুলো সূর্যের দিকে মুখ তুলে আছে। একেকটি ফুল যেন হাসিমুখে আলোর কিরণ ছড়াচ্ছে। গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মাদারপুর গ্রামের নিচে পদ্মার জেগে ওঠা চরে কৃষক ইসমাইল হোসেনের ৩৩ শতক জমির একটি প্রদর্শনী প্লটে গিয়ে চোখ জুড়িয়ে যায়। হলুদ ফুল আর সবুজ পাতার মিতালি দৃশ্য দেখে আশপাশের এলাকা থেকেও ভিড় করছেন অনেকে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ দাঁড়িয়ে দেখছেন এই নতুন সম্ভাবনার ফসল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশের চর এলাকায় “আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প”-এর আওতায় গোদাগাড়ী পৌরসভাসহ চর আষাড়িয়াদহ এলাকায় সূর্যমুখী চাষ হচ্ছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চরাঞ্চলের প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য একটাই- পতিত ও নবজাগ্রত চরের জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের
পদ্মার বুকে জেগে ওঠা চরের বালুকাময় জমিতে এখন আর শুধুই ধূসরতা নয়— চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে হলদে রঙের উচ্ছ্বাস। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলে সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেত যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা এক উজ্জ্বল স্বপ্ন।
সারিসারি দাঁড়িয়ে থাকা সূর্যমুখী ফুলের গাছগুলো সূর্যের দিকে মুখ তুলে আছে। একেকটি ফুল যেন হাসিমুখে আলোর কিরণ ছড়াচ্ছে।
গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মাদারপুর গ্রামের নিচে পদ্মার জেগে ওঠা চরে কৃষক ইসমাইল হোসেনের ৩৩ শতক জমির একটি প্রদর্শনী প্লটে গিয়ে চোখ জুড়িয়ে যায়। হলুদ ফুল আর সবুজ পাতার মিতালি দৃশ্য দেখে আশপাশের এলাকা থেকেও ভিড় করছেন অনেকে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ দাঁড়িয়ে দেখছেন এই নতুন সম্ভাবনার ফসল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশের চর এলাকায় “আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প”-এর আওতায় গোদাগাড়ী পৌরসভাসহ চর আষাড়িয়াদহ এলাকায় সূর্যমুখী চাষ হচ্ছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চরাঞ্চলের প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য একটাই- পতিত ও নবজাগ্রত চরের জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের আয়ের নতুন পথ খুলে দেওয়া।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ওবাইদুল্লাহ বলেন, সূর্যমুখী একটি লাভজনক তৈলবীজ ফসল। প্রায় ৯০ দিনের মধ্যেই ফসল ওঠে। এখানে আরডিএস-২৭৫ জাতের সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে, যা স্বল্প সময়ে ভালো ফলন দেয়।
তিনি আরও বলেন, সূর্যমুখী শুধু লাভজনকই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। সূর্যমুখী তেল হৃদরোগীদের জন্য উপকারী। এ কারণে বাজারে এর চাহিদাও বাড়ছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলে সূর্যমুখী চাষের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর তত্ত্বাবধানে ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ ও প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আরডিএস-২৭৫ জাতের সূর্যমুখী স্বল্প সময়ে ফলন দেয় এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে ভালো উৎপাদন সম্ভব। প্রদর্শনী প্লট দেখে ইতোমধ্যে অনেক কৃষক আগ্রহ দেখিয়েছেন। আশা করছি, আগামী মৌসুমে সূর্যমুখী চাষ আরও বিস্তৃত হবে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হবেন।
একসময় যে চর ছিল অনাবাদি আর অনিশ্চিত জীবিকার প্রতীক, আজ সেখানে সূর্যমুখীর হলুদ রঙে রাঙা হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। কৃষকদের চোখে মুখে ফুটে উঠছে আশার আলো-এই আলোই হয়তো বদলে দেবে চরাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র।
What's Your Reaction?