চলতি মাসে ময়মনসিংহে মেডিকেলে ২২০ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি, মৃত্যু ৫

ময়মনসিংহে বর্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১২৬ জন, সেখানে জুলাই মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই ভর্তি হয়েছেন ২২০ জন। অর্থাৎ বছরের মোট ভর্তি রোগীর প্রায় ৬৪ শতাংশই এসেছে চলতি মাসে। হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৪৬ জন রোগী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে একজন, জুনে তিনজন এবং জুলাইয়ে একজন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত বছরও একই সময়ে পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী এবং মারা যান একজন। পরে আগস্ট থেকে ডিসেম্বর, এই পাঁচ মাসেই ভর্তি হন ২ হাজার ২২৭ জন এবং মৃত্যু হয় ২৮ জনের। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্

চলতি মাসে ময়মনসিংহে মেডিকেলে ২২০ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি, মৃত্যু ৫

ময়মনসিংহে বর্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১২৬ জন, সেখানে জুলাই মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই ভর্তি হয়েছেন ২২০ জন। অর্থাৎ বছরের মোট ভর্তি রোগীর প্রায় ৬৪ শতাংশই এসেছে চলতি মাসে।

হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৪৬ জন রোগী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে একজন, জুনে তিনজন এবং জুলাইয়ে একজন রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত বছরও একই সময়ে পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী এবং মারা যান একজন। পরে আগস্ট থেকে ডিসেম্বর, এই পাঁচ মাসেই ভর্তি হন ২ হাজার ২২৭ জন এবং মৃত্যু হয় ২৮ জনের।

বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছেন ১০ জন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জন।

২০ শয্যার ওয়ার্ডে ৩৯ রোগী

রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় ২ জুলাই থেকে হাসপাতালের পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। তবে ২০ শয্যার ওই ওয়ার্ডে বুধবার সকাল পর্যন্ত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ৩৯ জন রোগী। ফলে অনেককেই মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সদের তথ্য অনুযায়ী, ২ জুলাই থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ওই ওয়ার্ডে ২৪২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০৩ জন ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা। ভর্তি রোগীদের প্রায় ৫৬ শতাংশই ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকার। সবচেয়ে বেশি রোগী এসেছেন নওমহল, আকুয়া মাদরাসা কোয়ার্টার ও বাউন্ডারি রোড এলাকা থেকে।

নগরের ছয় ওয়ার্ড স্পেশাল জোন

ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি বিবেচনায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নগরের ৬, ১০, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডকে স্পেশাল জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত নগরে মাত্র চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও জুনে আক্রান্ত হন আটজন। আর ২১ জুলাই পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৫৮ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছর নগরে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ জন। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ছয়টি ওয়ার্ডকে স্পেশাল জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় দিনে দুই দফা মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফগিংয়ের পাশাপাশি লার্ভা ধ্বংসে স্প্রে করা হচ্ছে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

তবে নগরের নওমহল, আকুয়া ও আশপাশের বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হলেও মশার উপদ্রব কমেনি।

আকুয়া দরবার শরিফ রোড এলাকার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক আবদুল আউয়াল জানান, আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার পর জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে হলেও পরে পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তার প্লাটিলেট নেমে আসে ৬৮ হাজারে।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রাকিব হোসেন কাজের জন্য গাজীপুরে গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় তাকে চার ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাইনউদ্দিন খান বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত রাখতে হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে।

উপজেলাগুলোতেও বাড়ছে সংক্রমণ

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাইরে জেলার ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ২২ জুলাই পর্যন্ত ৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে পাঁচজন ভর্তি রয়েছেন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় জেলার সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের মতো পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আগেই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে আগামী কয়েক মাসে আক্রান্তের সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়তে পারে।

হোসাইন সুলভ/এনএইচআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow