চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত) ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সরেজমিন তদন্ত করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-২ শাখা থেকে জারি করা স্মারক নং-৪৬.০০.০০০০.০৭১.২৭.০২৬.২০২৬ (অংশ-১)-৩১৭-এর মাধ্যমে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্মারকে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সরেজমিন তদন্ত করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখের ৪৬.০০.০০০০.০৭১.২৭.০২৬.২০২৬ (অংশ-১)-৩১৪ নম্বর স্মারকে জারিকৃত পত্রটি বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করতেই তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০১৭ সালে চাকরি থেকে অব্যাহতি, পরে চাকরিতে প্রত্যাবর্তন, ২০২০ সালে পদোন্নতি, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহণ, প্রশাসনিক বদলি, পুনরায় চট্টগ্রামে পদায়ন এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ- এক দশক ধরে এই দম্পতিকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে।
নতুন করে বিষয়টি সামনে আসে ২৫ জুন। ওই দিন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা/মন্ত্রী বরাবর চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে মেহেদী চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি একটি লিখিত আবেদন জমা দেন।
ওই আবেদনে মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে তাদের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাইরে বদলি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ফাইল বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও করা হয়। অতীতে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে আবেদনকারী দাবি করেন।
একই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে স্মারক নম্বর ৪৬.০০.০০০০.০০০.০৭০.১৩.০০২.২৩-৯৫২ জারি করে। এতে প্রশাসনিক কারণে মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে বরিশাল সিটি করপোরেশনে নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে বদলি করা হয়।
ওই আবেদনে দাবি করা হয়, বরিশাল সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পদোন্নতি পান। সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে পূর্বে উঠেছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ২০১৭ সালে এক সংখ্যালঘু কর্মকর্তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে আবেদনে দাবি করা হয়। তবে পরে উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি চাকরিতে ফিরে আসেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখার ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে প্রশাসনিক কারণে মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে বরিশাল সিটি করপোরেশনে নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে বদলি করা হয়। একই আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাশেমকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য করা হবে। বদলি হওয়া কর্মকর্তারা নতুন কর্মস্থল থেকেই বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন এবং তাদের জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি ও অবসর সুবিধা মূল কর্মস্থলের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
একই প্রজ্ঞাপনে রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ঝুলন কুমার দাশকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) হিসেবে পদায়নের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। বদলির প্রায় দুই মাস পর ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে একটি পত্র পাঠান।
ওই চিঠিতে বলা হয়, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের কারণে চসিকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হয়েছে। এতে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারিভাবে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ের চারটি জিওবি প্রকল্প এবং একটি বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকৌশলী সংকটের কারণে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে বদলি হওয়া দুই প্রকৌশলীকে পুনরায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ফিরিয়ে আনার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
আবেদনকারী মেহেদী চৌধুরীর দাবি, ওই প্রক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী পুনরায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে যোগ দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এদিকে, ২০২৬ সালের ২৫ জুন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংস্থাপন শাখা থেকে জারি করা স্মারক নম্বর ৪৬.১১.১৬০০.০০১.৩১.৭২৫.২০১৮-১০৮২-তে জানানো হয়, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুরকৌশল) মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন।
ওই আবেদনে তিনি ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অথবা বিদেশ গমনের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অনুমতি প্রার্থনা করেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন আবেদনটি সুপারিশসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠান। তবে এত বছর পরে এই সময়ে এসে বিদেশ গমনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে মন্ত্রণালয়, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন অঙ্গনে।
তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব আরিফুর রহমান কালবেলাকে বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের নির্দেশের একটি কপি পেয়েছি। এটি সরেজমিন তদন্ত করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব তদন্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তাই বিষয়টি অতিগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তদন্তের আগে বিস্তারিত বলা যাবে না।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তা ছাড়া মেসেজ দিয়েও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, এই বয়সে এসে তার বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না বা অবৈধ সম্পদ রক্ষার জন্য তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন কি না। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী মহলে আলোচনা চলছে। তা ছাড়া অফিসে গ্রুপিং করে অফিসের পরিবেশ নষ্ট করে এবং সবাইকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অফিসের কাজের ব্যাঘাত ঘটায়।
সম্প্রতি তিনি কয়েকজন কর্মকর্তার নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, পরে চসিক কমিটি গঠন করে তদন্ত করে দেখে অভিযোগ ভিত্তিহীন। নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ চাকরি বিধির পরিপন্থি। এতে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা চসিক নেয়নি।
শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীর কর্মজীবন শুরু হয় চসিকের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলামের সুপারিশে, যেখানে তিনি প্রথমে দৈনিক বেতনের ভিত্তিতে বিল্ডিং সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অস্থায়ী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে উন্নীত করা হয়। শিক্ষানবিশ অবস্থান থেকে দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে তিনি ২০২৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে দুই ধাপ উপরে উঠে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে নিযুক্ত হন। এ ধরনের অস্বাভাবিক দ্রুত পদোন্নতি সহকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করে।
অভিযোগ রয়েছে, তুলনামূলক কম সময়ে ধারাবাহিক পদোন্নতি পেয়ে তিনি ২০২৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান। এ নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া দম্পতির সম্পদ নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় প্রায় ৫ কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট, উচ্চমূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি, সন্তানদের ব্যয়বহুল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা, বোয়ালখালী উপজেলায় জমি, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। আবেদনে আত্মীয়দের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ ক্রয় ও অর্থ পাচারের অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনিক ও প্রকৌশলী সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, দম্পতির পদোন্নতি ও সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়গুলো নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। তাদের প্রভাবের কারণে প্রকৌশল বিভাগের কার্যক্রম, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।