চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের প্রতি সতর্কবার্তা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও মাঠে নামবেন অসংখ্য মৌসুমী ব্যবসায়ী। বড় লাভের আশায় না বুঝে চামড়া কেনাবেচায় নামলে লোকসানের ঝুঁকি থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, চামড়া সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বাজার পরিস্থিতি বুঝে ব্যবসায় নামা উচিত। প্রতিবছর ঈদের সময় দ্রুত লাভের আশায় অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী চামড়া ব্যবসায় যুক্ত হন। কিন্তু চামড়া সংরক্ষণ, মান ও বাজারদর সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় শেষ পর্যন্ত অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়েন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ বছর দেশে এক কোটির বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হবে। ট্যানারিমালিকেরা ৭৫ থেকে ৮০ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছেন। এর মধ্যে শুধু রাজধানীতে কোরবানি হওয়া মোট চামড়ার প্রায় ৮০ শতাংশ সরাসরি সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বছর ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ থেকে ২৫ টাকা। বাংলাদেশের কাঁচা চাম

চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের প্রতি সতর্কবার্তা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও মাঠে নামবেন অসংখ্য মৌসুমী ব্যবসায়ী। বড় লাভের আশায় না বুঝে চামড়া কেনাবেচায় নামলে লোকসানের ঝুঁকি থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চামড়া সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বাজার পরিস্থিতি বুঝে ব্যবসায় নামা উচিত। প্রতিবছর ঈদের সময় দ্রুত লাভের আশায় অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী চামড়া ব্যবসায় যুক্ত হন। কিন্তু চামড়া সংরক্ষণ, মান ও বাজারদর সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় শেষ পর্যন্ত অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়েন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ বছর দেশে এক কোটির বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হবে। ট্যানারিমালিকেরা ৭৫ থেকে ৮০ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছেন। এর মধ্যে শুধু রাজধানীতে কোরবানি হওয়া মোট চামড়ার প্রায় ৮০ শতাংশ সরাসরি সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বছর ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ থেকে ২৫ টাকা।

বাংলাদেশের কাঁচা চামড়া আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী আড়তগুলো চামড়া কিনবে। পশু বড় না ছোট, সেটি বিবেচনায় নেওয়া হবে না; বরং বর্গফুট হিসাবেই দাম নির্ধারণ করা হবে। তাই বাজার পরিস্থিতি না বুঝে বেশি দামে চামড়া কিনলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, চামড়া সংগ্রহের পর যত দ্রুত সম্ভব আড়তে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। কারণ দ্রুত লবণ দিলে চামড়ার মান ভালো থাকে। বেশি সময় ফেলে রাখলে চামড়ার মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দামও কমে যায়।

ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াত উল্লাহও বলেন, ‘বেশি লাভের আশায় অনেকেই চামড়া ধরে রাখেন। কিন্তু এতে লাভের চেয়ে ক্ষতির ঝুঁকিই বাড়ে। সন্ধ্যার মধ্যে চামড়া বিক্রি করা গেলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া সম্ভব। কারণ রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চামড়ার মান ও দাম দুটোই কমতে থাকে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার চামড়া খাতে নগদ অর্থের সংকটও রয়েছে। ট্যানারিগুলোর বকেয়া, ঋণসংকট ও বাজারের চাপের কারণে পুরো খাতেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে-বুঝে চামড়া কেনা, দ্রুত সংরক্ষণ করা এবং সময়মতো বিক্রি করা। তাদের মতে, লাভের আশায় ঝুঁকি না নিয়ে পরিকল্পনা করে এগোলে ক্ষতির আশঙ্কা কমবে।

বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, প্রান্তিক পর্যায়ের চামড়া সংগ্রহকারীরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান সে বিষয়ে সরকার কঠোর নজরদারিতে থাকবে। প্রয়োজনে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপও করবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow