চালু হতে পারে সম্পদ কর, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমানোর আশ্বাস
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আসন্ন বাজেটের আকার বড় হলেও করছাড় সুযোগ কমার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিতে নেওয়া হবে পদক্ষেপ। আসন্ন বাজেটে করছাড়ে স্বস্তি নাও পেতে পারেন ব্যবসায়ীরা। তবে, বাজেটে রিটার্ন দাখিল ও অডিট সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ থাকছে। সীমিত আকারে চালু হতে পারে সম্পদ কর। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০ বছর পর জাতীয় সংসদে বাজেট দিতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) মাসব্যাপী প্রাক-আলোচনা শেষ হয়েছে। সারাদেশের ব্যবসায়ীদের দাবি ও প্রস্তাব শুনেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। ব্যবসায়ীদের করছাড়ের সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও ভোগান্তি কমানোর আশ্বাস। পুরোপুরি অনলাইনে করপোরেট রিটার্ন প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার কোম্পানি করদাতা রিটার্ন জমা দেন। গত বছরের আগস্ট থেকে প্রায় সব ধরনের করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করে এনবিআর। চল
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আসন্ন বাজেটের আকার বড় হলেও করছাড় সুযোগ কমার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিতে নেওয়া হবে পদক্ষেপ।
আসন্ন বাজেটে করছাড়ে স্বস্তি নাও পেতে পারেন ব্যবসায়ীরা। তবে, বাজেটে রিটার্ন দাখিল ও অডিট সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ থাকছে। সীমিত আকারে চালু হতে পারে সম্পদ কর। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০ বছর পর জাতীয় সংসদে বাজেট দিতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) মাসব্যাপী প্রাক-আলোচনা শেষ হয়েছে। সারাদেশের ব্যবসায়ীদের দাবি ও প্রস্তাব শুনেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। ব্যবসায়ীদের করছাড়ের সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও ভোগান্তি কমানোর আশ্বাস।
পুরোপুরি অনলাইনে করপোরেট রিটার্ন
প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার কোম্পানি করদাতা রিটার্ন জমা দেন। গত বছরের আগস্ট থেকে প্রায় সব ধরনের করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করে এনবিআর। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বড় অঙ্কের করপোরেট কর ও ভ্যাট পরিশোধের সুবিধা চালু করেছে সংস্থাটি। আগামী অর্থবছর থেকে পুরোপুরি অনলাইনে করপোরেট কর চালু করতে চায় সরকার। এজন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এতে কর অফিসে ব্যবসায়ীদের যাতায়াত কমবে। কমবে ভোগান্তিও।
সমন্বিত অডিট ব্যবস্থা
এসবের পাশাপাশি একবার কর নিরীক্ষা, একবার ভ্যাট নিরীক্ষা না করে প্রতিষ্ঠানের জন্য সমন্বিত অডিট ব্যবস্থা চালু হতে পারে। বর্তমানে ম্যানুয়াল নিরীক্ষা বন্ধ হয়ে আছে। ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৭৩ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত হয়েছে।
আরও পড়ুন
এনবিআর ভেঙে দুই বিভাগ: অধ্যাদেশ যাচাইয়ে কমিটি
অডিটের জন্য নির্বাচিত ৭২৩৪১ আয়কর রিটার্নের তালিকা দেখবেন যেভাবে
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে ৬০০ প্রতিষ্ঠানকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভ্যাট নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। আরও জানা গেছে, বড় করদাতাদের জন্য মিশ্র নিরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে এনবিআরের ভ্যাট এবং ইনকাম ট্যাক্স দল একসঙ্গে নিরীক্ষা করবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জাগো নিউজক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা ডিজিটাল কর ব্যবস্থার কথা বলে আসছি। আমরা অর্ধেক ডিজিটাল, অর্ধেক ম্যানুয়াল চাই না। হয়রানি এড়াতে ডিজিটাল কর ব্যবস্থা চাই। এটা করতে পারলে ব্যবসায়ীদের জন্য কর প্রদান প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল হবে।’
আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী চাল, ডাল, বীজ, সরিষা, মসলাসহ একাধিক কৃষিপণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে ০ দশমিক ৫ শতাংশ হারে উৎসস্থলে কর কর্তনের বিধান রয়েছে। আগামী বাজেটে কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে কর অব্যাহতি চেয়েছে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।
সংগঠনটির দাবি, প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষক বা উৎপাদক কর, ভ্যাটের আওতায় না থাকায় তাদের কাছ থেকে উৎসে কর সংগ্রহ করা যায় না। কৃষিজাত প্রতিষ্ঠানগুলো এই কর দিতে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, ব্যবসায়ীদের এ সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি সমাধানে কাজ শুরু করেন তারা। সেক্ষেত্রে কৃষক ডাটাবেজ, লেনদেন ডিজিটাল করাসহ একাধিক উদ্যোগ ভাবনায় রয়েছে।
ভ্যাটের কলেবর বাড়ছে
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারির প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, দেশে মোট অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ। এর মধ্যে ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৭৬ লাখ।
এনবিআরের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় পৌনে ৮ লাখ ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে প্রতি মাসে গড়ে পৌনে ৫ লাখ প্রতিষ্ঠান রিটার্ন দেয়।
আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে নিবন্ধনকৃত ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য আছে এনবিআরের। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছর ছোট-বড় ২০ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও এসএমইকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে এনবিআর।
জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভ্যাট বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, এই দুই খাতের জন্য ভ্যাট রিটার্ন আদায় সহজ করা হবে। ১-২ পাতার রিটার্ন করা হবে। রিটেইল খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত ভ্যাট পাওয়া যায় না। খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তদারকি করার জন্য মাঠ পর্যায়ে এত জনবলও নেই। নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে আর রিটার্ন সহজ করা হলে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাট আদায় সহজ হবে।
আরও পড়ুন
আয়কর রিটার্ন না দিলে অটো নোটিশ যাবে, এরপর হাজির হবে ইন্সপেক্টর
বিদ্যুৎচালিত স্কুলবাস আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি
জানা গেছে, বিপুল সংখ্যক রিটেইল বা খুচরা ব্যবসা ও এসএমইকে ভ্যাটের আওতায় আনা গেলে এ খাত থেকে বছরে আড়াই থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট আদায় সম্ভব হবে।
এদিকে, এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আবার ফিরে আসতে পারে সম্পদ কর প্রথা। ১৯৯৯ সালে সম্পদ কর বাতিল করে সারচার্জ চালু করা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমানের দাবি, সম্পদ কর নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারও সম্পদ থেকে আয় না হলে আয়করও শূন্য, সম্পদ করও শূন্য হবে।
যেভাবে আদায় হবে সম্পদ কর
গত ৫ এপ্রিল প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানান, সরকার সারচার্জ প্রথা বিলুপ্ত করে পুনরায় ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ বা ‘সম্পদ কর’ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার চিন্তা করছে। গত ২৫ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে বিষয়টি ব্যাখ্যাও করেন তিনি।
সম্পদ কর আরোপের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা খুব চেষ্টা করছি একটা ডাটাবেজ করে ওয়েলথ ট্যাক্স সিস্টেম চালু করতে। আশা করি এটা করে ফেলতে পারবো। ই রিটার্নের সঙ্গে একটা ওয়েলথ ট্যাক্স রিটার্ন এক প্যাকেজে তৈরি হয়ে সাবমিট হয়ে যাবে। আগে যেটি হতো- ওয়েলথ ট্যাক্স নিয়ে অনেক মামলা হতো। ভ্যালুয়েশনের জন্য অনেক ঝামেলা হতো। এখন যেহেতু আমরা অটোমেশন ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন করেছি, তার সঙ্গে ওয়েলথ ট্যাক্স রিটার্নটাও অটোমেটেড হয়ে যাবে।
বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ক্যালকুলেশনটা অটোমেটেড হয়ে যাবে, সম্পদ ক্যালকুলেশনটা অটোমেটেড হয়ে যাবে। আপনাদের যদি মনে হয়, আমার যদি সম্পদ বেশি হয় তাহলে তো আমাকে কোটি কোটি টাকার কর দিতে হবে, আমাকে জমি বিক্রি করে কর দিতে হবে। বিষয়টি এরকম নয়। আগে যখন আমাদের সম্পদ কর ছিল, তখনও একটি ক্যাপ ছিল- একজন করদাতা তার আয়ের কত ভাগ আয়কর এবং সম্পদ কর মিলিয়ে দেবে। আমরা এই জায়গায় একটা ক্যাপ দিয়ে দেবো।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এখন আমাদের সর্বোচ্চ কর হলো ৩০ শতাংশ। তো আমরা বলবো- করদাতার সম্পদ কর যাই হোক না কেন, ওনার আয়কর ও সম্পদ কর মিলে একটা ক্যাপ হবে। ধরেন, আয়কর ও সম্পদ কর মিলে বললাম ওয়ান-থার্ডের (১/৩) বেশি হবে না। ক্যাপ হয়ে গেলো। ওনার যদি দু-তিন কোটি টাকা চলে আসে ১০০-১৫০ কোটি টাকার ওয়েলথ ভ্যালুয়েশন হয়ে, ওনাকে কিন্তু দু-তিন কোটি টাকা দিতে হবে না, ওনার ইনকামের পার্সেন্টেজ দিতে হবে।
আরও পড়ুন
স্টিল শিল্পে আরোপিত করভার হ্রাসের প্রস্তাব
স্বর্ণখাত থেকে বছরে ১২-১৪ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কোনো কারণে যদি ওই করদাতার আয় না থাকে, আয় যদি শূন্য হয়, তাহলে ওনার আয়করও শূন্য হবে, সম্পদ করও শূন্য হবে। অর্থাৎ, করদাতার নিষ্পত্তিযোগ্য আয় না থাকলে করদাতার ওপর কর আরোপ করা হবে না।
তিনি বলেন, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসেটের ভ্যালু তো ঠিক করাই আছে। আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স কত, আপনার ট্রেজারি বন্ড কত, আপনার সঞ্চয়পত্র কত, আপনি কাকে কত টাকা লোন দিয়েছেন- এগুলো তো ক্যাটাগরিক্যালি ওখানে আছে। এর বাইরে হলো ফিজিক্যাল অ্যাসেট যেগুলো, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমরা যেটি বললাম ওই যে, মৌজা ভ্যালু যেটা আছে সারাদেশে সেই ডাটাটা আমরা সিস্টেমে ইনবিল্ট করে দেবো। প্রতি বছর অথবা দুই বছর পর যখন মৌজা ভ্যালু চেঞ্জ হয় তখন এটি চেঞ্জ হবে। হয়তো মৌজা ভ্যালুর প্র্যাকটিক্যাল দাম অন্তত ১০-১৫-২০ গুণ দাম থাকতে পারে, আমরা সেটি ইগনোর করবো ফর দ্য সেক অব সিম্পলিসিটি।
এ বিষয়ে হিসাববিদ ও এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, সম্পদ কর পুনরায় চালু করা ঐতিহাসিক ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সম্পদ মূল্যায়নের জটিলতায় ১৯৯৯ সালে বাতিল হওয়া এবং সম্পদ সারচার্জ দিয়ে প্রতিস্থাপিত হওয়া সত্ত্বেও বৈষম্য হ্রাসে পূর্ণাঙ্গ সম্পদ কর তাত্ত্বিকভাবে আকর্ষণীয় থেকে যায়।
তিনি আরও বলেন, বাস্তব ক্ষেত্রে এটি মূলধন পাচার, শেয়ারবাজারের তারল্য সংকট এবং বাধ্য হয়ে সম্পদ বিক্রির মতো পরিস্থিতি তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
এসএম/এএমএ/এমএমএআর/এমএফএ
What's Your Reaction?