চিনি কি ক্যান্সারের কারণ হতে পারে? যা বলছে বিজ্ঞান
আপনার রান্নাঘর কি পুষ্টির ভাণ্ডার নাকি মরণব্যাধির উৎস? বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া বা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করলে এমন সংশয় জাগা স্বাভাবিক। বিশেষ করে চিনিকে ঘিরে যে ত্রাসের রাজত্ব তৈরি হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনে হচ্ছে এক টুকরো চকোলেট বা কেক মানেই বুঝি ক্যান্সারের পথে এক পা বাড়িয়ে দেওয়া। তথাকথিত ‘হেলথ ইনফ্লুয়েন্সারদের’ দাপটে চিনি আজ আমাদের পাতে সবচেয়ে বড় ‘ভিলেন’। কিন্তু ইন্টারনেটের এই চিনি-ভীতি কি আদৌ বিজ্ঞানসম্মত? নাকি আমরা কোনো ভ্রান্ত ধারণার শিকার হচ্ছি? এই সংবেদনশীল বিষয়ে বিজ্ঞানের প্রকৃত ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন গুরুগ্রামের স্বনামধন্য সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. বর্তিকা বিশ্বানি। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি বনাম বিজ্ঞান ডা. বিশ্বানি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, চিনি সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টি করে—বৈজ্ঞানিকভাবে এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই। অনেকেই ইন্টারনেটের ভিডিও দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কিন্তু মানুষের শরীর সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড বা রেন্ডম ‘হেলথ গুরুদের’ কথায় চলে না। ডা. বিশ্বানির মতে, চিনিযুক্ত খাবার যেমন চকোলেট বা পেস্ট্রি খেলেই ভবিষ্যতে ক্যান্সার হবে, এমন দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। শরীরের জ্বালান
আপনার রান্নাঘর কি পুষ্টির ভাণ্ডার নাকি মরণব্যাধির উৎস? বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া বা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করলে এমন সংশয় জাগা স্বাভাবিক। বিশেষ করে চিনিকে ঘিরে যে ত্রাসের রাজত্ব তৈরি হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনে হচ্ছে এক টুকরো চকোলেট বা কেক মানেই বুঝি ক্যান্সারের পথে এক পা বাড়িয়ে দেওয়া। তথাকথিত ‘হেলথ ইনফ্লুয়েন্সারদের’ দাপটে চিনি আজ আমাদের পাতে সবচেয়ে বড় ‘ভিলেন’।
কিন্তু ইন্টারনেটের এই চিনি-ভীতি কি আদৌ বিজ্ঞানসম্মত? নাকি আমরা কোনো ভ্রান্ত ধারণার শিকার হচ্ছি? এই সংবেদনশীল বিষয়ে বিজ্ঞানের প্রকৃত ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন গুরুগ্রামের স্বনামধন্য সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. বর্তিকা বিশ্বানি।
সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি বনাম বিজ্ঞান
ডা. বিশ্বানি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, চিনি সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টি করে—বৈজ্ঞানিকভাবে এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই। অনেকেই ইন্টারনেটের ভিডিও দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কিন্তু মানুষের শরীর সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড বা রেন্ডম ‘হেলথ গুরুদের’ কথায় চলে না। ডা. বিশ্বানির মতে, চিনিযুক্ত খাবার যেমন চকোলেট বা পেস্ট্রি খেলেই ভবিষ্যতে ক্যান্সার হবে, এমন দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন।
শরীরের জ্বালানি যখন চিনি
ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত PET স্ক্যানের কিছু উজ্জ্বল অংশ দেখে অনেক অপেশাদার বিশেষজ্ঞ দাবি করেন, এগুলোই চিনি খাওয়া ক্যান্সার কোষ। কিন্তু ডা. বিশ্বানি বিষয়টিকে আরও গভীরে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, শরীরের প্রতিটি জীবন্ত কোষ—বিশেষ করে মস্তিষ্ক, কিডনি এবং অন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো তাদের স্বাভাবিক কাজ পরিচালনার জন্য চিনি বা গ্লুকোজ থেকে শক্তি সংগ্রহ করে। যদি আমরা চিনি খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিই, তবে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য পেশী ক্ষয় করতে শুরু করবে, যা স্বাস্থ্যের জন্য আরও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
ক্যান্সার কোষ ও উপবাসের ধারণা
এটি সত্য যে ক্যান্সার কোষগুলো খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ কোষের চেয়ে বেশি শক্তি খরচ করে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে চিনি খাওয়া বন্ধ করলে বা উপবাস করলে ক্যান্সার কোষগুলো মারা যাবে। বরং এই ধরনের কৃত্রিম উপবাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।
ভারসাম্যই মূল চাবিকাঠি
ডা. বিশ্বানির মতে, চিনি নিজেই সমস্যার মূল নয়, বরং ‘অতিরিক্ত’ যেকোনো কিছুই ক্ষতিকর। অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে স্থূলতা বা মেটাবলিক সমস্যা তৈরি হতে পারে, যা পরোক্ষভাবে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এই ভয়ে যদি কেউ ফলমূল, দানাশস্য এবং বাড়িতে তৈরি পুষ্টিকর খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেন, তবে তা শরীরের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে।
শেষকথা
চিনি মানেই ক্যান্সার নয়। উৎসবের দিনে এক টুকরো রসমালাই বা গোলাপ জামুন আপনাকে বিপদে ফেলবে না, যদি আপনার সামগ্রিক জীবনযাত্রা স্বাস্থ্যকর হয়। বিজ্ঞানের ওপর আস্থা রাখুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং পরিমিত খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই হলো সুস্থ থাকার আসল মন্ত্র। ইন্টারনেট বা ইনস্টাগ্রামের ভীতিতে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
What's Your Reaction?