‘চিনি ছাড়া চা খাওয়া’ স্বাস্থ্যসচেতনতা নাকি নতুন ট্রেন্ড

অফিসের মিটিং হোক কিংবা বন্ধুদের আড্ডা চা অফার করলেই এখন অনেকের প্রথম কথা, ‘আমার চায়ে চিনি দেবেন না।’ এমন কথা শুনলে আশপাশের মানুষও ধরে নেন, তিনি নিশ্চয়ই স্বাস্থ্যসচেতন। কিংবা বন্ধুরা ট্রোল করতে শুরু করে যে, বন্ধু এখন ট্রেন্ড ফলো করে। শুধু অফিস-আদালত নয়, ক্যাফে থেকে পারিবারিক আড্ডা সব জায়গাতেই চিনি ছাড়া চা পান করার প্রবণতা চোখে পড়ছে। এমনকি অনেকের কাছে চায়ে চিনি না খাওয়াই যেন আধুনিক ও সচেতন জীবনযাপনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ‘নো সুগার টি’ বা ‘চিনি ছাড়া চা’কে স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন হলো, চায়ে চিনি না খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী একটি অভ্যাস, নাকি এটি কেবল সময়ের সঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা একটি ফ্যাশন ট্রেন্ড? বিজ্ঞান ও গবেষণা এ বিষয়ে কী বলছে, সেটিই জানা জরুরি। পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, যদি আপনি শুধুই চিনি বাদ দিয়ে বাকি খাবারে অতিরিক্ত মিষ্টি খান, তাহলে এর বিশেষ স্বাস্থ্যগত লাভ হবে না। তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করা চিনি কমানো অবশ্যই উপকারী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু পরামর্শ দেয়, দৈনিক মোট ক্যালোরির ১০ শতাংশের কম যেন ফ্রি সুগার থেকে

‘চিনি ছাড়া চা খাওয়া’ স্বাস্থ্যসচেতনতা নাকি নতুন ট্রেন্ড

অফিসের মিটিং হোক কিংবা বন্ধুদের আড্ডা চা অফার করলেই এখন অনেকের প্রথম কথা, ‘আমার চায়ে চিনি দেবেন না।’ এমন কথা শুনলে আশপাশের মানুষও ধরে নেন, তিনি নিশ্চয়ই স্বাস্থ্যসচেতন। কিংবা বন্ধুরা ট্রোল করতে শুরু করে যে, বন্ধু এখন ট্রেন্ড ফলো করে।

শুধু অফিস-আদালত নয়, ক্যাফে থেকে পারিবারিক আড্ডা সব জায়গাতেই চিনি ছাড়া চা পান করার প্রবণতা চোখে পড়ছে। এমনকি অনেকের কাছে চায়ে চিনি না খাওয়াই যেন আধুনিক ও সচেতন জীবনযাপনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ‘নো সুগার টি’ বা ‘চিনি ছাড়া চা’কে স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন হলো, চায়ে চিনি না খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী একটি অভ্যাস, নাকি এটি কেবল সময়ের সঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা একটি ফ্যাশন ট্রেন্ড? বিজ্ঞান ও গবেষণা এ বিষয়ে কী বলছে, সেটিই জানা জরুরি।

পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, যদি আপনি শুধুই চিনি বাদ দিয়ে বাকি খাবারে অতিরিক্ত মিষ্টি খান, তাহলে এর বিশেষ স্বাস্থ্যগত লাভ হবে না। তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করা চিনি কমানো অবশ্যই উপকারী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু পরামর্শ দেয়, দৈনিক মোট ক্যালোরির ১০ শতাংশের কম যেন ফ্রি সুগার থেকে আসে। আরও বেশি স্বাস্থ্য উপকার পেতে এই পরিমাণ ৫ শতাংশ বা প্রায় ২৫ গ্রাম (প্রায় ৬ চা-চামচ) পর্যন্ত সীমিত রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে।

এক কাপ চায়ে সাধারণত এক থেকে দুই চা-চামচ চিনি দেওয়া হয়। অর্থাৎ দিনে তিন-চার কাপ মিষ্টি চা খেলে শুধু চা থেকেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চিনি শরীরে ঢুকে যেতে পারে। এই অতিরিক্ত চিনি দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি, দাঁতের ক্ষয় এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে চিনি ছাড়া চা খেলেই আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুস্থ হয়ে যাবেন। একজন মানুষ চা খাচ্ছেন চিনি ছাড়া অন্যদিকে যদি প্রতিদিন কোমল পানীয়, মিষ্টি, কেক বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খান, তাহলে তেমন কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য পুরো খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ।

আবার অনেকেই চিনি বাদ দিয়ে কৃত্রিম মিষ্টিকারক ব্যবহার করেন। কিন্তু হু জানিয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, শুধু ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে নিয়মিত নন-সুগার সুইটনার ব্যবহার উপকার নাও দিতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস হলো ধীরে ধীরে কম মিষ্টির স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া।

মুম্বাইয়ের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. শেহলা শেখ ব্যাখ্যা করেন, অনেকেই বিশ্বাস করেন যে চা বা কফিতে চিনি এড়িয়ে চললেই তারা ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত থাকবেন। আবার অনেকে মনে করেন তাদের দৈনন্দিন খাবার তালিকা থেকে চিনি বা মিষ্টি খাবার বাদ দিলে ডায়াবেটিস হবে না। আসলে এই দুটো ধারনাই ভুল।

তিনি বলেন, অবশ্যই চিনি খাওয়া কমানো সহায়ক, চিনি রক্তে শর্করার মাত্রাকে অনেক বেশি প্রভাবিত করে। তবে ডায়াবেটিস শুধু চিনির কারণে হয় না। এটি আপনার পুরো জীবনযাত্রার উপর নির্ভর করে, আপনি কীভাবে বসেন, কীভাবে ঘুমান, আপনি কতটা মানসিক চাপে থাকেন, এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার ছাড়াও আপনি আর কী খান। তাই চা বা কফিতে চিনি খাওয়া না খাওয়ার সঙ্গে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক নেই, তবে সুস্থতা এর উপর কিছুটা হলেও নির্ভর করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম দিকে চিনি ছাড়া চা কিছুটা তেতো লাগতে পারে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্বাদের অনুভূতি বদলে যায় এবং অনেকেই তখন চায়ের আসল সুবাস ও স্বাদ উপভোগ করতে শুরু করেন। এটি শুধু চায়ের ক্ষেত্রেই নয়, সামগ্রিকভাবে কম মিষ্টি খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলতেও সাহায্য করে।

তাই চায়ে চিনি না খাওয়াকে শুধু ফ্যাশন বললে ভুল হবে। এটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে তবে তখনই, যখন এটি একটি সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হবে। চা বা কফিতে চিনি না খাওয়া আসলে সামাজিকভাবে আপনার ব্যক্তিত্বে কোনো প্রভাব ফেলছে না। তবে অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি খাওয়া কমানো আপনার স্বাস্থ্যের অনেক ধরনের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এড়াতে সহায়তা করতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow