চীন ও বাংলাদেশকে নজরে রাখতে ভারতের নতুন পদক্ষেপ

চীনের নৌ-তৎপরতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরে নতুন নৌঘাঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া নদীতে একটি নৌঘাঁটি বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের নৌবাহিনী। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নতুন এই পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্য বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক উপস্থিতি ও নজরদারি জোরদার করা। ভারতের শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্র ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছে, হলদিয়ার এই স্থাপনাটি নৌবাহিনীর একটি ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে মূলত ছোট আকারের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে। বিদ্যমান হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স দবে, যাতে অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়াই দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি আলাদা জেটি এবং তীরভিত্তিক সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জানা গেছে, এই ঘাঁটিতে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট (এফআইসি) এবং ৩০০ টন ওজনের নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট (এনডব্লিউজেএফএসি) মোতায়েন করা হবে, যা ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ নট গতিসম্পন্ন এই উচ্চগতির জলযানগুলো দ্রুত প্রতিক্রিয়ামূলক সামুদ্র

চীন ও বাংলাদেশকে নজরে রাখতে ভারতের নতুন পদক্ষেপ
চীনের নৌ-তৎপরতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরে নতুন নৌঘাঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া নদীতে একটি নৌঘাঁটি বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের নৌবাহিনী। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নতুন এই পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্য বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক উপস্থিতি ও নজরদারি জোরদার করা। ভারতের শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্র ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছে, হলদিয়ার এই স্থাপনাটি নৌবাহিনীর একটি ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে মূলত ছোট আকারের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে। বিদ্যমান হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স দবে, যাতে অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়াই দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি আলাদা জেটি এবং তীরভিত্তিক সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জানা গেছে, এই ঘাঁটিতে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট (এফআইসি) এবং ৩০০ টন ওজনের নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট (এনডব্লিউজেএফএসি) মোতায়েন করা হবে, যা ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ নট গতিসম্পন্ন এই উচ্চগতির জলযানগুলো দ্রুত প্রতিক্রিয়ামূলক সামুদ্রিক অভিযানের জন্য তৈরি। এগুলোতে সিআরএন-৯১ গান সংযোজন থাকবে এবং নাগাস্ত্রা সিস্টেমের মতো লয়টারিং মিউনিশন ব্যবহারের সক্ষমতাও যোগ করা হতে পারে, যা নজরদারি ও নির্ভুল হামলার ক্ষমতা বাড়াবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে এই ঘাঁটি গড়ে তোলার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির (পিএলএএন) ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি, সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা এবং বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতের উপকূলে প্রবেশের ঘটনা। তারা বলছেন, ভারত-বাংলাদেশ উপকূলীয় অঞ্চলের অগভীর জলরাশি ও ঘন নৌ-চলাচলের কারণে দ্রুতগামী জলযানগুলো প্রতিরোধ ও নজরদারিতে বিশেষ কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের এই ধরনের নৌ-মনোভাব সমুদ্রপথ রক্ষা, আঞ্চলিক উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ এবং এই অঞ্চলে প্রাথমিক নিরাপত্তা প্রদানকারী হিসেবে তার ভূমিকা জোরদার করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইন্ডিয়া টুডে আরও জানায়, চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ উপস্থিতি, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে বেইজিংয়ের প্রভাব বিস্তার এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে চীনের ঘনিষ্ঠতা ছাড়াও পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সামরিক অংশীদারত্ব এই সবকিছু মিলিয়ে হলদিয়ার নৌঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। প্রায় ১০০ জন নৌ কর্মকর্তা ও নাবিক এই ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি পূর্ণাঙ্গ কোনো নৌ কমান্ড না হয়ে তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের একটি ঘাঁটি হবে। কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হলদিয়া নদীপথের জটিলতা এড়িয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে দ্রুত পৌঁছানোর সুবিধা দেবে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল (ডিএসি) ১২০টি ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট এবং ৩১টি নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট কেনার অনুমোদন দেয়। প্রায় ১০০ টন ওজনের এসব জলযানে ১০ থেকে ১২ জন সদস্য থাকতে পারেন এবং উপকূলীয় টহল, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, বন্দর নিরাপত্তা ও বিশেষ অভিযানে এগুলো ব্যবহারের উপযোগী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow