চীন-মার্কিন উত্তেজনা: প্রশান্ত মহাসাগরে হামলা সক্ষম ‘জুমওয়াল্ট’
দীর্ঘ ১৫ বছরের আধুনিকায়ন কর্মসূচি শেষে ফের অপারেশনাল সেবায় ফিরছে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রথম স্টেলথ ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস জুমওয়াল্ট (USS Zumwalt)। আধুনিকায়নের মাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রথম যুদ্ধজাহাজ হিসেবে দূরপাল্লার হাইপারসনিক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম হবে ইউএসএস জুমওয়াল্ট। জুমওয়াল্ট শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও সমস্যাপূর্ণ প্রকল্পগুলোর একটি। প্রতিটি জাহাজ নির্মাণে ৮০০ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় হয়েছে। জানা গেছে, সমন্বিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (Integrated Power System) উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে দীর্ঘ বিলম্বের পর জাহাজটি ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ কনভেনশনাল প্রম্পট স্ট্রাইক (IRCPS) সক্ষমতা নিয়ে বহরে ফিরবে। এর মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘপাল্লার হামলার জন্য মার্কিন নৌবাহিনী নতুন সক্ষমতা পাবে। মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিনের তথ্য মতে, ২০১১ সালে জাহাজটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০১৩ সালে এটি পানিতে নামানো হয়। তবে নির্মাণ, পরিবর্তন ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কার্যক্রমে যুক্ত হতে প্রায় ১৫ বছর লেগে যায়। জুমওয়াল্টের আধুনিকায়নের সবচেয়ে বড় পরিবর্ত
দীর্ঘ ১৫ বছরের আধুনিকায়ন কর্মসূচি শেষে ফের অপারেশনাল সেবায় ফিরছে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রথম স্টেলথ ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস জুমওয়াল্ট (USS Zumwalt)। আধুনিকায়নের মাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রথম যুদ্ধজাহাজ হিসেবে দূরপাল্লার হাইপারসনিক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম হবে ইউএসএস জুমওয়াল্ট।
জুমওয়াল্ট শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও সমস্যাপূর্ণ প্রকল্পগুলোর একটি। প্রতিটি জাহাজ নির্মাণে ৮০০ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় হয়েছে।
জানা গেছে, সমন্বিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (Integrated Power System) উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে দীর্ঘ বিলম্বের পর জাহাজটি ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ কনভেনশনাল প্রম্পট স্ট্রাইক (IRCPS) সক্ষমতা নিয়ে বহরে ফিরবে। এর মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘপাল্লার হামলার জন্য মার্কিন নৌবাহিনী নতুন সক্ষমতা পাবে।
মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিনের তথ্য মতে, ২০১১ সালে জাহাজটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০১৩ সালে এটি পানিতে নামানো হয়। তবে নির্মাণ, পরিবর্তন ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কার্যক্রমে যুক্ত হতে প্রায় ১৫ বছর লেগে যায়।
জুমওয়াল্টের আধুনিকায়নের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে- জাহাজের দুটি ১৫৫ মিলিমিটার অ্যাডভান্সড গান সিস্টেম অপসারণ করা হয়েছে। এই কামানগুলোর জন্য তৈরি একমাত্র লং রেঞ্জ ল্যান্ড অ্যাটাক প্রজেক্টাইল (LRLAP) অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে বাতিল হওয়ায় এগুলো মূলত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল।
এর পরিবর্তে চারটি বড় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মডিউল স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো থেকে মোট ১২টি কনভেনশনাল প্রম্পট স্ট্রাইক (CPS) হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা যাবে।
এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ম্যাক ৫-এর বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম হবে এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে দূর থেকে আঘাত হানতে পারবে। ভবিষ্যতে ব্লক-ভি ভার্জিনিয়া শ্রেণির সাবমেরিনেও একই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরীক্ষা মঞ্চ হিসেবেও কাজ করবে জুমওয়াল্ট।
মার্কিন নৌবাহিনীর মতে, কনভেনশনাল প্রম্পট স্ট্রাইক ভবিষ্যতে তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রচলিত কৌশলগত হামলার অস্ত্র হবে, বিশেষ করে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল অত্যন্ত উচ্চ গতিতে উড়ার পাশাপাশি গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে এগুলোকে বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন।
স্টেলথ নকশার জুমওয়াল্ট থেকে এসব অস্ত্র মোতায়েন করা হলে শত্রুপক্ষের কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, আকাশ প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর এবং অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনায় বড় দূরত্বে হামলা চালানো সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, চীনের টাইপ-০৫৫ ও টাইপ-০৫২ডি ডেস্ট্রয়ারও দেশটির ওয়াইজে-২০ (YJ-20) হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। তবে এটি তুলনামূলক ছোট আকারের এবং মূলত জাহাজবিধ্বংসী অভিযানের জন্য তৈরি।
এছাড়া সমন্বিত বৈদ্যুতিক প্রপালশন ব্যবস্থা, সফটওয়্যার, যুদ্ধ ব্যবস্থাপনা এবং একসঙ্গে অনেক নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করার কারণে প্রকল্পটি নানা জটিলতায় পড়ে এবং জাহাজগুলোর অপারেশনাল সেবায় যোগ দিতে দীর্ঘ বিলম্ব হয়।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় জুমওয়াল্টে এসপিওয়াই-৩ (SPY-3) এবং এসপিওয়াই-৪ (SPY-4) সমন্বিত ডুয়াল-ব্যান্ড রাডার থাকার কথা ছিল। কিন্তু ব্যয় কমাতে SPY-4 বাতিল করা হয়, ফলে এর আকাশ নজরদারি সক্ষমতা কমে যায়। বিপরীতে চীন তাদের টাইপ-০৫৫ ডেস্ট্রয়ারে পূর্ণাঙ্গ ডুয়াল-ব্যান্ড রাডার সংযোজন করে এগিয়ে যায়।
দীর্ঘদিন ধরে এই জাহাজগুলোর কার্যকর ভূমিকা নির্ধারণে হিমশিম খেতে হয় মার্কিন নৌবাহিনীকে। তবে সর্বশেষ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের মাধ্যমে জুমওয়াল্ট শ্রেণি আধুনিক পরাশক্তির প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেতে যাচ্ছে।
কেএম
What's Your Reaction?