চীনের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে বিএনপির প্রতিনিধি দল
কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না (সিসিপি)-এর আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ১৯ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ১৫ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করছে। এই সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলটি গত ১৭ এপ্রিল (শুক্রবার) চীনের আনহুই প্রদেশের হেফেই শহরে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (ইউএসটিসি) পরিদর্শন করে। চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও ডা. আসাদুজ্জামান রিপন, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, খায়রুল কবির খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন। সফরের শুরুতে প্রতিনিধি দলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নত গবেষণা কেন্দ্রসমূহ পরিদর্শন করে এবং আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করে। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের উদ্যোগে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আন্তর্জাতিক অফিসের প্রতিনিধিরা
কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না (সিসিপি)-এর আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ১৯ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ১৫ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করছে।
এই সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলটি গত ১৭ এপ্রিল (শুক্রবার) চীনের আনহুই প্রদেশের হেফেই শহরে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (ইউএসটিসি) পরিদর্শন করে।
চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও ডা. আসাদুজ্জামান রিপন, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, খায়রুল কবির খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন।
সফরের শুরুতে প্রতিনিধি দলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নত গবেষণা কেন্দ্রসমূহ পরিদর্শন করে এবং আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করে। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের উদ্যোগে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আন্তর্জাতিক অফিসের প্রতিনিধিরা এবং সেখানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের প্রেসিডেন্ট ওয়াং ইউমিং বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলকে ইউএসটিসিতে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে ইউএসটিসিতে ৩৯ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছে।
এরপর প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। তিনি আরও জানান, বর্তমানে চীনে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ইউএসটিসির গবেষণা কার্যক্রম, অ্যাকাডেমিক কাঠামো এবং বিশেষ উদ্যোগসমূহ তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে ‘স্কুল অব গিফটেড ইয়ুথ’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
পরে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান চীনকে ‘বর্তমান বিশ্বের উদ্ভাবনের কেন্দ্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান এবং অর্জিত জ্ঞান ও উদ্ভাবনী ধারণা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
সংসদ সদস্য এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিশ্বমানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের অভিজ্ঞতায় তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাফল্যে গর্বিত। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষা ও গবেষণা খাত উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (ইউএসটিসি) চীনের মর্যাদাপূর্ণ সি-৯ লিগের একটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়, যা বিজ্ঞান গবেষণা ও উদ্ভাবনে বৈশ্বিকভাবে সুপরিচিত। নেচার ইনডেক্স অনুযায়ী গবেষণায় এ প্রতিষ্ঠান বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়াও টাইমস হায়ার এডুকেশন, কিউএসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত।
অনুষ্ঠানে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউএসটিসিতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রাওহা বিন মেজবা। তিনি বলেন, চীনকে সত্যিকার অর্থে জানতে হলে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন প্রয়োজন এবং ইউএসটিসি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
এছাড়াও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশরাফুল ইসলাম রাকিব, আবদুল্লাহ আল আলিফ এবং তৌফিকুর রহমান বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম এবং প্রযুক্তি আদান-প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে দুইপক্ষের মধ্যে ভবিষ্যতে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এই সফরকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা এবং কৌশলগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এমআরএম
What's Your Reaction?