চুরির অপবাদে তরুণীসহ দুই ভাইবোনকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণী ও তার দুই ভাইবোনকে চুরির অপবাদে গাছে বেঁধে নির্যাতন, মারধর এবং তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার কৃতরা হলেন- আফসানা সরদার (৫০) ও আমির (৩০)।
এর আগে, শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঘটনার খবর পেয়ে দুপুরের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন ভাইবোনকে উদ্ধার করে। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় রাতেই ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সখিপুরের ছৈয়াল কান্দি এলাকার মুদি দোকানি আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাবও দেওয়া হয়। এ নিয়ে স্থানীয়রা মনিরকে একাধিকবার সতর্ক করেন।
গত মঙ্গলবার সকালে ওই তরুণী ও তার ছোট বোন (১৩) এবং ভাই ফাহিমকে (৭) নিয়ে মনিরের দোকানে কেনাকাটা করতে যান। সেখানে মনির তাকে অশালীন
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণী ও তার দুই ভাইবোনকে চুরির অপবাদে গাছে বেঁধে নির্যাতন, মারধর এবং তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার কৃতরা হলেন- আফসানা সরদার (৫০) ও আমির (৩০)।
এর আগে, শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঘটনার খবর পেয়ে দুপুরের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন ভাইবোনকে উদ্ধার করে। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় রাতেই ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সখিপুরের ছৈয়াল কান্দি এলাকার মুদি দোকানি আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাবও দেওয়া হয়। এ নিয়ে স্থানীয়রা মনিরকে একাধিকবার সতর্ক করেন।
গত মঙ্গলবার সকালে ওই তরুণী ও তার ছোট বোন (১৩) এবং ভাই ফাহিমকে (৭) নিয়ে মনিরের দোকানে কেনাকাটা করতে যান। সেখানে মনির তাকে অশালীন কথাবার্তা ও রাতে দেখা করার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী।
এর প্রতিবাদ করলে মনির তাকে ও তার দুই ভাই বোনকে দোকানের পাশের ফৌজিয়া সরদারের বাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি, সেখানে তাদের হাত পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ওই তরুণী ও তার ভাইবোনকে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। পরে মনিরসহ কয়েকজন তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন এবং ওই তরুণীর মাথার চুল কেটে দেন পরে তাকে জুতার মালা পরানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন নারী মিলে ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন। মেয়েটি কান্নাকাটি করছে। একপর্যায়ে এক যুবক এসে মেয়েটির হাত আরও শক্ত করে গাছের সাথে বাঁধছেন। পরে এক নারীকে তার গলায় জুতার মালা পড়িয়ে দিতে দেখা যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। অন্যদিকে ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বোনকেও গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণীর মা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মনির আমার মেয়েকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিত। মঙ্গলবার সকালে আমার দুই মেয়ে ও ছেলে বাজার করতে মনিরের দোকানে যায়। সেখানে আমার মেয়েকে রাতে দেখা করার প্রস্তাব দিলে সে প্রতিবাদ করে। পরে আমার তিন সন্তানকে জোর করে একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। তাদের মারধর করে গাছের সঙ্গে বেধে রাখা হয় এবং মেয়ের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, মনির তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। ঘটনার দিন প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার ভাইবোনকে জোর করে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। পরে চিৎকার করলে লোকজন জড়ো হয় এবং তখন তাকে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। এরপর তাকে গাছের সঙ্গে বেধে মারধর ও চুল কেটে দেওয়া হয়। অন্যদিকে তার ভাইবোনকেও একই কায়দায় গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও শুক্রবার দুপুরে সেটি প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তীতে আবার রাতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মামলা করেন। এরপর রাতেই অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।