প্রিয় খাবার দেখলেই কেন জিভে পানি আসে

কাঁচা আম, তেঁতুল, জলপাইয়ের আচার কিংবা ফুচকার নাম শুনলেই অনেকের মুখে পানি চলে আসে। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব খাবারের ছবি দেখলেও অনেক সময় অজান্তেই জিভে লালা জমতে শুরু করে। বিষয়টি এতটাই স্বাভাবিক যে আমরা অনেকেই এর পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণ নিয়ে ভাবি না। আসলে এটি কোনো কল্পনা বা শুধুই খাবারের প্রতি লোভ নয়। আমাদের মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করেই এই প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। খাবার মুখে যাওয়ার আগেই শরীর নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করে। তাই টক বা প্রিয় খাবার দেখলেই মুখে লালা চলে আসে। লালার গুরুত্ব অনেকেই মনে করেন, লালা শুধু মুখ ভেজা রাখার কাজ করে। কিন্তু এর ভূমিকা আরও অনেক বড়। লালা খাবার চিবানো সহজ করে, মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং হজমের প্রথম ধাপ শুরু করে। আমাদের মুখে কয়েকটি প্রধান লালাগ্রন্থি রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় এগুলো অল্প পরিমাণ লালা তৈরি করে। কিন্তু টক বা সুস্বাদু খাবারের উপস্থিতি টের পেলেই লালাগ্রন্থিগুলো অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। মস্তিষ্ক আগেই খাবারের জন্য প্রস্তুতি নেয় আপনি যখন কাঁচা আম বা ফুচকার দিকে তাকান, তখন শুধু চোখই কাজ করে না। সেই দৃশ্য মুহূর্তেই ম

প্রিয় খাবার দেখলেই কেন জিভে পানি আসে

কাঁচা আম, তেঁতুল, জলপাইয়ের আচার কিংবা ফুচকার নাম শুনলেই অনেকের মুখে পানি চলে আসে। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব খাবারের ছবি দেখলেও অনেক সময় অজান্তেই জিভে লালা জমতে শুরু করে। বিষয়টি এতটাই স্বাভাবিক যে আমরা অনেকেই এর পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণ নিয়ে ভাবি না।

আসলে এটি কোনো কল্পনা বা শুধুই খাবারের প্রতি লোভ নয়। আমাদের মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করেই এই প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। খাবার মুখে যাওয়ার আগেই শরীর নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করে। তাই টক বা প্রিয় খাবার দেখলেই মুখে লালা চলে আসে।

লালার গুরুত্ব

অনেকেই মনে করেন, লালা শুধু মুখ ভেজা রাখার কাজ করে। কিন্তু এর ভূমিকা আরও অনেক বড়। লালা খাবার চিবানো সহজ করে, মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং হজমের প্রথম ধাপ শুরু করে। আমাদের মুখে কয়েকটি প্রধান লালাগ্রন্থি রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় এগুলো অল্প পরিমাণ লালা তৈরি করে। কিন্তু টক বা সুস্বাদু খাবারের উপস্থিতি টের পেলেই লালাগ্রন্থিগুলো অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

মস্তিষ্ক আগেই খাবারের জন্য প্রস্তুতি নেয়

আপনি যখন কাঁচা আম বা ফুচকার দিকে তাকান, তখন শুধু চোখই কাজ করে না। সেই দৃশ্য মুহূর্তেই মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। মস্তিষ্ক বুঝতে পারে, হয়তো খুব শিগগিরই খাবারটি খাওয়া হবে। তাই আগেভাগেই হজম প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেয়। ফলে লালাগ্রন্থি দ্রুত লালা তৈরি করতে শুরু করে। এই লালার মধ্যে থাকা অ্যামাইলেজ নামের একটি এনজাইম শর্করা ভাঙার কাজ শুরু করে। অর্থাৎ খাবার মুখে যাওয়ার আগেই শরীর প্রস্তুতি নিয়ে ফেলে।

শুধু ছবি দেখেও মুখে পানি আসা অস্বাভাবিক নয়শুধু ছবি দেখেও মুখে পানি আসা অস্বাভাবিক নয়

পুরোনো স্মৃতিও কাজ করে

শৈশবে প্রথমবার তেঁতুল, কাঁচা আম বা আচার খাওয়ার সময় যে টক স্বাদ অনুভব করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কে স্মৃতি হিসেবে জমা থাকে। পরে যখন একই খাবারের ছবি দেখেন, গন্ধ পান বা শুধু নাম শোনেন, তখন মস্তিষ্ক সেই পুরোনো অভিজ্ঞতা মনে করে। এই কারণেই বাস্তবে খাবার না থাকলেও মুখে লালা চলে আসে। বিজ্ঞানীরা এই ধরনের প্রতিক্রিয়াকে কন্ডিশন্ড রিফ্লেক্স বা অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে থাকেন। রুশ বিজ্ঞানী ইভান পাভলভ এই বিষয়টি নিয়ে বিখ্যাত গবেষণা করেছিলেন।

টক খাবার থেকে মুখকে রক্ষা করতে লালা প্রয়োজন

টক ফল ও খাবারে প্রাকৃতিক অ্যাসিড থাকে। এই অ্যাসিড বেশি মাত্রায় দাঁতের এনামেল ও মুখের কোমল অংশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। লালা সেই অ্যাসিডের প্রভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। এটি মুখের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে এবং দাঁতের সুরক্ষায়ও সাহায্য করে। তাই টক খাবার দেখলেই শরীর বাড়তি লালা তৈরি করে এক ধরনের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে।

ছবিও একই প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে

খাবার সামনে না থাকলেও কেবল তার ছবি দেখেই অনেকের জিভে পানি আসে। কারণ আমাদের চোখ, নাক ও মস্তিষ্কের মধ্যে খুব শক্তিশালী যোগাযোগ রয়েছে। সুস্বাদু কোনো খাবারের ছবি দেখলে মস্তিষ্কের স্বাদ-সম্পর্কিত অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে শরীর ধরে নেয়, খাবার খাওয়ার সময় এসে গেছে। আর তখনই শুরু হয় লালা ক্ষরণের প্রক্রিয়া।

সবার ক্ষেত্রে কি একই রকম হয়

না। অনেকের ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া খুব বেশি হয়, আবার অনেকের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম। এর পেছনে ব্যক্তিগত অভ্যাস, ক্ষুধার মাত্রা, খাবারের প্রতি পছন্দ এবং অতীতের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যে খাবারটি আপনার খুব প্রিয়, সেটি দেখলে আপনার প্রতিক্রিয়া অন্য কারো তুলনায় বেশি হওয়াই স্বাভাবিক।

টক খাবার দেখলেই মুখে পানি চলে আসা কোনো দুর্বলতা বা শুধু খাবারের লোভের প্রকাশ নয়। এটি আমাদের শরীরের একটি স্বাভাবিক ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিক্রিয়া। মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র, লালাগ্রন্থি এবং পরিপাকতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করে শরীরকে খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, মায়ো ক্লিনিক

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow