‘চেষ্টা করছি মোহামেডান যেন সব খেলায় এক নম্বর থাকে’
গত ৯ মার্চ নির্বাচনের মাধ্যমে মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব লিমিটেডের নতুন পরিচালনা পরিষদ দায়িত্ব নিয়েছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ মো. বরকত উল্লাহ বুলু এমপি। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর মোহামেডান সমর্থকদের মধ্যে ফিরে এসেছে চাঞ্চল্য। সমর্থকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলো। প্রিয় ক্লাব আবার মাঠে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পাবে- এমন প্রত্যাশার পারদ তরতর করে ওপরে উঠছে। নতুন মৌসুমে মোহামেডান ফুটবল, ক্রিকেট ও হকিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল গড়বে। এই তিন ডিসিপ্লিনের বাইরে আরো যেসব খেলায় এক সময় অংশ নিতো সাদাকালোরা, সেসব খেলায় আবার ফিরবে মোহামেডান- এমন অনেক স্বপ্ন মনে মনে আঁকছেন সমর্থকরা। মোহামেডান সমর্থকদের এই যে স্বপ্ন কি বাস্তবায়ন করতে পারবে নতুন পরিচালনা পর্ষদ? এর বাইরে এই কমিটি সমর্থকদের আর নতুন কী উপহার দিতে চায়? মোহামেডানের হাল ধরে কী পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে পরিচালনা পর্ষদ? এসব নিয়ে জাগো নিউজের বিশেষ সংবাদদাতা রফিকুল ইসলামকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সভাপতি মো. বরকত উল্লাহ বুলু এমপি। জাগো নিউজ: মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আপ
গত ৯ মার্চ নির্বাচনের মাধ্যমে মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব লিমিটেডের নতুন পরিচালনা পরিষদ দায়িত্ব নিয়েছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ মো. বরকত উল্লাহ বুলু এমপি।
নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর মোহামেডান সমর্থকদের মধ্যে ফিরে এসেছে চাঞ্চল্য। সমর্থকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলো। প্রিয় ক্লাব আবার মাঠে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পাবে- এমন প্রত্যাশার পারদ তরতর করে ওপরে উঠছে।
নতুন মৌসুমে মোহামেডান ফুটবল, ক্রিকেট ও হকিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল গড়বে। এই তিন ডিসিপ্লিনের বাইরে আরো যেসব খেলায় এক সময় অংশ নিতো সাদাকালোরা, সেসব খেলায় আবার ফিরবে মোহামেডান- এমন অনেক স্বপ্ন মনে মনে আঁকছেন সমর্থকরা।
মোহামেডান সমর্থকদের এই যে স্বপ্ন কি বাস্তবায়ন করতে পারবে নতুন পরিচালনা পর্ষদ? এর বাইরে এই কমিটি সমর্থকদের আর নতুন কী উপহার দিতে চায়? মোহামেডানের হাল ধরে কী পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে পরিচালনা পর্ষদ? এসব নিয়ে জাগো নিউজের বিশেষ সংবাদদাতা রফিকুল ইসলামকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সভাপতি মো. বরকত উল্লাহ বুলু এমপি।
জাগো নিউজ: মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন।
বরকত উল্লাহ বুলু: আপনাকে ধন্যবাদ।
প্রশ্ন: সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আপনি কি মনে করেন এই দায়িত্বটা অনেক ভারী?
উত্তর: ভার তো বেশি আমার কাছে মনে হয় না। এজন্য হয় না যে, ৫০ বছরের অধিক সময় রাজনীতির সাথে জড়িত। এই সংগঠন করে আসছি। আর আমি সেই ছোটবেলা, মানে স্কুল জীবন থেকেই মোহামেডান ক্লাবের একজন সমর্থক। অন্ধভক্তও বলতে পারেন। আমার বাবাও কলকাতা মোহামেডান ক্লাবের সমর্থক ছিলেন ব্রিটিশ আমলে। উত্তরাধিকার সূত্রেই মোহামেডান ক্লাবের প্রতি আমার একটা অন্ধ ভালোবাসা আছে। জানিনা এটা হয়তো আল্লাহর হুকুম।
প্রশ্ন: সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার প্রেক্ষাপট যদি একটু বলতেন!
উত্তর: আমি তখন ওমরাহ করতে সৌদি আরব ছিলাম। লোকমান (ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া) আর সোহাগ (ক্লাবের স্থায়ী সদস্য রেজাউর রহমান সোহাগ) দু’জনে মিলে আমাকে সভাপতি হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেন। আমি সভাপতি হবো জেনে শুকরিয়া আদায় করলাম। এটা আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ আমার মনে হয়, আমরা এই ক্লাবটিকে আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে পারবো।
প্রশ্ন: বলছিলেন আপনার বাবাও ছিলেন এই ক্লাবের সমর্থক। সেই ক্লাবের আপনি এখন নেতৃত্বে। আপনার দায়িত্ব অনেক বেশি তাই না?
উত্তর: হ্যাঁ। এখন দায়িত্বটা আরো বেশি। আমার দুই ছেলে মোহামেডান ক্লাবের স্থায়ী সদস্য। তাই মোহামেডানের প্রতি আমাদের একটা আলাদা অন্ধ ভালোবাসা বলতে পারেন। এটা আত্মিক সম্পর্ক। মোহামেডানে এখন বেশ সংকট। আমার জন্য একটা বিরল সম্মান যে আমি এমন একটা সময়ে মোহামেডান ক্লাবের সভাপতি হতে পেরেছি। তাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। মোহামেডান ক্লাবের সভাপতি হওয়া অন্যান্য ক্লাবের সভাপতি বা অন্য সরকারি দায়িত্ব পাওয়ার চেয়েও বড় কিছু। এটা অনেক বিরল সম্মান। আল্লাহ আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি চেষ্টা করবো সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে।
প্রশ্ন: এখন তো ক্লাবের সদস্য মূল্য বেড়ে গেছে। নিশ্চয়ই এটাকে একটা ভালো দিক মনে করেন?
উত্তর: হ্যাঁ। সভাপতি হয়ে দেখলাম অনেকেই সদস্য হয়েছেন এবং হতে চাচ্ছেন। এখন তো একটা মেম্বারশিপের মূল্য ২২-২৩ লাখ টাকা হয়ে গেছে। আমি সদস্য যাদের সাথেই কথা বলেছি সবাইকে দেখেছি ক্লাব নিয়ে আন্তরিক।
প্রশ্ন: অনেক দিন থেকেই শুনে আসছিলাম, ক্লাবের মতিঝিলের জায়গায় একটা বহুতল ভবন হবে। তাতে ক্লাবের নিজস্ব আয়ের উৎস তৈরি হবে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কী অবস্থা?
উত্তর: এটা দীর্ঘদিনের একটা স্বপ্ন। এখানে একটা বহুতল ভবন হবে। কমার্শিয়াল স্পেস হবে। বিল্ডিং হবে আন্তর্জাতিক মানের। ৬০-৬৫ তলার একটা টুইন টাওয়ার হোক কিংবা থ্রি-ইন টাওয়ার হোক। এটা হবে এটা আমরা আশা করি। এই কাজে আমরা অতি শিগগিরই হাত দেবো।
প্রশ্ন: অনেকের মনেই প্রশ্ন, এটা কী বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে?
উত্তর: দেখুন পৃথিবীতে কোন কিছুই অসম্ভব না। যদি আপনার সদিচ্ছা থাকে, সততা থাকে, ভিশন থাকে- আমরা মনে করি এটা সম্ভব। এখন যারা এই ক্লাবের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছেন, আরো আসছেন, সবাই উদ্যোগী। সবার একটা ইচ্ছা আছে যে এই মোহামেডান ক্লাব চাঁদার উপরে বা কারো সাহায্যের উপরে যেন না থাকে, নিজস্ব আয়ের ওপর যেন এই ক্লাব দাঁড়ায়।
প্রশ্ন: সাভারেও তো ক্লাবের বড় একটা জায়গা আছে। সেটার এখন কী অবস্থা?
উত্তর: সাভারে ক্লাবের ২৫ একর জমি লিজ নেওয়া আছে। তবে সেটা স্থায়ীভাবে হয়নি এখনো। স্থায়ীভাবে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। পেলে সেখানে আন্তর্জাতিকমানের একটি কমপ্লেক্স তৈরি করবো। আধুনিক কমপ্লেক্সে তৈরির মাধ্যমে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড় তৈরি করবো। বিকেএসপির মতো একটা প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চাই, যাতে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়া যায়।
প্রশ্ন: ক্লাবের এখন অর্থ সংকট। মাঠের পারফরম্যান্সও তেমন ভালো না। এমন একটা সময় আপনি দায়িত্ব নিয়েছেন। সমর্থকরা আপনাকে পেয়ে অনেক আশাবাদী। এখন মাঠের পারফরম্যান্সে সমর্থকরা খুশি হতে পারবে কি না?
উত্তর: নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর আল্লাহর রহমতে ফুটবলে পরপর তিনটি খেলাতে আমরা জিতেছি। আমাদের সদিচ্ছা আছে, মোহামেডান ক্লাবকে ঘুরে দাঁড় করাতে। মোহামেডানের সাফল্য-ব্যর্থতা তো মাঠের পারফরমেন্সে। এ জন্যই আমরা চেষ্টা করছি ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ভলিবল সব জায়গায় যেন মোহামেডান প্রাণবন্ত থাকে।
প্রশ্ন: তার মানে মোহামেডান সমর্থকরা এখন তাদের প্রিয় ক্লাবকে ফুটবল-ক্রিকেট ও হকিতে এক নম্বর দেখতে পারবে?
উত্তর: শুধু এই তিনটি খেলাতেই নয়, আমরা চেষ্টা করবো সব খেলাতেই যেন মোহামেডান এক নম্বর থাকে। মোহামেডান মাঠে ভালো করলে দর্শকও মাঠে ফিরবে। মোহামেডানের অন্ধভক্ত হিসেবে ছোটবেলায় আমরা সকাল ১০টায় টিকিটের জন্য লাইন দিতাম। আমরা চাই সেই দর্শক। আবার যেন হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ দর্শক মোহামেডানের খেলা দেখতে মাঠে যায়।
প্রশ্ন: আপনিতো ছোটবেলা থেকেই মোহামেডানের সমর্থক। তো এমন কোনো স্মৃতি কি আপনার আছে প্রিয় ক্লাবকে নিয়ে?
উত্তর: কত স্মৃতিই তো আছে। মোহামেডানের খেলা দেখতে গিয়ে মার খেয়েছি। নিজেরা ঢিলাঢিলি করছি। এসব স্মৃতি তো আছেই।
প্রশ্ন: মোহামেডানের এখন বড় একটা সংকট অনুশীলন মাঠের। এখানে-ওখানে গিয়ে অনুশীলন করতে হয়। এই সংকট কবে কাটবে?
উত্তর: ওই যে বললাম, আমরা সভারের জায়গাটা দ্রুত স্থায়ীভাবে নিয়ে সেখানে চলে যাবো। তখন অনুশীলনের আর সমস্যা থাকবে না।
প্রশ্ন: সমর্থকদের প্রতি আপনার কী বার্তা থাকবে?
উত্তর: সমর্থকদের আমি বলবো- সারা বাংলাদেশে আমরা সাপোর্টার্স ক্লাব গড়ে তুলবো। যার মাধ্যমে মোহামেডান ফ্যান ক্লাব তৈরি হবে। সারা বাংলাদেশে, এমনকি উপজেলা পর্যন্ত আমরা যাব মোহামেডান ফ্যান ক্লাব গড়ে তুলবো। সমর্থকরা যেন এই কাজে আমাদের সহযোগিতা করে। আমাদের লক্ষ্য হবে সব শ্রেণির মানুষকে মোহামেডানের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করা। শ্রমজীবী মানুষ থেকে সকল শ্রেণীর মানুষকে একত্রিত করা। ফ্যান ক্লাবের সদস্য হতে ১০০ হোক ৫০ হোক বাৎসরিক সে একটা টাকা দেবে। তাহলে সে মনে করবে যে এই ক্লাবটা তার। আমরা এবং তারা একইভাবে শরিক। সবাই যেন মনে করতে পারে ‘আমি এই ক্লাবের মালিক, এই ক্লাব। আমরা সবাই মোহামেডান।’
প্রশ্ন: এক সময় তো মোহামেডান ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির বাইরে অনেক খেলায় অংশ নিতো। এইসব খেলায় আবার মোহামেডানকে দেখা যাবে কি না?
উত্তর: আমরা মোহামেডানকে সব খেলায় নেবো। দাবা হোক, ব্যাডমিন্টন হোক, টেবিল টেনিস হোক, নারী ফুটবল হোক। আমরা খেলবো। বিশেষ করে নারী ফুটবল হবেই ক্লাবের। আমরা দল তৈরি করবো। নারী ফুটবল দল তৈরি করতে আমাদের স্থায়ী সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবুকে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। সমর্থকদের এটা বলতে পারি যে, ধৈর্য্য ধরেন, সাফল্য আসবে। ইনশাআল্লাহ মোহামেডান পুরানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। আবার সব খেলায় চ্যাম্পিয়ন হবে।
প্রশ্ন: সারা বাংলাদেশে যে মোহামেডান ক্লাবগুলো আছে তাদের এক ছাতার নিচে আনার কথা শোনা যাচ্ছিল। তা নিয়ে আপনার কি পরিকল্পনা আছে?
উত্তর: আমাদের সেই পরিকল্পনা আছে। মোহামেডানের জাগরণ তৈরির জন্য বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় যে মোহামেডান ক্লাব আছে আগামী দিনে সেই সব ক্লাবকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসবো। মোহামেডানের নামে ক্লাব তৈরি করতে হলে আমাদের কাছ থেকে অ্যাফিলিয়েশন নিতে হবে। অ্যাফিলিয়েশন ছাড়া কেউ মোহামেডানের নাম ও পতাকা ব্যবহার করতে পারবে না।
জাগো নিউজ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
বরকত উল্লাহ বুলু: আপনাকেও ধন্যবাদ।
আরআই/আইএইচএস/
What's Your Reaction?