রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পুরো গতিপথ পাল্টে দিয়েছিল। তাকে গুলির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তীব্রতর হয়ে ওঠা আন্দোলন রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। এরই ধারাবাহিকতায় পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের।
সেই আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়েছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে এ মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, মঈনুল করিম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যরা।
এরপর আবু সাঈদকে গুলি করার দুটি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়। এসময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন মনিটরে ছেলেকে গুলির দৃশ্যের ভিডিও দেখে কাঁদতে থাকেন। তিনি ছেলে হত্যার মামলায় সাক্ষ্য দেবেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
এরপর প্রসিকিউশনের আবেদনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার এ মামলায় প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ৩০ জুলাই প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ মামলায় অভিযোগ গঠনের আর্জি জানান। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়। এরপর গত ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
এ মামলার ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হয়। তাদের মধ্যে গ্রেফতার ছয়জন আজ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন। তারা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। সাবেক ভিসিসহ ২৬ জন এখনো পলাতক।
আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সেটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এতে আন্দোলন আরও গতি পায়। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটে সরকার পতন।
এফএইচ/এমকেআর/এমএস