ছোট ভাইয়ের কোদালের আঘাতে বড় ভাই খুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে পৈতৃক জমিজমা ও ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে নেজাম উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই আপন ছোট ভাই জামাল উদ্দিন সুমনের (৩৫) বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ঘোষখীল এলাকার আছু তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত সুমনের স্ত্রী সানজিদা আকতার পপি ও মা হালিমা খাতুনকে আটক করেছে। তবে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন সুমন ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। নিহত নেজাম উদ্দিন ও অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন সুমন ওই এলাকার মৃত আবদুল হামিদের ছেলে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে বড় ভাই নেজাম উদ্দিন সংসারের হাল ধরেন। স্থানীয় লালারহাটে তার একটি মুদির দোকান ও ডিলারের ব্যবসা ছিল। ছোট ভাই সুমন সেই ডিলারের ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতারণা করে ডিলারশিপ ব্যবসাটি নিজের নামে করে নেন ছোট ভাই সুমন। এছাড়া সুমনের বিয়ের পর থেকেই দুই ভাইয়ের মধ্যে পৈতৃক বসতভিটা ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এমনকি বিয়ের এক সপ্তাহের পর থেকেই নেজাম নিজের ভিটায় থাকতে না পেরে পশ্চিম শাকপু

ছোট ভাইয়ের কোদালের আঘাতে বড় ভাই খুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে পৈতৃক জমিজমা ও ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে নেজাম উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই আপন ছোট ভাই জামাল উদ্দিন সুমনের (৩৫) বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ঘোষখীল এলাকার আছু তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত সুমনের স্ত্রী সানজিদা আকতার পপি ও মা হালিমা খাতুনকে আটক করেছে। তবে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন সুমন ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

নিহত নেজাম উদ্দিন ও অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন সুমন ওই এলাকার মৃত আবদুল হামিদের ছেলে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে বড় ভাই নেজাম উদ্দিন সংসারের হাল ধরেন। স্থানীয় লালারহাটে তার একটি মুদির দোকান ও ডিলারের ব্যবসা ছিল। ছোট ভাই সুমন সেই ডিলারের ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতারণা করে ডিলারশিপ ব্যবসাটি নিজের নামে করে নেন ছোট ভাই সুমন। এছাড়া সুমনের বিয়ের পর থেকেই দুই ভাইয়ের মধ্যে পৈতৃক বসতভিটা ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এমনকি বিয়ের এক সপ্তাহের পর থেকেই নেজাম নিজের ভিটায় থাকতে না পেরে পশ্চিম শাকপুরা এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে নেজাম খবর পান পৈতৃক বসতবাড়িতে তার আপত্তি সত্ত্বেও ছোট ভাই সুমন সংস্কারকাজ করছেন। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বুধবার দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিশি বৈঠক নির্ধারিত ছিল। বৈঠকের আগে কাজ করতে দেখে নেজাম সেখানে গিয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, হাতাহাতির একপর্যায়ে তাদের মা হালিমা খাতুন কোদাল এনে ছোট ভাই সুমনের হাতে তুলে দিয়ে নেজামকে মারার উস্কানি দেন। এরপরই সুমন কোদাল দিয়ে বড় ভাই নেজামের ঘাড়ে ও মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উদ্ধার করে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নেজামকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তের স্ত্রী ও মাকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত পলাতক জামাল উদ্দিন সুমনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow