ছোটবেলার ঈদ অনেক অনেক আনন্দের ছিল

ছোটবেলায় অনেক অনেক আনন্দের ছিল। আমি মধ‍্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কিছুটা টানাটানির মধ্যে বড় হয়েছি। তারপরও ঈদের আনন্দে উপভোগ করেছি প্রাণ ভরে। আমি শহরে বড হয়েছি, তাই গ্রামের ঈদের অভিজ্ঞতা কম। তবে একবার ছোটবেলায় ঈদ করেছিলাম। ঈদগাহে গিয়ে নামাজ পড়েছি, এরপরে মেলাতে গিয়েছিলাম। সেখানে অনেক রকম খেলনা এবং মুখরোচক খাবার। তবে গ্রামে দেখেছি দুপুরের পরেই ঈদ শেষ। যা শহরে আমরা অন্তত ৩ দিন ঈদ আনন্দ করতাম। শহরের ঈদই আমার কাছে ভালো লাগে। শহরে ঈদের আনন্দ শুরু হতো, ঈদের আগের দিন রাত থেকেই। কোনোরকম ইফতার সেরেই চলে যেতাম, ছাদে বা মাঠে। কে কার আগে চাঁদ দেখবে এই নিয়ে চলত কম্পিটিশন। চাঁদ রাতের শপিংয়ে ছিল অন‍্যরকম মজা। তাই জামা কাপড় আগে কিনলেও জুতো কিনতাম চাঁদ রাতে। তখনতো টেইলারের কাছে জামা সেলাই করতাম। তবে তা গোপনে- কারণ কেউ যেন দেখে না ফেলে। ঈদের দিন সকালে ও সমবয়সীরা কে কার আগে ঘুম থেকে উঠবে তার কম্পিটিশন চলত। এরপর নতুন জামা পরে চলতো তর্কাতর্কি। কার পোশাক কতো সুন্দর। এরপর বাড়ির মুরুব্বি, পাড়ার মুড়ব্বি সবাইকে সালাম করতাম সালামির আশায়। দলবেঁধে বাড়ি বাড়ি যেতাম। আত্মীয়, অনাত্মীয় কোনো ভেদাভেদ ছিল না। সবা

ছোটবেলার ঈদ অনেক অনেক আনন্দের ছিল

ছোটবেলায় অনেক অনেক আনন্দের ছিল। আমি মধ‍্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কিছুটা টানাটানির মধ্যে বড় হয়েছি। তারপরও ঈদের আনন্দে উপভোগ করেছি প্রাণ ভরে। আমি শহরে বড হয়েছি, তাই গ্রামের ঈদের অভিজ্ঞতা কম। তবে একবার ছোটবেলায় ঈদ করেছিলাম। ঈদগাহে গিয়ে নামাজ পড়েছি, এরপরে মেলাতে গিয়েছিলাম। সেখানে অনেক রকম খেলনা এবং মুখরোচক খাবার। তবে গ্রামে দেখেছি দুপুরের পরেই ঈদ শেষ। যা শহরে আমরা অন্তত ৩ দিন ঈদ আনন্দ করতাম। শহরের ঈদই আমার কাছে ভালো লাগে।


শহরে ঈদের আনন্দ শুরু হতো, ঈদের আগের দিন রাত থেকেই। কোনোরকম ইফতার সেরেই চলে যেতাম, ছাদে বা মাঠে। কে কার আগে চাঁদ দেখবে এই নিয়ে চলত কম্পিটিশন। চাঁদ রাতের শপিংয়ে ছিল অন‍্যরকম মজা। তাই জামা কাপড় আগে কিনলেও জুতো কিনতাম চাঁদ রাতে। তখনতো টেইলারের কাছে জামা সেলাই করতাম। তবে তা গোপনে- কারণ কেউ যেন দেখে না ফেলে। ঈদের দিন সকালে ও সমবয়সীরা কে কার আগে ঘুম থেকে উঠবে তার কম্পিটিশন চলত। এরপর নতুন জামা পরে চলতো তর্কাতর্কি। কার পোশাক কতো সুন্দর। এরপর বাড়ির মুরুব্বি, পাড়ার মুড়ব্বি সবাইকে সালাম করতাম সালামির আশায়।


দলবেঁধে বাড়ি বাড়ি যেতাম। আত্মীয়, অনাত্মীয় কোনো ভেদাভেদ ছিল না। সবার বাসায় যেতাম। আম্মার হাতের কোরমা এবং লাচ্ছা সেমাইয়ের স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছে।


আমরা সারা বছরে একবারই জামা কাপড় পেতাম। হাতে সালামির টাকা থাকায় মন ভরে কোক, ফানটা খেতাম। যদিও কোক, ফানটা তখন এতো সহজলভ্য ছিল না।


যখন একটু বড় হলাম, চলে যেতাম পার্কে, চিড়িয়াখানায়। আরেকটু বড় হওয়ার পরে শুরু হলো, হলে গিয়ে সিনেমা দেখা। একাধিক ছবি না দেখলে ভালো লাগত না। সবই এখন স্মৃতি। এখন ঈদ মানে
প্রবাসের ঈদ।

এখানে ঈদ অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানোর মতো। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করি ঈদের আনন্দ ফুটিয়ে তুলতে কিন্ত সেটা পুরোপুরি সম্ভব হয় না। খুব মিস করি নিজের জন্মস্থান এবং আত্মীয়স্বজন। শনিবার বা রবিবার ঈদ হলে অনেকটা সুবিধা। কারণ এই দুদিন ছুটি থাকে, আমরা ঈদের আনন্দ অনেকটা উপভোগ করি কিন্তু অন‍্যদিন ঈদ হলে, নামাজের পরেই চলে যাই যার যার কর্মস্থলে। ঈদের পরে যে শনিবার, রবিবার আসে তখন মিলিত হই বন্ধু বা আত্মীয়স্বজনদের সাথে দেখা করতে। অর্থাৎ এখন আমরা বাসী ঈদ উদযাপন করি। 


ঈদের দিন যখন নামাজে যাই, বিভিন্ন দেশের মুসলিম ভাইদের সাথে দেখা হয়। একটু ঈদ মনে হয় কিন্তু বেরিয়ে রাস্তায় আসলেই ঈদের কোনো চিহ্ন থাকে না। নেই শপিংমলে নতুন নতুন জামা কাপড়ের সমাহার। নেই ঈদে বাড়ি যাওয়ার দৃশ‍্য। ফুটপাথে কেনাকাটা, হাঁকডাক আজ সবই খুব মিস করি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow