ছয় সপ্তাহে সব ঠিক হয়ে যায়? প্রসবের পর সুস্থ হতে আসলে কত সময় লাগে

প্রসবের পর ছয় সপ্তাহ পার হলেই সব স্বাভাবিক — এই ধারণাটা আমাদের সমাজে খুব পরিচিত। অনেকেই বলেন, `এতদিনে তো সব ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা।‘ কিন্তু নতুন মায়েরা জানেন, বাস্তবতা অনেক সময়ই আলাদা। শরীর যেমন পুরোপুরি সেরে ওঠে না, তেমনি মনও আগের জায়গায় ফিরতে সময় নেয়। সাম্প্রতিক গবেষণা আর নানা জরিপ বলছে, ছয় সপ্তাহে ক্ষত কিছুটা সেরে আসলেও সন্তান জন্মের পর সুস্থ হয়ে ওঠা আসলে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। গবেষণা কী বলছে চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রসবের তিন থেকে ছয় মাস পরেও অনেক নারী নিজেদের পুরোপুরি সুস্থ মনে করেন না। একটি বড় গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের অর্ধেকেরও কম বলেছেন যে, তারা শারীরিক, মানসিক, যৌন ও দৈনন্দিন কাজের দিক থেকে পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরেছেন। অর্থাৎ, প্রসবের ক্ষত শুকানো আর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা এক বিষয় নয়। শুধু শরীর নয়, মনও বদলে যায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান জন্মের পর নারীর শরীরে হরমোনের বড় পরিবর্তন হয়। এর প্রভাব পড়ে মেজাজ, স্মৃতিশক্তি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আর আবেগ নিয়ন্ত্রণে। এই মানসিক ও স্নায়বিক পরিবর্তনগুলো ঠিক হতে সময় লাগে। প্যারেন্টিং বিষয়ক জরিপগুলোতে অনেক মা বলেছেন, এক থেকে দুই

ছয় সপ্তাহে সব ঠিক হয়ে যায়? প্রসবের পর সুস্থ হতে আসলে কত সময় লাগে

প্রসবের পর ছয় সপ্তাহ পার হলেই সব স্বাভাবিক — এই ধারণাটা আমাদের সমাজে খুব পরিচিত। অনেকেই বলেন, `এতদিনে তো সব ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা।‘ কিন্তু নতুন মায়েরা জানেন, বাস্তবতা অনেক সময়ই আলাদা। শরীর যেমন পুরোপুরি সেরে ওঠে না, তেমনি মনও আগের জায়গায় ফিরতে সময় নেয়।

সাম্প্রতিক গবেষণা আর নানা জরিপ বলছে, ছয় সপ্তাহে ক্ষত কিছুটা সেরে আসলেও সন্তান জন্মের পর সুস্থ হয়ে ওঠা আসলে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।

গবেষণা কী বলছে

চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রসবের তিন থেকে ছয় মাস পরেও অনেক নারী নিজেদের পুরোপুরি সুস্থ মনে করেন না। একটি বড় গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের অর্ধেকেরও কম বলেছেন যে, তারা শারীরিক, মানসিক, যৌন ও দৈনন্দিন কাজের দিক থেকে পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরেছেন। অর্থাৎ, প্রসবের ক্ষত শুকানো আর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা এক বিষয় নয়।

ছয় সপ্তাহে সব ঠিক হয়ে যায়? প্রসবের পর সুস্থ হতে আসলে কত সময় লাগে

শুধু শরীর নয়, মনও বদলে যায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান জন্মের পর নারীর শরীরে হরমোনের বড় পরিবর্তন হয়। এর প্রভাব পড়ে মেজাজ, স্মৃতিশক্তি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আর আবেগ নিয়ন্ত্রণে। এই মানসিক ও স্নায়বিক পরিবর্তনগুলো ঠিক হতে সময় লাগে।

প্যারেন্টিং বিষয়ক জরিপগুলোতে অনেক মা বলেছেন, এক থেকে দুই বছর পরেও তারা আগের মতো মানসিক স্বচ্ছতা বা আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ফিরে পাননি।

নিজেকে খুঁজে পেতেও সময় লাগে

শুধু শরীর বা হরমোন নয়, মাতৃত্ব মানে পরিচয়েরও বড় পরিবর্তন। সারাদিন শিশুর দেখাশোনা, ঘুমের অভাব, কাজের চাপ — সব মিলিয়ে নিজেকে আগের মতো মনে না হওয়াটা খুব সাধারণ অভিজ্ঞতা।

জরিপে দেখা গেছে, অনেক মা মনে করেন সন্তান জন্মের পর নিজের পুরোনো পরিচয় বা জীবনছন্দ পুরোপুরি ফিরে পেতে কয়েক বছর লেগে যায়। বিশেষজ্ঞরা একে বলেন ‘ম্যাট্রেসেন্স’ বা মা হয়ে ওঠার মানসিক রূপান্তর।

এই সময়টায় সবচেয়ে দরকার কী

গবেষক ও চিকিৎসকেরা একমত — এই সময়টায় মায়েদের সবচেয়ে বেশি দরকার বোঝাপড়া আর সহায়তা। পরিবারের সদস্য, জীবনসঙ্গী বা আশপাশের মানুষ যদি বুঝতে পারেন যে এই পরিবর্তন স্বাভাবিক এবং সময়সাপেক্ষ, তাহলে মায়ের মানসিক চাপ অনেকটাই কমে।

ছয় সপ্তাহে সব ঠিক হয়ে যায়? প্রসবের পর সুস্থ হতে আসলে কত সময় লাগে

সহযোগিতা, কাজ ভাগ করে নেওয়া, বারবার ‘তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যাওয়া’র চাপ না দেওয়া — এসবই স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।

প্রসবের পর সুস্থ হয়ে ওঠা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের বাক্সে বন্দি করা যায় না। কারও জন্য ছয় মাস, কারও জন্য এক বছর, আবার কারও জন্য আরও বেশি সময় লাগতে পারে। তবে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছয় সপ্তাহের বেশি। গবেষণা আর বাস্তব অভিজ্ঞতা — দুটোই বলছে, এই সময়টাকে ধৈর্য আর সহানুভূতির সঙ্গে দেখাই সবচেয়ে মানবিক পথ।

নতুন মায়েদের সুস্থতা মানে শুধু শরীর নয় — বরং এটা মন, পরিচয় আর জীবনের নতুন ভারসাম্য।

সূত্র: পাবমেড, প্যারেন্টস ডট কম, মাতৃত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ক্লিনিক্যাল রিভিউ আর্টিকেল

এএমপি/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow