জগন্নাথপুরে পানি সরবরাহ বন্ধ, বিশুদ্ধ পানির সংকটে চরম ভোগান্তি

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জের রোলার ওয়াটার সাপ্লাই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ। পানি সংগ্রহ করতে প্রতিদিনই সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার, শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানীগঞ্জের রোলার ওয়াটার সাপ্লাই বন্ধ থাকলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। বারবার বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহের জন্য অনেকে দূরের নলকূপ কিংবা অন্য এলাকার পানির উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে। সকালে ও সন্ধ্যায় পানি সংগ্রহের জন্য টিউবওয়েলগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অনেকেই বাধ্য হয়ে নদী বা পুকুরের দূষিত পানি সংগ্রহ করছেন। এতে রান্নাবান্না, খাবার পানি সংরক্ষণ, গোসলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার আবার চড়া দামে পানি কিনে ব্যবহার করছে, যা তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক

জগন্নাথপুরে পানি সরবরাহ বন্ধ, বিশুদ্ধ পানির সংকটে চরম ভোগান্তি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জের রোলার ওয়াটার সাপ্লাই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ। পানি সংগ্রহ করতে প্রতিদিনই সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার, শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানীগঞ্জের রোলার ওয়াটার সাপ্লাই বন্ধ থাকলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। বারবার বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহের জন্য অনেকে দূরের নলকূপ কিংবা অন্য এলাকার পানির উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে। সকালে ও সন্ধ্যায় পানি সংগ্রহের জন্য টিউবওয়েলগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অনেকেই বাধ্য হয়ে নদী বা পুকুরের দূষিত পানি সংগ্রহ করছেন। এতে রান্নাবান্না, খাবার পানি সংরক্ষণ, গোসলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার আবার চড়া দামে পানি কিনে ব্যবহার করছে, যা তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। রানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মোতাহীর আলী, আকরাম হোসেন, শাহেদ তালুকদারসহ আরো অনেকেই জানান, আমাদের বাজারে একমাত্র রোলার ওয়াটার সাপ্লাই যা প্রায় ৭ দিন ধরে বন্ধ থাকায় বেশি সমস্যায় আছি। বিশুদ্ধ পানির সংকট দীর্ঘায়িত হলে জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। নিরাপদ পানির অভাবে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েডসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।  এলাকাবাসীর দাবি, রোলার ওয়াটার সাপ্লাই কেন বন্ধ রয়েছে এবং কবে নাগাদ পুনরায় চালু হবে, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত সমস্যার কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।  স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতিও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, নিরাপদ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম বলেন, আমাদের ৫শ থেকে ৬শ গ্রাহক রয়েছে। অনেকেই শুরু থেকে পানির বিল দিচ্ছেন না। প্রায় ২শ গ্রাহক নিয়মিত বিল দিলেও বড় একটি অংশ বিল দিচ্ছেন না, বিদ্যুৎ বিলসহ স্টাফদের টাকা বাকি রয়েছে। পাশাপাশি এই পাম্পে রক্ষণাবেক্ষণে প্রচুর টাকা খরচ হয়, যা আমরা দিতে দিতে শেষ। কয়েক বার গ্রাহকদের নিয়ে বসলেও কোনো সমাধান হয়নি। আজ বুধবার আমরা সব গ্রাহকদের দাওয়াত করেছি। আসা করি একটি সমাধান করতে পারবো। জগন্নাথপুর জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এখানে বিদ্যুৎ বিলের সমস্যা। কেউ কেউ পানির বিল না দেওয়ায় বিল জমা হয়ে আছে। তবে আশা করছি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow