চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর- দীর্ঘদিন ধরে এটি দেশের অন্যতম আলোচিত এবং বিতর্কিত একটি জনপদ। নগরীর কাছাকাছি হলেও বহু বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য প্রায় অপ্রবেশযোগ্য এ এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ছিল এক ধরনের ‘স্বতন্ত্র রাজ্য’ হিসেবে। পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি, ভূমি দখল, প্লট বাণিজ্য এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আধিপত্য- জঙ্গল সলিমপুর হয়ে উঠেছিল একটি নিয়ন্ত্রণহীন জনপদ।
সেই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র্যাবের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। ঘটনার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো অধরা রয়েছেন এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মোহাম্মদ ইয়াসিনসহ মূল আসামিরা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে- রাষ্ট্রের এক কর্মকর্তাকে হত্যার পরও কীভাবে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে সন্ত্রাসী নেতা।
র্যাব সূত্র জানায়, ১৯ জানুয়ারি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৭ এর একটি দল জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে যায়। মূল লক্ষ্য ছিল সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা এবং অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান করা। তবে অভিযানের সময় হঠাৎ করেই সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। রামদা, কিরিচ, লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয় র্যাব সদস্যদের ওপর। এতে গুরুতর আহত হন র্যাবের উপসহকারী পরিচালক ডিএডি মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শহীদ হন। হামলায় আরও তিন র্যাব সদস্য আহত হন এবং কয়েকজন সদস্যকে সাময়িকভাবে অপহরণও করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে।
র্যাব কর্মকর্তার ওপর এ নির্মম হামলা নাড়া দেয় পুরো দেশকে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে এভাবে হত্যা করার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন- এমন কী ধরনের এলাকা, যেখানে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নিরাপদ নয়।
এ ঘটনার পর ২২ জানুয়ারি সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ইয়াসিনের নির্দেশেই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং আটক করা এক আসামিকে ছিনিয়ে নেয়।
মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ ইয়াসিন দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাটিতে তার নিয়ন্ত্রণকে স্থানীয়রা প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য হিসেবে উল্লেখ করে।
অপরদিকে আরেকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেয় রোকন উদ্দিন, যাকে স্থানীয়ভাবে রোকন মেম্বার নামে ডাকা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ দুই গোষ্ঠীর আধিপত্যে পরিচালিত হয়েছে জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ি জনপদ। পাহাড় কেটে প্লট তৈরি, ভূমি দখল এবং অবৈধ বসতি স্থাপনের মাধ্যমে সেখানে গড়ে ওঠে একটি বিশাল অর্থনৈতিক চক্র। এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে গড়ে তোলা হয় সশস্ত্র পাহারার ব্যবস্থা।
জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থানও সন্ত্রাসীদের জন্য সুবিধাজনক। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড়ি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এ জনপদ বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে হলেও এর ভৌগোলিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্গম। পূর্বদিকে হাটহাজারী এবং দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থাকলেও পাহাড়ি পথ ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত। বর্তমানে এখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাড়িতে অন্তত দেড় লাখ মানুষের বসবাস। এদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে এখানে বসতি গড়েছেন। স্থানীয়দের একটি বড় অংশ ছিন্নমূল মানুষ, যারা জীবিকার তাগিদে এখানে বসবাস শুরু করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল এবং তারা নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে নিয়েছিল। এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় পাহারা দিত এবং বাইরের কেউ প্রবেশ করলে হামলার ঘটনাও ঘটত। অতীতে বেশ কয়েকবার সরকারি বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি র্যাবের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। একই বছরের ২ আগস্ট অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বাধা দেওয়া হয়। আবার ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আলীনগরে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করতে গেলে প্রশাসনের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এলাকার আরেকটি বড় অভিযোগ হলো- পাহাড় কেটে অবৈধভাবে প্লট তৈরি ও বিক্রি করা। পাহাড় ধ্বংস করে তৈরি করা এসব প্লট ঘিরে গড়ে ওঠে বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ। এ স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিজেদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এসব গোষ্ঠীর কাছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা অপরাধী চক্রের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ রয়েছে।
এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে নিতে কঠোর অবস্থান নেয় যৌথ বাহিনী। সম্প্রতি পরিচালিত এক বৃহৎ অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, জঙ্গল সলিমপুরে সাম্প্রতিক অভিযান ছিল বৃহৎ একটি পরিকল্পনার অংশ। তাদের ভাষায় এটি ছিল অভিযানের ‘ফেজ-১’ বা প্রবেশ পর্ব। বর্তমানে চলছে ‘ফেজ-২’, যার মাধ্যমে এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
অভিযান শেষে এলাকায় দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে জেলা পুলিশ ও এপিবিএনের ১৩০ জন সদস্য এবং আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে আরআরএফ, এপিবিএন ও র্যাব-৭ এর ২৩০ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ লিখিত বক্তব্যে জানান, অভিযানে সেনাবাহিনীর ৫০০ সদস্য, জেলা পুলিশের ১৫০ সদস্য, মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮০০ সদস্য, রেঞ্জ রিজার্ভ থেকে ৪০০ সদস্য, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ১৫০ সদস্য এবং র্যাবের ৪০০ সদস্যসহ মোট ৩ হাজার ১৮৩ সদস্য অংশ নেয়। অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
চিরুনি অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র- একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল এবং একটি এলজি। এছাড়া ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল এবং পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও ১৯টি সিসি ক্যামেরা, একটি থ্রি ডি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, যৌথ অভিযান চালিয়ে দেশি-বিদেশি তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭টি পাইপগান এবং ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মিয়ানমারে ব্যবহৃত হয় এমন গুলির পাশাপাশি ৭.৬২ মিলিমিটার গুলিও পাওয়া গেছে। এত অস্ত্র ও গুলি কোথা থেকে এসেছে এবং কারা তা ব্যবহার করছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, কিছু সুবিধাভোগী ভূমিদস্যু দীর্ঘদিন ধরে সলিমপুরের সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা করে এসেছে। এলাকাটিতে প্রায় লাখো মানুষের বসবাস রয়েছে এবং তাদের পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এখন থেকে ওই এলাকায় আর কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম সহ্য করা হবে না।
তিনি দাবি করেন, প্রায় ২০ বছর পর জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে যেতে ভয় পেতেন। মানুষের ভয় কাটানো এবং সন্ত্রাসী আধিপত্য ভাঙার লক্ষ্যেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের পর অনেক সন্ত্রাসী ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে এবং সেখানে নিয়মিত টহল দেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নব্বইয়ের দশকে সন্ত্রাসী আলী আক্কাস জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পাহাড় কেটে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেন। দখল ধরে রাখতে তিনি একটি নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলেন। এলাকাটি দুর্গম পাহাড়ি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে সহজে যেতে পারত না। এ সুযোগে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পাহাড়ি খাসজমি বিক্রি শুরু করে আক্কাসের বাহিনী।
পরে প্লট বিক্রির টাকা এবং পাহাড় দখল নিয়ে তার বাহিনীর ভেতরে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। একসময় র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন আলী আক্কাস। এরপর তার সহযোগী কাজী মশিউর রহমান, ইয়াসিন মিয়া, গফুর মেম্বার এবং গাজী সাদেক আলাদা আলাদা সশস্ত্র দল গঠন করেন এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ইয়াসিন মিয়া সীতাকুণ্ডের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা এস এম আল মামুনের আশ্রয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ইয়াসিন আলীনগর বহুমুখী সমিতির নেতৃত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ নামে আরেকটি সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন কাজী মশিউর রহমান ও গাজী সাদেক।
যারা জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্লট কিনেছেন, তারা মূলত এ দুই সমিতির সদস্য। বর্তমানে এ দুই সমিতিতে প্রায় ৩০ হাজার সদস্য রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন জানিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুর ও আলিপুর এলাকায় কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এলাকায় একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য পুলিশ নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার পরিবার এখনো বিচার প্রত্যাশা করছে। ঘটনার দিন র্যাব-৭ সদর দপ্তরে বাবার মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে তার দুই কন্যা ও ছেলে সাকিব সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের বাবা প্রাণ দিয়েছেন। তাদের ভাষায়, ‘আমাদের বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা চাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।’
ঘটনার প্রধান আসামি মোহাম্মদ ইয়াসিন ও রোকন উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তারা এ ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। ইয়াসিনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি অভিযানের সমালোচনা করে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।
জঙ্গল সলিমপুর এখনো একটি স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসী আধিপত্য ভেঙে সেখানে রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আর নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার পরিবারের একটাই দাবি- এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।