জামায়াতের ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের অধিকার আদায়ে এক চুলও ছাড় নয়, সংসদের ভেতরে ও বাইরে প্রতিবাদ জারি রাখা হবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী সহিংসতায় আহতদের দেখতে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলে তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা জানেন, গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশে দুটি উপনির্বাচন ছিল। একটি শেরপুর ও আরেকটি বগুড়ায়। দুটি জায়গায় আমার আশা করেছিলাম, বিগত নির্বাচন যেভাবেই হোক এখন একটি সরকার হয়ে গেছে। আমরা কেউ বসেছি সরকারি দলে, কেউ বসেছি বিরোধী দলে। এখন সুন্দরভাবে দেশটা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। কিন্তু এ দুটি নির্বাচনেও ব্যাপক অনিয়ম, বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি, সহিংসতা এবং ক্ষেত্র বিশেষে ভয়াবহ সন্ত্রাসে রূপ নিয়েছে। এ রকম একটি বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে শেরপুর-৩ আসনে।
তিনি আরও বলেন, আপনার জানেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সহিংসতায় আমাদের উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে খুন করা হয়। তার সঙ্গে আরও তিনজন আহত ছিলেন। তারা এখনও চিকিৎসা নিচ্ছে, আশঙ্কামুক্ত হননি। সেখানে আমাদের যিনি প্রার্থী ছিলেন তিনি ভোটের আগেই মারা যান। যার কারণে ভোট স্থগিত হয়ে গেল। এ স্থগিত নির্বাচনই ছিল বৃহস্পতিবার। এ নির্বাচনেও একজন বয়স্ক মানুষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলের নেতা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতেও সন্ত্রাস, হানাহানি ও বিশৃঙ্খলা ছিল। কিন্তু জুলাইয়ে এতো রক্ত আমরা দিলাম, তার পরে আর রক্ত কেন দিতে হবে রাজনীতির জন্য। আমরা তো আশা করেছিলাম, রক্ত দেওয়াটা ওখানেই শেষ হবে। রাজনীতির ময়দানে সুস্থতা ফিরে আসবে। রাজনীতি হবে ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে। আমার আদর্শ আমার কাছে আরেকজনের আদর্শ তার কাছে। আমি যেমন আমার আদর্শকে ভালোবাসি, আরেকটা লোক তার আদর্শকে ভালোবাসার অধিকার আছে। এটা তার নাগরিক অধিকার। এখানে মুখ চলবে, হাত বলবে কেন? মুখ চলবে ভদ্রভাবে, অভদ্রভাবে নয়।
তিনি বলেন, যারা পার্লামেন্টে (সংসদে) যাবেন, তারা যদি মানুষ খুন করে সেখানে যান, তারা দেশবাসীর জন্য কী করবেন বলেন তো দেখি। মানুষের জীবন নিয়ে আমার পার্লামেন্টে যেতে হবে কেন? আমি তো যাব মানুষের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের পাহারাদার হয়ে। সেই আমি লোকটার হাতে যদি আগেই জীবন চলে যায়, ইজ্জত চলে যায়, সম্পদও ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে আমি তো আসলেই এ ধরনের প্রতিনিধিত্বের যোগ্যতা রাখি না, আমি অযোগ্য। এ জন্য আমরা আহ্বান জানাব, নির্বাচন শেষ হয়নি, আরও বহু নির্বাচন রয়েছে। গণতান্ত্রিক একটি দেশে তার কাঠামো নির্বাচনের উপর নির্ভরশীল। সেই নির্বাচনে যেন আর কোনো সহিংসতা না হয়, আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, কোনো বোন যেন বিধবা না হয়, কোনো সন্তান যেন এতিম না হয়। আমরা চাইব আদর্শের লড়াই হোক। হাতের লড়াই নয়, অস্ত্রের লড়াই নয়। আল্লাহ তায়ালা এমন একটি দেশ গড়ো তোলার তৌফিক দান করুক।
জামায়াতের আমির বলেন, সংসদে ওয়াকআউট করেছি আপনারা দেখেছেন। এগুলো আমাদের দলীয় কোনো বিষয়? এটা জনগণের জীবনের সঙ্গে, জনগণের জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই যে পুলিশের সদস্যরা আছেন, তারাও সুবিচার পান না। সেগুলো নিয়েও কথা বলতে চেয়েছিলাম। আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। আমরা এ কথা থামাবো না। সংসদের ভেতরেও বলব, বাইরেও বলব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার তার দায়িত্ব পালনে এবং জনগণকে দেওয়া তাদের যে ওয়াদা ছিল, সেটা তারা লঙ্ঘন ও অন্যায় করেছে, জনগণের ওপর জুলুম করেছে এবং অপমান করেছে। আমরা সেই অপমানের প্রতিশোধ আল্লাহ চাইলে মারামারি করে নেব না, জনগণের অধিকার কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করে নেব, ইনশাআল্লাহ।
এ সময় ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য মু. কামরুল হাসান মিলন, জেলা জামায়াতে আমির আবদুল করিম, মহানগর জামায়াতে আমির কামরুল এহসানসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।