জন্মনিবন্ধন বদলে ভাইয়ের সন্তান নিজের দাবি
নিঃসন্তান বড় ভাইকে ১২ বছরের জন্য নিজের সন্তান তুলে দিয়েছিলেন এক দম্পতি। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও সন্তান ফেরত পাচ্ছেন না তারা। বরং জন্মনিবন্ধন বদলে শিশুটিকে নিজের সন্তান দাবি করার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী গনিউল জাদিদ এলজিইডিতে বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রকল্পে পরার্মশক হিসেবে কর্মরত আছেন। এবং এ ঘটনায় অভিযুক্ত তার বড় ভাই আসাদুজ্জামান দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান। অবসরগ্রহণের পর তিনি রংপুর নগরীতে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একেএম গনিউল জাদিদের বাবা ওসমান গনির দুই সংসার। বড় সংসারে চার ভাই ও তিন বোন থাকলেও তিন ছেলের কারও সন্তান নেই। ছোট সংসারের বড় ছেলে জাদিদের ঘরে তখন দুই সন্তান ছিল। বাবা ওসমান গনি জাদিদের ছোট ছেলে আওসাফকে ১২ বছর লালন পালন করার শর্তে নিঃসন্তান একেএম আসাদুজ্জামানের হাতে দেন। এরপর সব কিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ১২ বছর পর যখন জাদিদ তার ছেলেকে বড় ভাই আসাদুজ্জামানের কাছে থেকে নিজের কাছে আনতে যান। তখন আসাদুজ্জামান সেই সন্তানকে নিজের দাবি করে দিতে অস্বীকৃতি জানান। জা
নিঃসন্তান বড় ভাইকে ১২ বছরের জন্য নিজের সন্তান তুলে দিয়েছিলেন এক দম্পতি। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও সন্তান ফেরত পাচ্ছেন না তারা। বরং জন্মনিবন্ধন বদলে শিশুটিকে নিজের সন্তান দাবি করার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী গনিউল জাদিদ এলজিইডিতে বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রকল্পে পরার্মশক হিসেবে কর্মরত আছেন। এবং এ ঘটনায় অভিযুক্ত তার বড় ভাই আসাদুজ্জামান দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান। অবসরগ্রহণের পর তিনি রংপুর নগরীতে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একেএম গনিউল জাদিদের বাবা ওসমান গনির দুই সংসার। বড় সংসারে চার ভাই ও তিন বোন থাকলেও তিন ছেলের কারও সন্তান নেই। ছোট সংসারের বড় ছেলে জাদিদের ঘরে তখন দুই সন্তান ছিল। বাবা ওসমান গনি জাদিদের ছোট ছেলে আওসাফকে ১২ বছর লালন পালন করার শর্তে নিঃসন্তান একেএম আসাদুজ্জামানের হাতে দেন। এরপর সব কিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ১২ বছর পর যখন জাদিদ তার ছেলেকে বড় ভাই আসাদুজ্জামানের কাছে থেকে নিজের কাছে আনতে যান। তখন আসাদুজ্জামান সেই সন্তানকে নিজের দাবি করে দিতে অস্বীকৃতি জানান।
জাদিদের অভিযোগ, ২০১০ সালে তার ছোট ছেলে আওসাফ আব্দুল্লাহ জন্ম নেওয়ার পর বাবা ওসমান গনি নিঃসন্তান বড় ছেলে ডা. এ কে এম আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের অনুরোধে শিশুটিকে তাদের কাছে লালনপালনের প্রস্তাব দেন।
প্রথমে রাজি না হলেও বাবা, ভাই ও ভাবীর অনুরোধে তিনি রাজি হন। শর্ত ছিল—১২ বছর পর সন্তানকে ফেরত দেওয়া হবে। এ সময় আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রী শাম্মী আক্তার সন্তান লালনপালনের ‘সওয়াব’ পাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ১২ বছর পর সন্তান ফেরত দেওয়ার শর্তে রাজি হন।
জাদিদ বলেন, দীর্ঘদিন সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু ২০২২ সালে আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রী শিশুটির জন্মনিবন্ধন নিজেদের নামে তৈরি করেন এবং তাকে নিজের সন্তান বলে দাবি করতে শুরু করেন। জাদিদ তার সন্তানকে দেখতে ও ফেরত আনতে গেলে তারা টালবাহানা শুরু করেন।
জাদিদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে ভাই ও ভাবি হজে যাওয়ার আগে আওসাফকে তার কাছে হস্তান্তর করে যান। পরে তিনি ও তার স্ত্রী শিশুটিকে নিয়ে ঢাকায় যান এবং ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
তার ছেলে আওসাফ আব্দুল্লাহর রংপুরের স্কুল থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নিয়ে গিয়ে ঝামেলায় পড়েন গানিউল জাদীদ। পরে জন্মনিবন্ধনে দেখেন তান সন্তানের বাবা-মা হিসেবে সৎ বড় ভাই ডা. এ কে এম আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
জাদিদের দাবি, হজ থেকে ফিরে এসে তার ভাই আসাদুজ্জামান রংপুর সিটি করপোরেশনে গিয়ে গানিউল জাদিদ ও তার স্ত্রী ইলা শারমিনের নামে আওসাফ আব্দুল্লাহর আরেকটি জন্ম সনদ তৈরি করেন। পরে ওই বছরের ১৫ জুলাই ঢাকায় জাদিদের বাড়িতে যান। স্কুল থেকে টিসি নিতে আওসাফকে লাগবে জানিয়ে তাকে রংপুরে নিয়ে আসেন আসাদুজ্জামান। টিসি নেওয়া হলে আওসাফকে হস্তান্তর করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসেন। কিন্ত রংপুর আসার পর জাদিদকে ফোন দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাচ্চাকে দিব না, পারলে কি করিস কর।’ এরপর থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এরপর সন্তানকে দেখতে ওই বছরের ১২ অক্টোবর ঢাকা থেকে রংপুরে যান জাদিদ। তার অভিযোগ, আসাদুজ্জামান ও তার লোকজন জাদিদকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। পরে জাদিদ তার ভাই আসাদুজ্জামানের কাছে একটি উকিল নোটিশ পাঠান।
নোটিশ পাওয়ার পর বাচ্চা বুঝে নিতে জাদিদ ও তার পরিবারকে রংপুরে ডাকেন আসাদুজ্জামান। ওই বছরের ২৫ অক্টোবর জাদিদ, তার স্ত্রী ও বড় সন্তান আসেন। এ সময় দিনভর মব তৈরি করা হয় তাদের ওপর এবং রাতে আসাদুজ্জামান পুলিশকে ডাকেন। পুলিশ জাদিদের কাছে ঘটনা শুনে চলে যায়। এরপর জাদিদ ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন জাদিদ।
এদিনের পর আওসাফকে নিয়ে নতুন বাসায় চলে যান আসাদুজ্জামান দম্পতি। সন্তানের খোঁজখবর না পেয়ে পরে গত বছরের ২৪ নভেম্বর ই-পারিবারিক আদালতে গানিউল জাদিদ বাদী হয়ে তার ভাই ও ভাবির বিরুদ্ধে মামলা করেন।
রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্ম-মৃত্যু সনদ নিবন্ধন বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, ২০২২ সালের ২১ আগস্ট আওসাফের যে জন্ম নিবন্ধন করা হয় তাতে বাবা: একেএম আসাদুজ্জামান ও মা: শাম্মী আক্তার। আবার ২০২৫ সালের ১৪ জুলাইয়ের আরেকটি নিবন্ধন পাওয়া যায় সেখানে আওসাফের বাবা-মা হিসেবে দেখানো হয়েছে একেএম গানিউল জাদিদ ও ইলা শারমিনের নাম। এ জন্ম সনদ নিবন্ধনে আসাদুজ্জামানের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি জন্মসনদে বাবা ও মায়ের আলাদা নাম থাকলেও একই জন্ম তারিখ দেওয়া হয়েছে।
জন্ম ও মৃত্যু সনদ নিবন্ধন বিভাগের প্রধান নুর আলম সিদ্দিকী কালবেলাকে বলেন, একই নাম ও জন্ম তারিখ থাকলেও যদি মা ও বাবার নাম ভিন্ন হয়, তখন সনদ আলাদা হিসেবে গণ্য হবে। তবে কোনো পক্ষ উপস্থিত হয়ে সনদ বাতিলের আবেদন করলে তা প্রক্রিয়া করা হবে।
জাদিদের স্ত্রী ইলা শারমিন আক্ষেপ করে বলেন, আমার সন্তান এখন কোথায় আছে, কেমন আছে কিছুই জানি না। শ্বশুরের অনুরোধে আমার কোল খালি করে তাদেরকে সন্তান দিয়েছিলাম। এখন তারা আমার সন্তানকে দেখতে দিচ্ছে না, কথা বলতে দিচ্ছে না। আমার সন্তানকে তারা ছিনিয়ে নিতে চায়। আমি আমার সন্তানকে ফেরত চাই।
অভিযুক্ত একেএম আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলতে নগরীর ধাপ এলাকায় আস্থা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের চেম্বারে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে প্রশ্ন শুনে তিনি কল কেটে দেন। পরে একাধিকার কল দিলেও সেটি রিসিভ হয়নি।
What's Your Reaction?