জাতীয় কবিতা পরিষদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন জাতীয় কবিতা পরিষদের নেতারা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। তারই জবাবে বিবৃতি দিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মোহন রায়হান ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউদ্দিন স্টালিন। ২০ জানুয়ারি সকালে সংগঠনের সভাপতির ফেসবুক আইডিতে একটি বিবৃতি পোস্ট করা হয়। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য বিবৃতিটি তুলে ধরা হলো: ‌‘জাতীয় কবিতা পরিষদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাবে বিবৃতি–বিগত এক থেকে দেড় বছর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে গত ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় কবিতা পরিষদের সরাসরি মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে জাতীয় কবিতা পরিষদের বিরুদ্ধে কুৎসা, ঘৃণা, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে চলেছে। এই অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী অপশক্তি, পতিত স্বৈরাচারের দোসর এবং কিছু বিপদগামী সাহিত্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি—যারা দীর্ঘদিন ধরেই সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রা ও গণতান্ত্রিক চর্চার বিরোধী। আমরা স্পষ্টভাবে

জাতীয় কবিতা পরিষদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন জাতীয় কবিতা পরিষদের নেতারা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। তারই জবাবে বিবৃতি দিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মোহন রায়হান ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউদ্দিন স্টালিন। ২০ জানুয়ারি সকালে সংগঠনের সভাপতির ফেসবুক আইডিতে একটি বিবৃতি পোস্ট করা হয়। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য বিবৃতিটি তুলে ধরা হলো:

‌‘জাতীয় কবিতা পরিষদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাবে বিবৃতি–
বিগত এক থেকে দেড় বছর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে গত ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় কবিতা পরিষদের সরাসরি মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে জাতীয় কবিতা পরিষদের বিরুদ্ধে কুৎসা, ঘৃণা, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে চলেছে।

এই অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী অপশক্তি, পতিত স্বৈরাচারের দোসর এবং কিছু বিপদগামী সাহিত্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি—যারা দীর্ঘদিন ধরেই সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রা ও গণতান্ত্রিক চর্চার বিরোধী। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এটি কোনো একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে আক্রমণ নয়; বরং এটি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক বাংলা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত প্রতিক্রিয়াশীল আগ্রাসন।

জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হানসহ সংগঠনের বহু নেতা-কর্মী বিগত দেড় দশক ধরে ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলন, মিছিল-মিটিং এবং নির্ভীক লেখালেখির মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। এই সময়কালে তারা সাহসী ও প্রতিবাদী কবিতা, প্রবন্ধ ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় থেকেছে, লেখনী ও সংস্কৃতির মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং রাষ্ট্র ও সংস্কৃতি পুনর্গঠনের প্রশ্নে একটি দায়িত্বশীল ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।

এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই ২০২৪-এর আগস্ট মাসে রিপোটার্স ইউনিটিতে ‘স্বৈরাচারমুক্ত জাতীয় কবিতা পরিষদ’ শিরোনামে সংবাদ সম্মেলনের পর জাতীয় কবিতা পরিষদ নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল–বাসদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেছে। বিএনপির সঙ্গে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময়ে তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা 
সোশ্যাল মিডিয়া যেন শোকবই 

এইসব মতবিনিময়ের মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সংস্কৃতিবান বাংলাদেশ বিনির্মাণ। জাতীয় কবিতা পরিষদ নিয়মিত কবিতাপাঠ, আলোচনা সভা, প্রশিক্ষণ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা আয়োজনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি শোষণ, নিপীড়ন, ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত সৃজনশীল মানবিক জাতি গঠনের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা এই লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও ধারাবাহিকতারই অংশ।

এটি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, উক্ত মতবিনিময় সভাটি ছিল কেবলমাত্র ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’ ও বিএনপি তথা তারেক রহমানের মধ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক মতবিনিময়। এটি কোনো ব্যক্তি পর্যায়ের কবি, লেখক বা সাহিত্যিকের সঙ্গে মতবিনিময় নয়। যে কোনো ব্যক্তি গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান সেটা করতেই পারে।

সভায় কবিতা ভবন ও কবিতা একাডেমি প্রতিষ্ঠা, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রসহ লেখার স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, শিল্পী–সাহিত্যিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং সংস্কৃতিবিরোধী উগ্র শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ উত্থাপিত হয়েছে।

যারা আজ এই ইতিবাচক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা ব্যক্তিস্বার্থ, সুবিধাবাদ ও আত্মম্ভরিতা ছাড়া এ দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণাও রাখে না। অতীতেও তারা ফ্যাসিবাদমুক্ত জাতীয় কবিতা পরিষদের পুনর্গঠন ও সংগ্রামী ভূমিকার বিরোধিতা করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে—এটাই তাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চরিত্র।

জাতীয় কবিতা পরিষদ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে—এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার অবিলম্বে বন্ধ না হলে সংশ্লিষ্ট অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা বাধ্য হবো। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—কবিতা কেবল শব্দ নয়; কবিতা এই অশুভ অন্ধকার শক্তির বিরুদ্ধে আলোর সর্বোচ্চ প্রতিরোধ।

মোহন রায়হান, সভাপতি এবং রেজাউদ্দিন স্টালিন, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ।’

>> পোস্টটি পড়ুন এখানে

 

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow