জাতীয় প্রেস ক্লাবে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ

জমজমাট অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করা হয়েছে। বরেণ্য শিল্পীদের বাউল গান, ভাওয়াইয়া ও দেশি গানে বর্ষবরণ উৎসব সবাইকে মুগ্ধ করে।  মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রেস ক্লাব সদস্যদের ছেলেমেয়েদের পরিবেশনায় ‘এসো হে বৈশাখ এসো’ গান দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সকাল ৮টায় প্রেস ক্লাব সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য খই, মুড়ি-মুড়কি, পায়েস, বাতাসা, খিচুড়ি ও পান্তা ইলিশে সকালের খাবার আয়োজন করা হয়। মধ্যাহ্নভোজের দেশীয় বিশেষ খাবারে সদস্যরা সপরিবারে অংশগ্রহণ করেন।  অনুষ্ঠানে বাউল সংগীত পরিবেশন করেন পুতুল বাউল, উপমা বাউল, উল্কা হোসেন, ইমু বাউল, শামিম বাউল। এ ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী সোহানুর রহমান, আবিদা রহমান সেতু ও মোহনা দাস গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুতুলনাচ পরিবেশিত হয়।   প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সংস্কৃতির বহুত্ববাদ না বুঝে নববর্ষের গায়ে কেউ কেউ নানা মতের মুখোশ পরাতে চায়। বাংলা নববর্ষের ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তথ‍্যমন্ত্রী বলেন, ‘মোগলরা যখন এই সন

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ
জমজমাট অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করা হয়েছে। বরেণ্য শিল্পীদের বাউল গান, ভাওয়াইয়া ও দেশি গানে বর্ষবরণ উৎসব সবাইকে মুগ্ধ করে।  মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রেস ক্লাব সদস্যদের ছেলেমেয়েদের পরিবেশনায় ‘এসো হে বৈশাখ এসো’ গান দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সকাল ৮টায় প্রেস ক্লাব সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য খই, মুড়ি-মুড়কি, পায়েস, বাতাসা, খিচুড়ি ও পান্তা ইলিশে সকালের খাবার আয়োজন করা হয়। মধ্যাহ্নভোজের দেশীয় বিশেষ খাবারে সদস্যরা সপরিবারে অংশগ্রহণ করেন।  অনুষ্ঠানে বাউল সংগীত পরিবেশন করেন পুতুল বাউল, উপমা বাউল, উল্কা হোসেন, ইমু বাউল, শামিম বাউল। এ ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী সোহানুর রহমান, আবিদা রহমান সেতু ও মোহনা দাস গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুতুলনাচ পরিবেশিত হয়।   প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সংস্কৃতির বহুত্ববাদ না বুঝে নববর্ষের গায়ে কেউ কেউ নানা মতের মুখোশ পরাতে চায়। বাংলা নববর্ষের ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তথ‍্যমন্ত্রী বলেন, ‘মোগলরা যখন এই সনের প্রবর্তন করেন, তখন তারা হিজরি সাল থেকে সংখ্যা গ্রহণ করেছেন এবং এর সারবস্তু হিসেবে কৃষকের ফসল ও হালখাতার সংস্কৃতিকে গ্রহণ করেছেন। ফলে এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে আমাদের বাংলাদেশি সংস্কৃতি।’ জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘বাংলা নববর্ষ উদযাপনের মধ্যেই সব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক ঐক্যের মিলন ঘটে। এই উৎসব আমাদের সম্মিলিত ঐক্যের এক অনন্য রূপ।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশকে যেমন নিজের পায়ে দাঁড় করাতে হবে, তেমনি নিজেদের চিন্তা ও সংস্কৃতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাব এই ধরনের সাংস্কৃতিক চর্চার যে ধারাবাহিকতা রাখছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’ সকাল ৯টায় ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশেষ অনুষ্ঠান ও আপ্যায়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক কাদের গণি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বক্তব্য রাখেন। ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির আহ্বায়ক কাজী রওনাক হোসেন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রানা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ বেগম পলি, মোহাম্মদ মোমিন হোসেন, মাসুমুর রহমান খলিলী, একেএম মহসীন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমসহ অনেকে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক ও সাংবাদিক পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।    

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow