জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ : বিএনএন এশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা বিএনএন এশিয়া বলেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের জন্য পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এশিয়াজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থাটি তাদের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিএনএন এশিয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন হুমকি, নির্যাতনের ঘটনা নথিবদ্ধ করা, ঝুঁকিতে থাকা সাংবাদিকদের জরুরি সহায়তা দেওয়া এবং সাংবাদিকদের মধ্যে সহযোগিতার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ করে থাকে। প্রতিবেদনটিতে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, সিরিয়া, শ্রীলঙ্কা, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া, নেপাল, জাপান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, চীন, উত্তর কোরিয়া ও কম্বোডিয়াসহ ২০টি এশীয় দেশের সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদমাধ্যম

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ : বিএনএন এশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা বিএনএন এশিয়া বলেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের জন্য পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ।

এশিয়াজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থাটি তাদের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

বিএনএন এশিয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন হুমকি, নির্যাতনের ঘটনা নথিবদ্ধ করা, ঝুঁকিতে থাকা সাংবাদিকদের জরুরি সহায়তা দেওয়া এবং সাংবাদিকদের মধ্যে সহযোগিতার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ করে থাকে।

প্রতিবেদনটিতে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, সিরিয়া, শ্রীলঙ্কা, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া, নেপাল, জাপান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, চীন, উত্তর কোরিয়া ও কম্বোডিয়াসহ ২০টি এশীয় দেশের সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ সময় সাংবাদিকরা শারীরিক হামলা, আইনি হয়রানি এবং বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে পড়েন।

প্রতিবেদনে ২৭ জানুয়ারি নরসিংদীর একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়। সেদিন ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) একটি অনুষ্ঠান চলাকালে সংঘর্ষের সময় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনা সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে আসে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ হামলাকে ‘মব ভায়োলেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করে এবং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে।

এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনী সংবাদ কভারেজকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধমূলক সহিংসতার খবরও পাওয়া যায়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা মব হামলা ও ডিজিটাল হয়রানির শিকার হন, যার কিছু ঘটনা রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনেক সাংবাদিক এখনো বিভিন্ন মামলায় আটক রয়েছেন, যেগুলোকে সংবাদমাধ্যমগুলো ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ অভিযোগ বলে বর্ণনা করেছে। এসব মামলার মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্টের ঘটনাকে ঘিরে দায়ের করা হত্যা মামলাও রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সম্পাদক পরিষদ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে এসব মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। 
সম্পাদক পরিষদের মতে, এসব মামলা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ৩০ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিন ধরে আটক থাকতে হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, এ পরিস্থিতি সংবাদমাধ্যমের জন্য ‘ভীতিকর বার্তা’ পাঠাচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৮ মাসে ১৮৯ জন সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন এবং ২৯টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন এসেছে। আর্থিক অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক চাপকে এসব ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে এ প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের মালিকানা ও অংশীদারিত্বে পরিবর্তনের ফলে ‘অদৃশ্য’ বা অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতাকেন্দ্রের প্রভাব বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ARTICLE-19 অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত জাতীয় মিডিয়া কমিশন ও ব্রডকাস্টিং কমিশন সংক্রান্ত খসড়া অধ্যাদেশের সমালোচনা করেছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে প্রকাশিত এ খসড়াগুলোর ওপর মতামত দেওয়ার জন্য মাত্র তিন দিনের সময় দেওয়া হয়, যা অনেক পর্যবেক্ষকের মতে তড়িঘড়ি ও ত্রুটিপূর্ণ।

সমালোচকরা আরও বলেন, প্রস্তাবিত আইনে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিএনএন এশিয়া জানিয়েছে, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল নাজুক অবস্থায়। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচনের পর গঠিত সরকার সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বাস্তবে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকরা এখনো বিভিন্ন হুমকি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভয়ের পরিবেশের মুখোমুখি হচ্ছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow